বিটিসিএলের দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে দফায় দফায় মামলা, গ্রেফতার নেই!

বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) চিহ্নিত শীর্ষ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের করলেও মূল হোতাদের কাউকেই গ্রেফতার করছে না দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আসামিদের গ্রেফতারের জন্য আইনপ্রয়োগকারী কোন সংস্থাকে কমিশন তরফ থেকে কিছু বলাও হয়নি। ফলে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে বিটিসিএলের শীর্ষ দুর্নীতিবাজরা! ফল হিসেবে তারা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা পুরোদমে বন্ধ করতে দুই দফায় নয়টি মামলা করেছিল দুদক। কিন্তু মামলাগুলো এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে কোন কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা বন্ধ হচ্ছে না। ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে এখনো চলছে এই ব্যবসা। বিদেশ থেকে অবৈধভাবে আসছে ফোন কল। রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। এই দুর্নীতির মূল হোতাদের কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান জানান, প্রয়োজন হলে বিটিসিএলের আসামিদের গ্রেফতার করা হবে। তবে যেসব আসামি গ্রেফতার করা প্রয়োজন, আমরা তাদেরই গ্রেফতার করবো। সময় হলেই তারা গ্রেফতার হবেন। দুদক সূত্রে জানা গেছে, ভিওআইপি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বিটিসিএল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রথম মামলা করা হয় ২০১২ সালের পাঁচ নভেম্বর। সে সময় সংস্থাটির কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌফিকসহ ১৪ জনকে আসামি করে ২০৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পাঁচটি মামলা করা হয়। এই মামলাগুলোর অন্য আসামিরা হচ্ছেন, বিটিসিএলের সাবেক পরিচালক (আন্তর্জাতিক) মোঃ মাহবুবুর রহমান, বিভাগীয় প্রকৌশলী একেএম আসাদুজ্জামান, সদস্য (রক্ষণাবেক্ষণ ও চালনা) মোহাম্মদ তৌফিক, সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মোঃ আবু সাইদ খান, সাবেক বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল হালিম, সাবেক পরিচালক মোঃ মাহফুজার রহমান। এরস্টিকল সার্ভিস লিমিটেডের পরিচালক এসএম ইশতিয়াক আহমেদ, এনটিসি গ্লোবালের সিইও মোঃ নাজমুল কাদির, এ প্রতিষ্ঠানের লোকাল এজেন্ট মহিউদ্দিন সিদ্দিক, সিম্পল টেলিকম লিমিটেডের পরিচালক মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, ডিজটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউর রহমান, আই পাওয়ার কমিউনিকেশনের পরিচালক মোঃ মাকসুদুল লতিফ, রাজটেক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ হাসিবুল বাসার। সর্বশেষ গত ২৯ আগস্ট রাজধানীর বনানী থানায় ‘আগস্ট ২০০৯ থেকে নভেম্বর ২০১২’ পর্যন্ত সময়কালে সরকারের প্রায় ৬০৮ কোটি টাকা ক্ষতিসাধনের দায়ে বিটিসিএলের চারজন সাবেক ও বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি মামলা দায়ের করে দুদক। এ মামলাগুলোতে অভিযুক্ত বিটিসিএলের সাবেক এমডিরা হলেন- ড. মো. আবু সাইদ খান (ওএসডি), আজিজুল ইসলাম (ওএসডি), এস. এম. খবিরুজ্জামান (অবসরপ্রাপ্ত), আফছার আলম (অবসরপ্রাপ্ত। বর্তমান এমডি (ভারপ্রাপ্ত) এস ও এম. কলিম উল্ল্যাকেও এই মামলায় আসামি করা হয়। এসব মামলার পর উল্লেখিত অভিযুক্তদের স্ব স্ব পদ থেকে অন্যত্র বদলি করা হয়। কিন্তু আর কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। বিটিসিএলের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যেই উল্লেখিত মামলার অনেক আসামি দেশ থেকে পালিয়েছেন। আরও দু’একজন আসামি দেশ ছাড়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। সূত্র আরো জানায়, দুদকের দায়ের করা মামলাগুলোতে সংশ্লিষ্ট পদের কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়েছে। কিন্তু এ অপকর্মের সঙ্গে বিটিসিএলএর ঊর্ধ্বতন আরো অনেক কর্মকর্তা এবং কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি জড়িত রয়েছেন। তাদের আইনের আওতায় আনতে আসামিদের গ্রেফতার এবং জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।