পটুয়াখালী প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

দুই বন্ধুর সোলার ট্রাকিং সিস্টেম

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং প্রকৌশল অনুষদের ২০১০-১১ সেশনের ৬ষ্ঠ সেমিষ্টারের ছাত্র নাজমুস সাকিব ও মিমো সাহা তৈরি করেছে সোলার ট্রাকিং সিস্টেম। দীর্ঘ দিনের নিরলস পরিশ্রমে তারা এটি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এ সিস্টেমটি মাইক্রোকন্ট্রোলার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। একটি স্টেপার মোটরের সহায়তায় এই সিস্টেমটি সূর্যের অবস্থানের পরিবর্তনের সাথে সাথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি সোলার প্যানেলকে ঘুরিয়ে দেয়। যাতে প্যানেলটি সর্বদা সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে সৌর প্যানেলটি প্রতিদিন সকাল থেকেই আস্তে আস্তে পশ্চিম দিকে হেলে যেতে শুরু করে এবং রাতের শেষে আবার পূর্বের অবস্থানে ফিরে আসে। সোলার প্যানেল থেকে প্রয়োজনীয় সৌর শক্তি নিয়ে এটি কাজ করতে সক্ষম। কিছু মেকানিক্যাল ইকুপমেন্টের সহায়তায় তৈরি সম্পূর্ণ অটোমেটেড এই সিস্টেমটি ২ থেকে সাড়ে চার কেজি ওজনের সৌর প্যানেল নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। নাজমুস সাকিব বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলার বলইবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং বাগেরহাট সরকারি পি.সি. কলেজ থেকে এইচএসসি এবং মিমো সাহা বরিশালের উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং সরকারি বরিশাল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। দেশে বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ আরও অনেক সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে সৌর বিদ্যুতের প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। তাছাড়া গ্রামাঞ্চলে বর্তমানে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়েই চলছে। কিন্তু এসব সোলার প্যানেল স্থির থাকার কারণে দিনের বেলায় সব সময় সূর্যের আলো সরাসরি পড়ে না। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২৪-২৯ ভাগ শক্তির অপচয় হয় সূর্য রশ্মি সোলার প্যানেলে তীর্যকভাবে আপতিত হওয়ার জন্য। তাই সোলার প্যানেলগুলোকে যদি এই পদ্ধতি প্রয়োগ করে তৈরি করা হয় তাহলে সৌর শক্তির এই বিপুল পরিমাণ অপচয় রোধ করা সম্ভব। উল্লেখ্য, ইউরোপের কিছু দেশে ইতোমধ্যেই এই পদ্ধতির ব্যবহার শুরু হয়েছে। সিস্টেমের উদ্ভাবক নাজমুস সাকিব ও মিমো সাহা বলেন, সৌর বিদ্যুত্ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ যদি এগিয়ে আসে তাহলে সহজেই এটিকে ব্যবহারকারীদের নিকট পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে।