ভারতে পাচার শিশু ফেরত
আফরোজাকে রাজশাহীতে পুনর্বাসন করছে বিজিবি
প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৪৮
প্রায় পাঁচ বছর পরে ভারত থেকে দেশে ফেরা শিশুকন্যা আফরোজা খাতুনের শিক্ষা ও পুনর্বাসন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে বিজিবি রাজশাহী সদর দপ্তরের শহীদ কর্নেল কাজী এমদাদুল হক পাবলিক স্কুলের অডিটোরিয়ামে এ উপলক্ষে এক অনাঢ়ম্বর অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রাজশাহী সেক্টর। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আফরোজাকে ইতোমধ্যে রাজশাহীতে বিজিবি পরিচালিত কর্নেল কাজী এমদাদুল হক পাবলিক স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়েছে। গত শনিবার তাকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
জানা যায়, ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে আফরোজা ও তার বড় ভাই মুন্না পারভেজকে নিয়ে মা মনোয়ারা বেগম নিজের চিকিত্সা ও কাজের সন্ধানে দালাল চক্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে হিলি সীমান্ত দিয়ে ভারতে যান। সেখানে তারা বালুরঘাট সীমান্তে ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হন। অসুস্থ মনোয়ারা ভারতের কারাগারে ২০০৯ সালের ১৩ অক্টোবর মারা যান। এরপর মুন্নাকে ২০১১ সালের ২৪ আগস্ট বাংলাদেশে ফেরত আনা হয়। গত শনিবার বিএসএফের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে বিজিবি’র কাছে আফরোজাকে হস্তান্তর করে।
বিজিবি’র সেক্টর কমান্ডার এবিএম মিজানুর রহমান জানান, রাজশাহীর ‘এসোসিয়েশন ফর কম্যুউনিটি ডেভেলপম্যান্ট (এসিডি) নামের একটি বেসরকারি সংস্থার আশ্রয় কেন্দ্রে থাকবে আফরোজা। সেখান থেকে সে বিজিবি’র রাজশাহী সদর দপ্তরের অভ্যন্তরে অবস্থিত শহীদ কর্নেল কাজী এমদাদুল হক পাবলিক স্কুলে পড়ালেখা করবে। পড়ালেখা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার সকল দায়িত্বভার বহন করবে বিজিবি। আফরোজার বড় ভাই মুন্না পারভেজকেও স্কুলে ভর্তি করার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি তার জন্য উপযুক্ত কোনো কাজের ব্যবস্থাও করা হবে।
রবিবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সেক্টর কমান্ডার ও উপ-মহাপরিচালক এবিএম মিজানুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিজিবি’র ৩৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক নজরুল ইসলাম, রাজশাহী জেলা প্রশাসক মেসবাহ উদ্দিন চৌধুরী ও রাজশাহী মহানগরীর উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) আবু সালেহ মোহাম্মদ গোলাম মাহামুদ। আরও উপস্থিত ছিলেন আফরোজার বাবা আকরাম হোসেন, ভাই মুন্না পারভেজসহ অনেকে।