সংসদের বাইরেও হতে পারে আলোচনা
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২৩:১৩
প্রধানমন্ত্রী তনয় সজীব ওয়াজেদ জয় চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে তার মতবিনিময়কে ‘চমক’ বলে উল্লেখ করেছেন। গতকাল শনিবার সকালে নগরীর চট্টগ্রাম ক্লাব মিলনায়তনে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে সুচিন্তা ফাউন্ডেশন। অনুষ্ঠানে শেখ রেহানার ছেলে রেজওয়ান সিদ্দিক ববিও উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের জয় বলেন, আমি আসলে চমকের কথা কিছু বলিনি। আমি বলেছিলাম তিনদিন পর কিছু একটা করে দেখাবো। চট্টগ্রামের তরুণদের সাথে মতবিনিময়ের মাধ্যমে সেই ‘করে দেখানোর’ কাজটা শুরু হল বলে জয় মন্তব্য করেন।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে জয় বলেছিলেন, তিনি একটি ‘চমক’ দেখাবেন। এর জন্য তিনি সবাইকে তিনদিন অপেক্ষা করতে বলেন।
অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শিক্ষার্থীরা সকাল ১০টা থেকে মিলনায়তনে প্রবেশ করতে শুরু করেন। তবে জয় অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছান সাড়ে এগারোটায়। অনুষ্ঠান শেষ হয় দুপুর দুইটার দিকে। প্রায় আড়াই ঘন্টাব্যাপী অনুষ্ঠানে নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী অংশ নেন। তারা সমসাময়িক রাজনীতি, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, তথ্য প্রযুক্তি, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, চট্টগ্রামের উন্নয়ন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ বিভিন্ন ইস্যুতে জয়কে প্রশ্ন করেন। জয় বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেয়া ছাড়াও জলাবদ্ধতা, যানজট, শিক্ষাঙ্গনের সমস্যাসহ চট্টগ্রামের নানা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও পরামর্শ শোনেন।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকরা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টির কারণ জানতে চাইলে জয় বলেন, নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে বিরোধী দল। আমরা সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন করতে চাই। কিন্তু বিরোধী দল একবার আলোচনার কথা বলে। আবার পিছিয়ে যায়। আলোচনার মূল জায়গা হল সংসদ। সংসদে এসে তারা কথা বলতে পারেন। প্রয়োজনে সংসদের বাইরেও আলোচনা হতে পারে বলে জয় উল্লেখ করেন।
নির্বাচনকালীন সরকারের রুপরেখা নির্ধারণ করতে সংবিধান সংশোধন করার প্রয়োজন রয়েছে কিনা জানতে চাইলে জয় এ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগে চট্টগ্রামের তিন সাংগঠনিক জেলার আওয়ামী লীগ নেতারা চট্টগ্রাম ক্লাবে গিয়ে জয়ের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত্ করেন।
মতবিনিময় সভা উপলক্ষে চট্টগ্রাম ক্লাব ও এর আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। অনুষ্ঠানে পাসধারী শিক্ষার্থী ছাড়া আর কারো প্রবেশাধিকার ছিল না। একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও একটি অনলাইন বার্তা সংস্থা ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষার্থীরা জয়ের রাজনীতিতে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন রাজনীতি চর্চা করার জন্যই তিনি মূলত রাজনীতিতে প্রবেশ করেছেন। তিনি বলেন, বিএনপির শাসনামলে দুই মাস বয়সী একটি শিশুকে সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করে। সেই ঘটনাটি তাকে খুবই কষ্ট দিয়েছিল। তারপরই তিনি প্রতিজ্ঞা করেন রাজনীতি করবেন। গুণগত পরিবর্তন আনার জন্যই তিনি রাজনীতিতে নামবেন বলে ঠিক করেন। পারিবারিক ঐতিহ্য রাজনীতিতে নামার পেছনে কতখানি ভূমিকা রেখেছে জানতে চাইলে জয় বলেন, পরিবার নয়, নিজের মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতা বলেই তিনি রাজনীতি করবেন।
নিজের রাজনৈতিক মতাদর্শ সম্পর্কে জয় বলেন, আমার রাজনীতির উদ্দেশ্য কী সেটা আওয়ামী লীগের রুপকল্প ২০২১ পড়লে সকলের কাছে স্পষ্ট হবে। তিনি বলেন, আমরা ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি ঈর্ষণীয় পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই। ওই সময়ের মধ্যেই আমরা দারিদ্র, ক্ষুধা ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই। তিনি বলেন, ২০২১ সাল অতিক্রম করার পর আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে আরো একটি রুপকল্প প্রণয়ন করা হবে। এভাবেই বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ড. ইউনূসকে কেন আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ‘লবিয়িস্ট’ নিয়োগ করা হল না, এমন প্রশ্নের উত্তরে জয় বলেন, ড. ইউনূস বরাবরই দেশের বিভিন্ন ইস্যু সম্পর্কে পাশ কাটানো মনোভাব দেখিয়েছেন। তিনি ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলা, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বাতিলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে তিনি কথা বলেননি। তিনি কথা না বলার কারণে আওয়ামী লীগ ধরেই নিয়েছে যে এসব ব্যাপারে তার কোনো আগ্রহ নেই। তাই আওয়ামী লীগ ড. ইঊনূসকে লবিয়িস্ট নিয়োগ করার কথা মাথায় আনেনি।
আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে জানতে চাইলে জয় বলেন, আওয়ামী লীগ মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল। তারা কখনো কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে প্রশয় দেবে না।
ভবিষ্যতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে বিএনপির অধীনে নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ তাতে অংশগ্রহণ করবে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে জয় অনেকটা কৌশলী মন্তব্য করে বলেন, আসলে আপনাদের ‘ট্রেন্ড’ দেখতে হবে। আওয়ামী লীগের বর্তমান মেয়াদে সবগুলো নির্বাচনই অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে হয়েছে। বড় ধরনের কোনো অভিযোগ ওঠেনি। কিন্তু অতীতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করার ক্ষেত্রে বিএনপি জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেনি।
আজ থেকে নির্বাচনী প্রচারণায় নামছেন সজীব ওয়াজেদ জয়
বিশেষ প্রতিনিধি
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় আজ রবিবার থেকে নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নামছেন। সকাল ১০টায় তিনি গাজীপুরের টঙ্গিতে পথসভায় বক্তব্য রাখবেন। এরপর বেলা ১১টায় তিনি গাজীপুর চৌরাস্তায় পথসভা করবেন। গাজীপুরের কর্মসূচি শেষ করে তিনি রওয়ানা দেবেন ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় স্থানীয় আরকে স্কুল মাঠে আয়োজিত সমাবেশে তিনি বক্তব্য রাখবেন। সেখানকার কর্মসূচি শেষ করে বিকাল ৪টায় ময়মনসিংহ শিল্পকলা একাডেমিতে কর্মিসভায় বক্তব্য রাখবেন। ময়মনসিংহে তিনি রাত যাপন করবেন।
আগামীকাল সোমবার সজিব ওয়াজেদ জয় যাবেন টাঙ্গাইলে। সকাল ১০টায় টাঙ্গাইলের মধুপুর রানী ভবানী মাঠে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। দুপুর ১২ টায় রানী ভবানী হলে কর্মিসভা করবেন। এরপর বিকাল ৪টায় মির্জাপুরের আব্দুল গণি হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। সেখান থেকে ঢাকা ফেরার পথে বিকাল ৫টায় গাজীপুরের কালিয়াকৈরে পথসভা করবেন। এরপর তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন।