জনগণ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে না পারলে তা হবে সার্বিক ব্যর্থতা
প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২৩:০৬
সফররত যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ বিষয়ক সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপের সদস্যরা মনে করেন, আগামী নির্বাচনে জনগণকে স্বাধীনভাবে ভোট দেয়ার সুযোগ দিতে হবে। এই দায়িত্ব রাজনীতিবিদদেরই। জনগণ এই সুযোগ না পেলে তা হবে সার্বিক ব্যর্থতা। বাংলাদেশ এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। এ পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হতে হবে। পেছনে তাকাবার কোন অবকাশ নেই।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপের সদস্যরা চারদিনের বাংলাদেশ সফরশেষে গতকাল সোমবার বিকালে স্থানীয় একটি হোটেলে সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। সংসদীয় গ্রুপের চেয়ারম্যান ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের এমপি মিস অ্যান মেইন ছাড়াও সাংবাদিক সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন লেবার পার্টির দুই এমপি জনাথন রিনল্ডস ও সারমন ড্যানজুক এবং কনজারভেটিভ পার্টির নিক ডি বয়স।
সংসদীয় গ্রুপের সদস্যরা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে দেখতে এই সফরে আসেন। গার্মেন্টস মালিক, শ্রমিক, ক্রেতা, সরকারি নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে তারা আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তারা সাক্ষাত্ করেন। যুক্তরাজ্য ফিরে গিয়ে সংসদীয় গ্রুপ সরকারের কাছে সুপারিশ করবে। সাংবাদিক সম্মেলনে সংসদীয় গ্রুপের প্রধান মিস অ্যান মেইন বলেন, বাংলাদেশের সামনে নির্বাচন। কোন দল জিতবে সেটা জনগণ নির্ধারণ করবে। যে দলই জয়লাভ করুক গার্মেন্টস শিল্পের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখা ও রানা প্লাজা ট্র্যাজেডী পরবর্তী কার্যক্রম চালু রাখতে হবে। কোন ছেদ পড়া যাবে না। গার্মেন্টসের বর্তমান অবস্থা যা দাঁড়িয়েছে, একের পর এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার দায় দায়িত্ব ক্রেতা, সরকার, মালিক সবারই। কর্মপরিবেশ, নিরাপত্তা ও সুনাম ধরে রাখতে হবে। বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া নয়, বরং সহযাত্রী হিসাবে ঘাটতি পূরণে অংশীদার হতে হবে। উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের জন্য আন্তরিক হতে হবে। কেবল মুনাফা প্রত্যাশাই কাম্য নয়। সরকারকে আইন প্রয়োগের ব্যর্থতার দায় নিতে হবে। প্রতিটি কারখানা ভবনের নির্মাণ বিধি, মানসম্পন্ন নকশা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি জীবন মালের নিরাপত্তার জন্যই। এটা কেবল গার্মেন্টস এর নিরাপত্তার জন্য নয়, বিকাশমান অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজন। তাই নির্বাচনের পর দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনা এগিয়ে নিতে হবে। যাতে ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীরা আস্থা পায়।
এক প্রশ্নের জবাবে ব্রিটিশ এমপিরা বলেন, যুক্তরাজ্য সরকার গার্মেন্টস শিল্পের আরো উন্নয়নে সহায়তা দেবে। বাংলাদেশের পোশাকের মান অনেক ভাল। যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি সুবিধা স্থগিত করেছে। এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কোন সমাধান বয়ে আনবে না।