আপিল বিভাগে কাদের মোল্লার রায় আজ

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ আজ মঙ্গলবার যুদ্ধাপরাধ মামলায় জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবে। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল এর আগে কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছিলো। দীর্ঘ শুনানির পর ওই রায়ের বিরুদ্ধে কাদের মোল্লা এবং সরকারের আপিল প্রশ্নে রায় দিবে আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগের এক নম্বর এজলাশে প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের সভাপতিত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করবেন। আর এর মধ্য দিয়ে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে করা প্রথম আপিলের নিষ্পত্তি হতে যাচ্ছে। রায় যাই হোক অসন্তুষ্টু পক্ষ এর বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশন (পুনর্বিবেচনার) দায়েরের সুযোগ পাবে। আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে রিভিউ পিটিশন করতে হবে। সুপ্রিম কোর্টে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। গতকাল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নিরাপত্তাজনিত মহড়াও দিতেও দেখা গেছে। সন্ধ্যার পর থেকেই সুপ্রিম কোর্টের প্রতিটি প্রবেশ ফটকে ও ভেতরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সকাল থেকেই মত্স্য ভবন মোড়, দোয়েল চত্বর, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের আশে-পাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তল্লাশি করা হচ্ছে সুপ্রিম কোর্টে আসা বিচারপ্রার্থী জনগণকে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ কাদের মোল্লাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। এর মধ্যে দুইটিতে—পঞ্চম অভিযোগ (আলুব্দীতে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ) এবং ষষ্ঠ অভিযোগে (হযরত আলী, তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা ও ধর্ষণ) তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া প্রথম অভিযোগ (পল্লব হত্যা), দ্বিতীয় অভিযোগ (কবি মেহেরুননিসা ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা) ও তৃতীয় অভিযোগে (সাংবাদিক খন্দকার আবু তালেব হত্যা) কাদের মোল্লাকে ১৫ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়। চতুর্থ অভিযোগ (ঘাটার চর ও ভাওয়াল খানবাড়ি হত্যাকাণ্ড) থেকে তাকে খালাস দেয় ট্রাইব্যুনাল। কিন্তু অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরেও তাকে কেন মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়নি এমন দাবিতে শাহবাগে আন্দোলন শুরু করে গণজাগরণ মঞ্চ। এরপরই গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে সংশোধনী এনে ট্রাইব্যুনালের যে কোন রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষকে আপিলের সুযোগ দেয়া হয়। এরপরই কাদের মোল্লার সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করে রাষ্ট্রপক্ষ। পাশাপাশি বেকসুর খালাস চেয়ে আপিল দায়ের করেন কাদের মোল্লা।