গল্প নয় সত্যি
ইতিবাচক মনোভাবে হূদরোগ জয়
প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২০:৩০
বিভিন্ন কারণে যখন মানুষের শরীরে বাসা বাধে দুরারোগ্য নানা ব্যধি তখন সেই ব্যাধি মোকাবেলায় নানা ধরনের ওষুধ আর পথ্যের দ্বারস্থ হই আমরা। তবে প্রচলিত এইসব ওষুধের সাথে যদি রোগ মোকাবেলার জন্য প্রয়োজনীয় মানসিক শক্তিটা না থাকে তাহলে রোগের সাথে লড়াইটাও হয়ে পড়ে অনেকটা কঠিন। আর রোগমুক্ত হবার জন্য এ ধরনের ইতিবাচক বিশ্বাসের গুরুত্ব যে কতটা বেশি এবার সে কথাই নতুন করে মনে করিয়ে দিলেন একদল গবেষক। সম্প্রতি জার্নাল সার্কুলেশন :কার্ডিওভাসকুলার কোয়ালিটি অ্যান্ড আউটকামস শীর্ষক সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা রিপোর্টে হূদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে অন্যদের তুলনায় বেশি দিন বেঁচে থাকার কথা বলেছেন এই গবেষকরা। তাদের দাবি, ইতিবাচক মনোভাব ও সেই সঙ্গে নিয়মিত হালকা ব্যয়াম হূদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনেকাংশেই বাড়িয়ে দিতে পারে। আলোচিত এই গবেষণার জন্য ডেনমার্কের একটি হাসপাতালে নানা সময়ে করোনারি আর্টারি ডিজিজে আক্রান্ত হয়ে চিকিত্সা নিয়েছেন এমন ৬০০ জন রোগীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে এইসব রোগীর জীবনযাপনের ধরন পর্যবেক্ষণ করে তাদের মনোভাবের সাথে ব্যায়াম করার প্রবণতা ও হূদরোগজনিত মৃত্যুঝুঁকির বিষয়টি লক্ষ করা হয়। এতে দেখা যায়, গবেষণাকালীন সময়ে যেসব রোগী তাদের ইতিবাচক মনোভাব বজায় রেখেছিলেন এবং কিছুটা হলেও ব্যয়াম করেছিলেন তাদের মধ্যে এ সময়ের মধ্যে মৃত্যুর হার নেতিবাচক মানসিকতার রোগীদের চাইতে ৪২ শতাংশ পর্যন্ত কম। অন্যদিকে রোগ সম্পর্কে যাদের মনোভাব বেশি নেতিবাচক ছিল বা যারা সে অর্থে রোগ থেকে মুক্ত হবার আশাবাদ ব্যক্ত করেননি তাদের মধ্যে এই সময়ে মৃত্যুর হার ছিল ১৬.৫ শতাংশ। এ প্রসঙ্গে এই গবেষণা প্রকল্পের অন্যতম গবেষক এবং কার্ডিয়াক সাইকোলজির প্রফেসর সুসান এস পেডারসেন বলেন, ‘হূদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য ইতিবাচক মনোভাব ও নিয়মিত ব্যায়াম দুটোই সমান জরুরি। কেননা ব্যায়াম ও ইতিবাচক মানসিকতা শুধুমাত্র ভালো স্বাস্থ্যের সাথেই সম্পর্কিত নয় বরং একই সাথে সেটি মানুষের রোগমুক্ত হওয়ার আশাবাদের সাথেও সম্পৃক্ত।’