ফলোআপ

গ্রেফতার নেই, কারণ খুঁজছে পুলিশ

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে কলেজ ছাত্র বখতিয়ার মোহাম্মদ লতিফ খুনের ঘটনায় পুলিশ গতকাল শনিবার পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। থানায় ডাকাতি মামলা দায়ের করা হলেও পুলিশ ধারণা করছে, দুর্বৃত্তদের অন্য টার্গেট ছিল। এজন্য পুলিশ কয়েকটি বিষয় মাথায় রেখে তদন্ত শুরু করেছে। যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা মামলাটির তদন্ত গতকাল ডিবিতে (ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ) ন্যস্ত হয়েছে। বাসার গৃহকর্মীর স্বামী রাসেলের কাছ থেকে পুলিশ কোন তথ্য জানতে পারেনি। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে তিনটার দিকে উত্তর যাত্রাবাড়ীর সাজেদা ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন ৯৬ নং বাসার ভেতরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন বখতিয়ার। এ ঘটনায় শুক্রবার রাত ১০টায় বখতিয়ারের বাবা ব্যবসায়ী জাহদি আল লতিফ খোকা বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় ডাকাতি মামলা (অজ্ঞাত আসামি) করেছেন। মামলায় চার ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, হত্যাকারীদের গ্রেফতারে থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দারাও কাজ করছে। গতকাল পর্যন্ত জড়িত থাকার সন্দেহে কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। মামলার তদন্ত থানা থেকে ডিবিতে ন্যস্ত হয়েছে। মামলার তদন্তে সংশ্লিষ্ট একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ডাকাতি মামলা হলেও পুলিশ বেশ কয়েকটি বিষয় মাথায় রেখে তদন্ত শুরু করেছে। নিহত বখতিয়ারের বাবার সঙ্গে কারো ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক বিরোধকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ঘটনার সময় বাসায় ১১০ ভরি স্বর্ণালংকার থাকলেও ডাকাতরা নিয়ে গেছে মাত্র ৪ ভরি স্বর্ণালংকার। বাসার আর কোন মালামাল খোয়া যায়নি। দুর্বৃত্তদের বাসায় প্রবেশের ধরনও পূর্ব পরিকল্পিত বলেই মনে হচ্ছে। ঐ কর্মকর্তা বলেন, হত্যার টার্গেট বখতিয়ারের বাবাই ছিল। বখতিয়ার ঘটনার শিকার। তিনি আরও বলেন, এলাকার বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে এ নিয়ে পুলিশ কথা বলেছে। এরপরও ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত কেউ গ্রেফতার হলেই প্রকৃত তথ্য জানা যাবে। ডিএমপি ডেমরা অঞ্চলের সহকারী পুলিশ কমিশনার মিনহাজুল ইসলাম বলেন, খুনিদের গ্রেফতারে থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি ও সিআইডির একাধিক টিম কাজ করছে। তিনি বলেন, ঐ বাসায় দুই গৃহকর্মী কাজ করে। এদের একজনের স্বামী রাসেল মিয়াকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে গতকাল পর্যন্ত তার কাছ থেকে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি আরও বলেন, রাসেল মাঝে মাঝে ঐ বাসায় এসে স্ত্রীর কাছে থাকতেন। দুর্বৃত্তরা বাসায় প্রবেশের পর প্রথমে রাসেলের রুমে যায়। সেখানে গিয়ে রাসেলকে বেঁধে রাখে। এরপর বখতিয়ারের রুমে ঢোকে। ঘটনার সময় বাসায় ছিল নিহতের বাবা-মা দাদী ছাড়াও দুই গৃহকর্মী ও রাসেল। তবে এই পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাটি ডাকাতি বলেই ধারণা করছেন।