অযত্ন-অবহেলায় ধ্বংসের পথে চলনবিল যাদুঘর
আব্দুল মান্নান, বড়াইগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২০:৩০
সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাব ও অযত্ন অবহেলায় নাটোরের চলনবিল জাদুঘর ধীরে ধীরে ধ্বংসের পথে এগিয়ে চলেছে। গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজিপুর গ্রামে বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত চলনবিলের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক বাহক এই জাদুঘরটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে নেয়ার পর থেকেই অবহেলিত হতে থাকে। যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে ইতোমধ্যেই বিনষ্ট হয়ে গেছে যাদুঘরের অনেক দুর্লভ প্রাচীন নিদর্শন। জায়গার জটিলতা ও রাজস্ব আদায় না হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর বর্তমানে যাদুঘরটি অন্যত্র স্থানান্তরের চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, ১৯৭৮ সালে চলনবিল অঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে মরহুম আব্দুল হামিদ টি. কে নিজ উদ্যোগে নাটোর জেলা সদর থেকে ৩০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ ও বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের কাছিকাটা থেকে ১০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিম দিকে জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজিপুর গ্রামে ৮ শতাংশ জমির ওপর চলনবিল জাদুঘরটি স্থাপন করেন। সেই সাথে এ অঞ্চলের মানুষের কাছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা চলনবিল তথা উপমহাদেশের অনেক দুর্লভ নিদর্শন সংগ্রহ করে আনা হয় এ জাদুঘরে। পরবর্তীকালে জাদুঘরটি উন্নয়নের লক্ষ্যে নরওয়ে সরকারের প্রজেক্ট নরওয়ে এজেন্টি (নোরাট) ১ লাখ ২০ হাজার টাকা অনুদানে জাদুঘরের পাকা দোতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। জাদুঘরে প্রবেশ পথেই রয়েছে চলনবিলের কৃতি সন্তান প্রখ্যাত ঐতিহাসিক স্যার যদুনাথ সরকারের পোড়া মাটির আবক্ষ মূর্তি। এ ছাড়াও সংগৃহীত দুর্লভ নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে সুলতান নাসির উদ্দিনের নিজ হাতে লেখা কোরান শরীফ, তুলট কাগজ ও গাছের ছালে লেখা প্রাচীন ও মধ্যযুগের পুঁথির পান্ডুলিপি, বিভিন্ন সময়ের স্বর্ণ, রৌপ্য, তাম্র, ধাতব মুদ্রা, বিভিন্ন প্রস্তর ও পোড়া মাটির ভাস্কর্য, রাজা, সম্রাট, সুলতান ও নবাবদের ব্যবহূত তলোয়ারসহ বিভিন্ন যুদ্ধাস্ত্র, রাণী ভবানীর স্মৃতিচিহ্ন, মনসা মঙ্গলের বেদি ও ঘট, বগুড়ার কবি মরহুম রুস্তম আলী কর্নপুরীর দলিল-দস্তাবেজ। জাদুঘরটি আরও সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে বেসরকারি পর্যায় থেকে সরকারি পর্যায়ে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় জাদুঘরটি বগুড়ার মহাস্থানগড়ে অবস্থিত মহাস্থান জাদুঘরের অধীনে নেয়া হয়। নিয়োগ দেওয়া হয় একজন কর্মকর্তা ও ৩ জন কেয়ারটেকার। বাস্তবে ওই নিয়োগদান ছাড়া সরকারি আর কোন উন্নয়ন কার্যক্রম না থাকায় জাদুঘরটি বেহাল অবস্থায় পড়ে। বর্তমানে জাদুঘরের উপরের ৩টি কক্ষে কেয়ারটেকার বসবাস করছেন। চলনবিল জনপদের মানুষের ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে ধারণা দেওয়ার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত জাদুঘরটি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ধ্বংস হতে বসেছে।