গল্প নয় সত্যি
চেহারায় তারুণ্য বনাম দীর্ঘায়ু
প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:১৮
হয়তো বহুদিন আগেই বয়স ত্রিশ বা চল্লিশের কোটা পেরিয়েছে। কিন্তু এখনো আপনার চেহারা দেখে তার বিন্দু বিসর্গ বুঝবার ক্ষমতা নেই কারও। এমনকি কখনো কখনো এরকম কমবয়সী দেখানোর কারণে হয়তো বিব্রতও হতে হয় আপনাকে। তবে বন্ধু কিংবা পরিবারের অন্যদের কাছে বয়সের তুলনায় কম কিংবা শিশু, কিশোর ও তরুণসুলভ চেহারার জন্য আপনি যতোই হাসি-ঠাট্টা কিংবা ঈর্ষার পাত্র হন না কেন একটা দিক দিয়ে কিন্তু আপনি অনেকটাই নিরাপদ বলে মনে করছেন গবেষকরা। আর তাহলো অন্য সবার চাইতে তুলনামূলক দেরিতে মৃত্যুর বিষয়টি। জন্ম বা মৃত্যুর মতো বিষয়গুলো নিয়ে সুনিশ্চিত কোনো ভবিষ্যদ্বানী করা সম্ভব নয়-এই সত্যটিকে মেনে নেবার পরও একদল ড্যানিশ গবেষক মানুষের চেহারায় বয়সের ছাপ না পড়ার সাথে বেশিদিন বাঁচার একটি সম্পর্ক খুঁজে বের করেছেন। সাউদার্ন ডেনমার্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষকদের দাবি, রোগ-শোক কিংবা দুর্ঘটনার মতো বিষয়গুলোকে পাশ কাটিয়ে চিন্তা করলে বয়সের ছাপ না পড়া মানুষেরাই গড়পরতা বেশি দীর্ঘায়ু হন। সাড়া জাগানো এই গবেষণার অংশ হিসেবে গবেষকরা সর্বমোট ৩৮৭ জোড়া জমজ মানুষের ওপর দীর্ঘ সাত বছর সময় নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করেন। এতে দেখা যায় একই মায়ের গর্ভে প্রায় একই ধরনের বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্মানো সত্ত্বেও চেহারায় বয়সের ছাপ বুঝা যায় এমন ব্যক্তিটি তুলনামূলক তরুণ দেখতে জমজটির আগে মারা গেছেন। এর কারণ হিসেবে গবেষকরা একদিকে যেমন জীবনের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে তার চেহারায় বয়সের ছাপ পড়ার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন তেমনি তারা ব্যক্তির ডিএনএগত বৈশিষ্ট্যের সম্ভাব্য প্রভাবের কথাও আলোচনা করেছেন। তারা জানান, অতিমাত্রায় চিন্তা করা ও চ্যালেঞ্জিং জীবনযাপনের কারণে একদিকে যেমন মানুষের চেহারায় বয়সের ছাপ পড়ে অন্যদিকে তা কমিয়ে দেয় মানুষের গড় আয়ুও। আবার মানবদেহের কোষের বৃদ্ধি সাথে টেলোমেয়ার নামে ডিএনএ’র যে অংশটি থাকে তার দৈর্ঘ্যের ওপরও চেহারায় বয়সের ছাপ পড়া না পড়ার বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভর করে। এ প্রেক্ষাপটে যার টেলোমেয়ার যত ছোট হয় তার চেহারায় বয়সের ছাপ তত বেশি পড়ে এবং একই সাথে শরীরে দেখা দেয় বিভিন্ন রোগও। আর দীর্ঘমেয়াদে এইসব রোগের সংক্রমণই তারতম্য ঘটাতে পারে মানুষের গড় আয়ুতে।