জলাতঙ্ক প্রতিষেধক সরবরাহ বন্ধ
প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২৩:৩৭
মরণব্যাধি জলাতঙ্ক রোগের প্রতিষেধক এআরআই ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ থাকার কথা স্বীকার করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা। গতকাল সোমবার বিকাল ৩টা থেকে মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে এ ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে এক সপ্তাহ যাবত্ ঢাকার বাইরে সকল চিকিত্সা সেবা কেন্দ্রেও জলাতঙ্ক প্রতি-রোধের ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ ছিল।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে দৈনিক গড়ে ৪ শতাধিক কুকুরের কামড়ে আহত রোগী আসছে। কুকুরের ক্ষিপ্রতা ও হিংস্রতা এমন যে, সারা শরীরে কামড়ে ক্ষত-বিক্ষত করে ফেলে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শিশুরাই কুকুরের কামড়ের শিকার। এ রোগ প্রতিরোধে নির্ধারিত সময়ে ৪ ডোজ ভ্যাকসিন দেয়া ছাড়া কোন চিকিত্সা নেই। আর আহতদের ৯০ ভাগই দরিদ্র। এদের পক্ষে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কেনাও সম্ভব হয় না বেশিরভাগ সময়ে। তাই সরকারিভাবে সরবরাহকৃত ভ্যাকসিনই তাদের একমাত্র ভরসা। ভ্যাকসিন না থাকায় গতকাল থেকে বিপুল-সংখ্যক আহতকে শুধু ড্রেসিং করে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল থেকে ফেরত দেয়া হয়।
কর্তব্যরত চিকিত্সক বলেন, আহতদের সময়মতো ভ্যাকসিন না দিলে তাদের মরণব্যাধি জলাতঙ্ক রোগ হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ নিশ্চিত। আর জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হলে মৃত্যুও এক প্রকার নিশ্চিত বলে জানান চিকিত্সকরা। এ রোগের একমাত্র চিকিত্সাই যেখানে প্রতিরোধ সেখানে দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা সংকট সমাধানে অনেকটাই ব্যর্থ। বেশ কিছুদিন ধরে কুকুরে কামড়ানোর হার বেড়ে গেলেও তারা জরুরি ভিত্তিতে ভ্যাকসিন না কিনে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিচ্ছেন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ও লাইন ডাইরেক্টর কুকুর কামড়ে প্রকল্পের অধ্যাপক ডা. বেনজীর আহমেদ বর্তমানে বিদেশে রয়েছেন। এ ধরনের অতীব জরুরি কার্যক্রমের প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে তিনি বিদেশে চলে যাওয়ায় অনেকেই অবাক হয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডা. বেনজীর আহমেদ প্রতি মাসে ৪ থেকে ৫ বার বিদেশে যান। জলাতঙ্কের মতো মরণব্যাধি প্রতিরোধের সরবরাহ বন্ধের জন্য কর্মকর্তারা তার এ গাফিলতিকে দায়ী করেছেন। প্রকল্পের টাকা খরচ করে তিনি শুধু বিদেশ ভ্রমণ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। ঐ প্রকল্পের লুটপাটের টাকার ভাগ মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের কতিপয় কর্মকর্তার পকেটেও যায় নিয়মিত। এক কর্মকর্তা জানান, এআরআই ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ থাকায় প্রতিদিন গড়ে ৫ শতাধিক কুকুরে কামড়ে আহতদের জীবন বিপন্ন হওয়ার পথে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. খন্দকার মো. সিফায়েত উল্লাহ ইত্তেফাককে বলেন, জরুরি ভিত্তিতে কুকুরে কামড়ে ভ্যাকসিন কেনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আগামী ২/১ দিনের মধ্যে এ সমস্যা সমাধান হবে।