বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম শেকড়ের সন্ধান করে :প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়নে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে যেসব পরিকল্পনা নিয়েছিলেন সেসব তথ্য কারো কাছে থাকলে সেগুলো গ্রন্থ আকারে প্রকাশ করার জন্য আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, অনেকেই আছেন যারা এ ধরনের তথ্য জানেন। যদি এ ধরনের তথ্যবহুল বই সংকলিত করে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হয় তাহলে দেশের মানুষ প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারবে। বাংলাদেশের শুরুর দিনগুলোর কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা কল্পনাও করতে পারবেন না। কতো অল্প সময়ে বঙ্গবন্ধু কতো কাজ করেছেন। একদিকে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির মোকাবেলা করা। একদিকে আল্ট্রা লেফটিস্টদের বিপ্লব মোকাবেলা করা। অপরদিকে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ে তোলা। পরবর্তী সময়ে ইতিহাস বিকৃতির ঘটনায় আক্ষেপ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা একটা জেনারেশনকে হারিয়ে ফেলেছি হয়তো। তারা হয়তো বিকৃত ইতিহাস জেনে বিকৃত পথে চলে গেছে। কিন্তু এখন আমাদের তরুণ সমাজ শেকড়ের সন্ধান করে। গতকাল সোমবার সকালে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সাবেক কেবিনেট সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের লেখা ‘বাংলাদেশ সরকার ১৯৭১-৭৫’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু তিন মাসের মধ্যে মিত্র বাহিনীকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে বিশ্বে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এজন্য প্রধানমন্ত্রী ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বল্প মেয়াদে জাতি গঠনের পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতিসংঘ, ওআইসি ও কমনওয়েলথসহ ১৫০টি দেশের স্বীকৃতি লাভ করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদ পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি ৩ কোটি গৃহহীন মানুষের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেছেন। শেখ হাসিনা বলেন, আমি জানি না এই স্বল্প সময়ে কোনো দেশ পুনর্গঠনের এমন নজীর ইতিহাসে আছে কিনা? বঙ্গবন্ধুর মতো নেতা ছিলেন বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় যেসব দেশ বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়েছিল স্বাধীনতার পর তারা সহায়তার জন্যও এগিয়ে এসেছিল। কিন্তু যেসব দেশ আমাদের স্বাধীনতা চায়নি তাদের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে দেশে বিরূপ প্রভাব পড়ে। এই প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধু জাতীয় ঐক্যের ডাক দেন এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার পদক্ষেপ নেন। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনলে এ সবকিছুই পরিষ্কার হয়ে যাবে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ বিশ্বে একটি দৃষ্টান্ত হতো। আমাদেরকে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরকে উপমা হিসাবে দেখতে হতো না। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু সরকারের সঠিক চিত্র তুলে ধরার জন্য বইয়ের লেখককে ধন্যবাদ জানান। শেখ হাসিনা বলেন, তার পিতা চাইতেন দেশপ্রেমিকরাই দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাক। দেশপ্রেমিক মানুষ যাতে নির্বাচিত হতে পারে সে ব্যবস্থাও বঙ্গবন্ধু নিয়েছিলেন। সরকারই নির্বাচনের ব্যবস্থা করে দেবে। এতো পোস্টার না, একটি পোস্টার হবে। সেখানে সকলের নাম থাকবে। এভাবে কয়েকটা নির্বাচন হয়েছিল। কিশোরগঞ্জের উপ-নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি নজরুল ইসলাম সাহেবের ভাই আর একজন স্কুল মাস্টার। ওই স্কুল মাস্টারই জয়ী হয়ে এসেছিলেন। জাতীয় অধ্যাপক এ এফ সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং বইটির প্রকাশক হাক্কানী পাবলিশার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মোস্তফাও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। এতে বিশিষ্ট সংস্কৃতিসেবী আসাদুজ্জামান নূর এমপি সৈয়দ শামসুল হকের একটি কবিতা আবৃত্তি করেন। এছাড়া এডভোকেট তারানা হালিম এমপি বইটির কিছু অংশ পড়ে শোনান। প্রধানমন্ত্রী সিলেট যাচ্ছেন আজ সিলেট অফিস প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ মঙ্গলবার সিলেট সফরে আসছেন। তিনি এখানে প্রায় ছয়শ’ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। বিকালে প্রধানমন্ত্রী সিলেটের গোলাপগঞ্জে একটি জনসভায় ভাষণ দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে সিলেটে এখন সাজ সাজ রব। নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্সাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। প্রতিদিনই হচ্ছে প্রস্তুতিমূলক সভা ও প্রচার মিছিল। প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী সকাল ১০টায় সিলেট পৌঁছে প্রথমেই হযরত শাহজালাল (রহঃ) ও হযরত শাহপরান (রহঃ) এর মাজার জিয়ারত করবেন। তারপর অন্যান্য কর্মসূচি শুরু হবে। এদিকে বিশ্বনাথ (সিলেট) সংবাদদাতা জানান, আজ বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জ উপজেলার গ্যাস সংযোগ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এই প্রকল্পে প্রায় ৯১ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে জানা গেছে।