শিক্ষকের কথা

দেশকে এগিয়ে নিতে চাই

বাবা ছোটবেলা থেকেই বড় বড় মনীষীদের জীবনী পড়তে বলতেন। প্রায় সবাই কোন না কোন বিষয়ে পিএইচডি করা। অনেকেই বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অথবা বড় বড় গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা। তখন থেকেই স্বপ্ন দেখা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার। পরিশ্রমের সাথে স্রষ্টা প্রদত্ত মেধাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে পেয়েছেন কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়ে নিজের স্বপ্নকে পূরণ করেছেন নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার রামাগাড়ী গ্রামের মৃত হুজুর আলী মিয়া ও ফাতেমা বেগমের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান মো. কামরুজ্জামান। সাফল্যের সাথে ১৯৯৬ সালে নাটোরের বনপাড়া সেন্ট যোসেফস্ হাইস্কুল থেকে এসএসসি ও ১৯৯৮ সালে রাজশাহীর নিউ গভ: ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ভর্তি হন দক্ষিণ-এশিয়ার কৃষি শিক্ষার সর্বশ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি)। ‘প্রকৃতি কন্যা’খ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে খুঁজে পান স্বপ্ন বাস্তবায়নের সিঁড়ি। অক্লান্ত পরিশ্রম করে পশুপালন অনুষদ থেকে অনার্সে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। ফল প্রকাশের কিছুদিন পর ২০০৪ সালের ১৯ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপালন অনুষদের পশুপুষ্টি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। সেদিন তাঁর বয়স ২৩-এর ঘরে। স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাঁর পথ চলা শুরু। পরবর্তীতে মাস্টার্সেও প্রথম স্থান অধিকার করেন। বর্তমানে তিনি পশুপুষ্টি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। মেধার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৫ সালে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক, ২০০৯ সালে শিক্ষামন্ত্রী কর্তৃক প্রফেসর আব্দুস সালাম মিয়া স্বর্ণপদক এবং ২০১১ সালে রাষ্ট্রপ্রতি কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয় পুরস্কারে ভূষিত হন। পরে জাপান সরকারের বৃত্তি নিয়ে জাপান থেকে সদ্য সাফল্যের সাথে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। তিনি মনে করেন, স্বপ্ন কখনো মরে না, যদি কেউ সত্, নিষ্ঠা, পরিশ্রমের সাথে তার জ্ঞানকে কাজে লাগায়। ব্যক্তি হিসাবে সদালাপী, হাস্যোজ্জ্বল, মিশুক এবং সুযোগ পেলেই ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করেন। গান শুনতে ও গাইতে ভালবাসেন। ভবিষ্যতে ক্যান্সার প্রতিরোধে কাজ করার ইচ্ছা তার। একজন কৃষিবিজ্ঞানী হিসেবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান। দেশের কৃষি ও কৃষকদের মাঝে নিজেকে উত্সর্গ করে কৃষিভিত্তিক প্রিয় মাতৃভূমি, সামনের দিনগুলোতে এগিয়ে নিতে স্বপ্ন দেখেন তিনি।