ফের রেকর্ড ছাড়ালো ব্রিটিশ এমপিদের ব্যয়
প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২০:৫৪
ব্যয় বাহুল্যের বিগত স্ক্যান্ডালের রেকর্ডকেও এবার ছাড়িয়ে গেলো ব্রিটিশ এমপিদের সরকারি খরচ। ২০০৯ সালে এমপিদের সরকারি খরচ সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ায় তা নিয়ে সে সময় গোটা ব্রিটেনে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। আর এ বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয় বিশ্বের অনেক গণমাধ্যমে। ঐ বছর এমপিদের ব্যয় ৯৫ মিলিয়ন পাউন্ড ছাড়িয়ে যায়। এ তথ্যেই ব্রিটেনের গণবিবেক যেন প্রচণ্ডভাবে নড়ে ওঠে। কারণ বহু বছর ধরেই রাজনীতিবিদরা রাজপরিবারের জন্য অর্থ বরাদ্দ কমানোর ব্যাপারে ছিলেন ব্যাপকভাবে সোচ্চার। সেখানে তুচ্ছ কিছু সামগ্রীর জন্য এত বেশি ব্যয় মানতে পারছিলেন না ব্রিটেনের সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে একেকজন দু’টি বাসভবনের আসবাবপত্র পরিবর্তন করতে ট্যাক্স পরিশোধ করেছিলেন সরকারি খাত থেকে। সমালোচনা আর নিন্দার চাপে পরে এমপিরা তাদের মোট ব্যয় ৯০ দশমিক সাত মিলিয়ন পাউন্ডে কমিয়ে আনতে বাধ্য হন। খরচের অতিরিক্ত অর্থ সরকারকে ফেরত দিতে বাধ্য হন তারা।
আর এবার গত বছরের ব্যয়ের খাতায় দেখা গেছে ব্রিটিশ এমপিদের ব্যয় একশ’ মিলিয়ন পাউন্ড ছুঁই ছুঁই করছে। ৯৮ দশমিক এক মিলিয়ন পাউন্ড। টাকার অংকে ১২শ’ কোটিরও বেশি। এটাই এ যাবত্কালে যুক্তরাজ্যের এমপিদের সর্বোচ্চ ব্যয়। এমপিদের ব্যয় রেকর্ড যাচাই বাছাই করতে ব্রিটেনে একটি স্বাধীন পার্লামেন্টারি কমিটি রয়েছে। যাকে বলা হয়, ইন্ডিপেন্ডেন্ট পার্লামেন্টারি স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি (আইপিএসএ)। তারা জানিয়েছে, বিভিন্ন সফর ও কার্যালয়ের খরচসহ রাজনৈতিক কাজে তাদের ব্যয় বেড়েছে শতকরা দশ শতাংশ। নিজেদের কার্যালয়ের জন্য উচ্চ বেতনে কর্মচারি নিয়োগের বিষয়টি আগে থেকে অনুমোদন দেয়া ছিলো। আর এ কারণেই ব্যয়ের পরিমাণ বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছে আইপিএসএ।
গত অর্থ বছরে প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনই খরচ করেছেন প্রায় এক লাখ বাইশ হাজার পাউন্ড। তাঁর দাবি, এ অর্থের অধিকাংশই ব্যয় হয়েছে অফিস চালানোর কাজে। আর বিরোধী লেবার পার্টির নেতা এড মিলিব্যান্ড দাবি করেছেন, একই বছরে তাঁর খরচ প্রায় এক লাখ ৩৭ হাজার পাউন্ড। অফিস রক্ষণাবেক্ষণ করতেই এত ব্যয় হয়েছে বলে জানান তিনি। এর মধ্যে পার্লামেন্টের কাজে সাড়ে দশ হাজার পাউন্ড খরচ হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি খরচের হাত উপ-প্রধানমন্ত্রী নিক ক্লেগের।
২০১২-১৩ অর্থবছরে নিক ক্লেগের ব্যয় দেড় লাখ ব্রিটিশ পাউন্ড বা এক কোটি ৮৪ লাখ টাকারও বেশি। এর অধিকাংশই কার্যালয় চালাতে গিয়ে খরচ হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। লিবারেল ডেমোক্র্যাট এই নেতা তার কার্যালয়ের আসবাবপত্র ও অন্যান্য খরচ দেখিয়ে গ্রহণ করেছেন প্রায় তেরো হাজার পাউন্ড। প্রথম শ্রেণীর পাঁচটি ট্রেন সফর ও টেলিভিশনের লাইসেন্স করতে তিনি একশ’ পয়তালি¬শ পাউন্ডের বিল দেখিয়েছেন। তবে আলিস্টেয়ার কারমাইকেল, ডেভিড মোরিস, ডেবি আব্রাহামসহ অনেক এমপিরই সরকারি কাজে বার্ষিক ব্যয় এক লাখ পাউন্ডের নিচে। সর্বোচ্চ ব্যয় করেছেন, এমন ২০ জনের যে নামের তালিকা আইপিএসএ প্রকাশ করেছে, তাতেই হইচই শুরু হয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। যা বেশ ফলাও করে প্রচার করা হয়েছে।