এ যুগেও একটি পরিবার ১০ বছর সমাজচ্যুত

ছেলের বিয়েতে খাসির মাংস খাওয়াতে না পারায় গত ১০ বছর এক ঘরে হয়ে থাকতে হয়েছে। এমনকি গ্রামের কোন পারিবারিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় পূজা-অর্চনাতেও অংশ নিতে দেয়া হয় না এই পরিবারটিকে। পরিবারের বড়দের পাশাপাশি ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদেরও সইতে হচ্ছে সমাজপতিদের বঞ্চনা। আর এই অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রসুলপুর গ্রামে। ছেলের বিয়েতে সমাজপতিদের খাসির মাংস খাওয়াতে না পারায় ঐ গ্রামের হূদয় চন্দ্রের পরিবারটিকে সমাজচ্যুত করে রেখেছে কপট সমাজপতিরা। জানা যায়, গত ২০০৩ সালে হূদয় চন্দ্র একই দিনে তার দুই ছেলে স্বপন ও রতনের বিয়ে দেন। সমাজের কতিপয় মাতব্বর হূদয় চন্দ্রকে চাপ দেন দুই ছেলের বিয়েতে দুই বেলা খাওয়ানোর জন্য। সহায় সম্বলহীন হূদয় চন্দ্র সমাজপতিদের এক বেলা খাওয়ানোর প্রস্তাব দিলে তারা রাজি হন। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ছেলের বিয়েতে সমাজের লোকজনের জন্য ৫০ কেজি মাছ দিয়ে খাওয়ানোর বন্দোবস্ত করেন। একথা শুনে সমাজপতিরা হূদয় চন্দ্রকে জানিয়ে দেয় আমাদেরকে খাসির মাংস দিয়ে খাওয়াতে হবে। কিন্তু তার পক্ষে খাসির মাংস খাওয়ানো সম্ভব না হওয়ায় হূদয় চন্দ্রের পরিবারকে সমাজচ্যুত করে এক ঘরে করে রাখা হয়। এ ঘটনার পর তার পরিবারের সদস্যরা সমাজের কোন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারে না। এমনকি ঐ গ্রামের সরকারি টিউবওয়েলের পানি পর্যন্ত তাদের নিতে দেয়া হয় না। এ ব্যাপারে রসুলপুর গ্রামের সমাজপতি ভোজেন্দ্রনাথ ও বিপেন্দ্রনাথ হূদয়ের পরিবারকে এক ঘরে করে রাখার কথা স্বীকার করে বলেন, হূদয় সমাজের নিয়ম-কানুন মানে না এবং সমাজের লোকজনের বিভিন্নভাবে ক্ষতি করেছে বলেই সমাজের লোকজনের সিদ্ধান্তে এটা করা হয়েছে। অনিল চন্দ্র মাস্টার জানান, এক ঘরে করে রাখার কথাটি সঠিক নয়, তবে হূদয়ের সমাজ বিরোধী কার্যকলাপে সমাজের লোকজন তার সাথে কথাবার্তা ও চলাফেরা বন্ধ করে দিয়েছে। ভীমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাম প্রসাদ বলেন, আমি এ বিষয়টি আগে জানতাম না কয়েক দিন আগে হূদয়ের বড় ছেলে স্বপন আমাকে ঘটনাটি জানিয়েছে। বিষয়টি জানার পর সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমিনুর রহমান জানান, পরিবারটিকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিতে কেউ বাধা দিলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।