‘চলমান কর্মসূচি দিয়ে দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব নয়’

গতকাল রবিবার রাজধানীতে ‘সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাস্তবায়ন: ‘জনপর্যবেক্ষণের আলোকে সুপারিশ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গি ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার বহুমুখী দুর্বলতার কারণে চলমান সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি দিয়ে দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে প্রচলিত কল্যাণমূলক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তে দরিদ্র মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির প্রযোজ্য বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে মানুষের খাদ্যের অধিকার নিশ্চিতকরণে আইন প্রণয়ন করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে আগামী নির্বাচনের আগেই এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার প্রদান করতে হবে। সিরডাপ মিলনায়তনে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে ওয়েভ ফাউন্ডেশন, গভর্নেন্স কোয়ালিশন ও ক্রিশ্চিয়ান এইড। সভায় বক্তব্য রাখেন, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা এমপি, ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চিফ অব পার্টি ড. আখতার আহমেদ, বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ, বার্ড-এর সাবেক মহাপরিচালক এম খাইরুল কবির, ক্রিশ্চিয়ান এইড, বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অফিসার ইসরাত শবনম প্রমুখ। আলোচনা সভা সঞ্চালনা ও প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গভর্নেন্স কোয়ালিশনের আহ্বায়ক ও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মহসিন আলী। অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা এমপি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বেশকিছু ক্ষেত্রে খাদ্যশস্যের বদলে অর্থ দিলে দুর্নীতি হ্রাস পাবে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো ক্ষমতা দিলে কর্মসূচি বাস্তবায়ন সহজতর হবে। ড. আখতার আহমেদ বলেন, আমরা বর্তমানে গবেষণা করছি, খাদ্য নাকি নগদ অর্থ প্রদান— কোনিট বেশি সুফল দিয়ে থাকে তা নিয়ে। এর অধীনে ৯৯টি কর্মসূচি না রেখে যত কম সংখ্যক কর্মসূচি রাখতে হবে, যা হবে উন্নয়নমূলক এবং বাস্তবায়নযোগ্য। খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়নের দাবির সঙ্গে সহমত পোষণ করে ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে শুধু কোনো রকমে মানুষকে বাঁচিয়ে রাখা নয়, এটিকে কর্মসংস্থানের উপায় হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।