মন্ত্রিসভায় আরপিও অনুমোদন

যুদ্ধাপরাধীরা নির্বাচনে অযোগ্য, বাড়লো নির্বাচনী ব্যয়

যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডপ্রাপ্তদের নির্বাচনে অযোগ্য ও প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয় বৃদ্ধির বিধান রেখে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ২০১৩ (আরপিও) - এর সংশোধিত খসড়া চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা সাংবাদিকদের বলেন, সংশোধিত আরপিও’র চূড়ান্ত অনুমোদনের ফলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধের জন্য দণ্ডিতেরা নির্বাচনে অযোগ্য হলেন। ট্রাইব্যুনালের মামলায় দণ্ডিত যারা আপিল করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে এ আইন প্রযোজ্য হবে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এ বিষয়ে খসড়ায় কিছু বলা হয়নি। এর আগে বাহাত্তরের দালাল আইন ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনে সাজাপ্রাপ্তদের ভোটার হওয়ার পথ বন্ধ করতে গত দুই সেপ্টেম্বর ভোটার তালিকা আইন সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে মন্ত্রিসভায় প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয় ১০ লাখ টাকা বাড়ানো হয়েছে। আগে এই ব্যয় ছিল ১৫ লাখ টাকা। এখন তা ২৫ লাখ টাকা হয়েছে। তবে নির্বাচনী প্রচারের জন্য বিভিন্ন এলাকায় ভ্রমণের ব্যয় এতে অন্তর্ভুক্ত হবে না। এ ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেয়া কোনো ব্যক্তি বা দলকে অনুদান হিসেবে দেয়া টাকার পরিমাণ ১০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২৫ লাখ টাকা করা হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান এক্ষেত্রে ৫০ লাখ টাকা অনুদান দিতে পারবে। আগে এই টাকার পরিমাণ ছিল ২৫ লাখ। প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সংগতি রেখে নির্বাচনী ব্যয় বাড়ানো হয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান। সংশোধিত আরপিও অনুসারে, নির্বাচনী এলাকায় ভোটারদের মধ্যে থেকে পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দেয়া হবে। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলির বিষয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে যদি কোনো অনুশাসন দেয়া হয় তাহলে তা দ্রুত কার্যকর করতে হবে। নির্বাচনী মামলা করতে আগে দুই হাজার টাকা জরিমানা দিতে হতো। এখন তা বাড়িয়ে পাঁচ হাজার টাকা করা হয়েছে। আরপিও অনুসারে কেউ ঋণখেলাপি হলে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। এছাড়া মন্ত্রিসভা মাল্টি লেভেল মার্কেটিং কার্যকর আইনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ২০১২ ও ২০১৩ অর্থ বছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে কয়েকটি সুপারিশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করতে হবে, সিস্টেম লস কমাতে হবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও শিক্ষার আরও উন্নয়ন করতে হবে। তবে ওই আদেশে লাভজনক পদ ও প্রার্থিতা বাতিলের ব্যাপারে কোনো সংশোধনী দেয়া হয়নি।