খেলাপী ঋণের ৬৩ শতাংশই পাঁচ ব্যাংকের কাছে
প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২৩:০৮
ব্যাংকগুলোর শ্রেণীকৃত (খেলাপি) ঋণের ৬৩ শতাংশই পাঁচটি ব্যাংকের। আর মোট শ্রেণীকৃত ঋণের ৬৭ শতাংশ মন্দ বা ক্ষতিমানের। এছাড়া প্রতি ব্যাংকের শীর্ষ ১০ ঋণ গ্রহিতা যদি খেলাপি হয়ে যায় তাহলে ব্যাংকগুলোর মূলধন পর্যাপ্ততার হার নেমে আসবে সাড়ে ৩ শতাংশে। ২০১২ সালের তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদনে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। তবে বর্তমান সামষ্টিক অর্থনীতির বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা প্রতিবেশি দেশগুলোর অর্থনীতির তুলনায় বেশ স্বস্তিকর বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
প্রতিবেদনে পুঁজিবাজারের মূল্য সংশোধনে বিনিয়োগকারীদের আস্থার অভাব, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকগুলোতে অনিয়ম, দুর্নীতি, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনাগুলো অন্যান্য ব্যাংকে না মানা, প্রকৃত জিডিপি হ্রাস পাওয়ায় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার আশঙ্কা করা হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকে এ রিপোর্ট মোড়ক উন্মোচন করেন গভর্নর ড. আতিউর রহমান। দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা ধরে রেখে সমানে যাওয়ার জন্য রাষ্ট্রায়ত্তসহ সব ব্যাংকে কর্পোরেট সুশাসন ও কঠোর অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার বিকল্প নেই। তিনি বলেন, এসব বিষয়ে বিশদ দিক নির্দেশনা দিয়ে নীতিমালা ইস্যু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্ত এগুলোর বাস্তব প্রয়োগের চিত্র সবক্ষেত্রে আশ্বস্তকর নয়। এ বিষয়ে আশ্বস্তকর অবস্থায় আনার জন্য প্রয়োজন ব্যাংকের পরিচালক ও ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপকদের মনোভঙ্গি। আর্থিক ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে ঝুকি ভিত্তিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, ব্যাংকগুলোর মূলধন ও কাঠামোগত উন্নয়ন সাধন এবং নিয়ন্ত্রকসংস্থাগুলোকে আরো কার্যকরী ভূমিকা পালনের বিষয়ে সভায় পরামর্শ দেয়া হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি ডিপার্টমেন্ট বা আর্থিক স্থিতিশীলতা বিভাগের মহাব্যবস্থাপক দেবাশীষ চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান, মো. আবুল কাশেম ও এস.কে সুর চৌধুরী, প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. হাসান জামানসহ বিভিন্ন ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে সাংবাদিকদেরকে এ বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা দিতে যেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গর্ভনর এস.কে সুর চৌধুরী বলেন, ২০১২ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি বিভাগ গঠন করে। এবার তৃতীয় বারের মত এ রিপোর্ট প্রকাশ করা হলো। তিনি বলেন, রিপোর্টে সামষ্টিক অর্থনীতি, ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি ও নিরূপণের উপায় এবং ব্যাংক বহির্ভূত খাতগুলোর অর্থনৈতিক ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে।
এদিকে কোন ৫ ব্যাংকের কাছে খেলাপি ঋণের ৬৩ শতাংশ রয়েছে সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি সেগুলোর নাম বলতে রাজি হননি।