জিম্বাবুয়ের বিরল এক জয়

জিম্বাবুয়ে গতকাল শনিবার নিজেদের মাঠ হারারেতে পাকিস্তানকে ২৪ রানে হারিয়ে বিরল এক জয় পেয়েছে। এ জয়ে দুই টেস্টের সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে শেষ করতে সক্ষম হলো স্বাগতিকরা। অপরদিকে আইসিসির টেস্ট র্যাংকিংয়ে চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ স্থানে গড়িয়ে গেল পাকিস্তান। জিম্বাবুয়ে নয় নম্বরেই আছে, বাংলাদেশের চাইতে র্যাংকিংয়ে ২৪ পয়েন্ট বেশি নিয়ে। জয়ের আনন্দে সঙ্গত কারণেই উল্লসিত জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেইলর। তিনি খেলা শেষে টেলিভিশন সাক্ষাত্কারে বলেন,‘অবশেষে বিশ্বমানের একটা দলকে হারাতে পারাটা দারুণ অনুভূতি। বিশেষ করে আমাদের বোলারদের জন্য। ছয় মাস ধরে আমাদের কোন বোলিং কোচ নেই। সেজন্য সবচেয়ে বেশি কৃতিত্ব দিতে হবে তাদের। সবাই অবদান রেখেছে। তারপরও আরো উন্নতির সুযোগ আছে। পাকিস্তান অধিনায়ক মিসবাহ উল হক স্বাগতিকদের প্রশংসায় কৃপণতা করেননি। তিনি বলেন,‘জিম্বাবুয়ে যোগ্যতার নিরিখেই এ জয় পেয়েছে। তারা প্রথম টেস্টে এবং এ দফারটিতে দুর্দান্ত খেলেছে। শুরু থেকেই তাদের মনোভাব ছিল ইতিবাচক। পুরো খেলাতেই তারা আমাদের চাপে রেখেছিল। আমাদের জন্য ইতিবাচকতা হলো বোলাররা। তবে ব্যাটিং নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়ে গেছে। ব্যাটসম্যানদের ভুল থেকে শিখতে হবে। ২০ কিংবা ৩০ এর ঘরে রান করে টেস্ট ম্যাচ জেতা যাবে না।’ বাংলাদেশ ছাড়া টেস্টের অন্য দলগুলোর বিরুদ্ধে জয়ের নিরিখে এটা হলো ২০০১ সালে ভারতকে হারানোর পর জিম্বাবুয়ের প্রথম কোন জয়। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সাকুল্যে তৃতীয়। ১৯৯২ সালে টেস্ট ক্রিকেট খেলার মর্যাদা লাভের পর আফ্রিকার দলটি এ নিয়ে কেবল ১১বার জিতলো পাঁচদিনের খেলায়। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাদের সর্বশেষ জয়টি অবশ্য অনেক পুরনো, সেই ১৯৯৮ সালে পাওয়া। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চারবার জিতেছে জিম্বাবুয়ে, এর মধ্যে সর্বশেষটি চলতি বছরের এপ্রিলে পাওয়া। সে খেলায় অবশ্য বাংলাদেশ ৩৩৫ রানে হেরেছিল। জয়ের জন্য ২৬৪ রানের লক্ষ্যে সফরকারীরা কাল দিন শুরু করেছিল পুরনো সঞ্চয় ১৫৮/৫ নিয়ে। কিন্তু অধিনায়ক মিসবাহ ছাড়া আর কেউই জিম্বাবুয়ে বোলারদের বিরুদ্ধে ক্রীজে দাঁড়াতে ব্যর্থ হলে লাঞ্চের কিছু পরই ২৩৯ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস। মিসবাহ শেষ পর্যন্ত ৭৯ রানে অপরাজিত থেকে ফিরে আসেন। মিসবাহ উইকেটরক্ষক এদিন শুরুতেই আদনান আকমলকে (২০) হারালে পাকিস্তানের ষষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটে। এরপর আবদুর রেহমান, সাইদ আজমল ও জুনায়েদ খানের সহযোগিতায় দলটি এক পর্যায়ে আট উইকেটে ২৩৮ রান তুলতে সক্ষম হয়। সেসময় পাকিস্তান জয় থেকে ২৬ রান দূরে ছিল। এরকম একটা পরিস্থিতিতে যখন দুদলই জয় পরাজয়ের দোলাচলে সেসময় আঘাত হানেন সিমার টেন্ডাই ছাতারা। তিনি জুনায়েদকে আউট করে নিজের পঞ্চম উইকেট তুলে নিলে পাকিস্তানের হার হয়ে দাঁড়ায় সময়ের ব্যাপার। পেসারটি ৩২ মিনিট ক্রীজে থেকে ১৮ বলের মোকাবেলা করে এক রানের বেশি তুলতে না পারলেও অধিনায়ককে সর্বোতভাবে স্ট্রাইক প্রান্তে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যান। পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসের শেষ ব্যাটসম্যান রাহাত আলি ক্রীজে এসে প্রথম বলে এক রান নিলেও পরের বলেই রান আউট হয়ে যান। মিসবাহর সঙ্গে তার রান নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হলে নিশ্চিত হয়ে যায় জিম্বাবুয়ের জয়। ছাতারা ৬১ রানে পাঁচ উইকেট দখলের সুবাদে পান ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার। ক্রিকইনফো/ডনডটকম