জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ এর উদ্দেশ্যাবলি অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ বাহন

জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ এর উদ্দেশাবলি অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ বাহন (Vehicle) হচ্ছে শিখন শেখানোর নানাবিধ কার্যক্রম। উক্ত শিক্ষাক্রম দলিলে/ডকুমেন্ট-এ মাধ্যমিক শিক্ষার উদ্দেশ্যসমূহ অর্জনে শিক্ষক-কেন্দ্রীক (Teachers Centered) পদ্ধতি পরিহার করে শিক্ষার্থী-কেন্দ্রীক (Student Centered) পদ্ধতি/কৌশল প্রয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। শিক্ষার্থী-কেন্দ্রীক (Student; Centered) যেসব পদ্ধতি ব্যবহারের উপর শিক্ষাক্রমে জোর দেওয়া হয়েছে তা হচ্ছে- প্রশ্ন-উত্তর, আলোচনা, দলগত আলোচনা, মাথা খাটানো, ভূমিকাভিনয়, প্রদর্শন, অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে শিখন, পরিদর্শন/শিক্ষাসফর, তাত্ক্ষণিক আত্মস্থকরণ, শ্রেণিতে পঠন, সিমুলেশন ও গেমস্, বিতর্ক, পরীক্ষণ প্রক্রিয়া, অনুসন্ধান ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এসব পদ্ধতি ও কৌশলের আওতায় শিক্ষক গতানুগতিক বক্তৃতা নির্ভর পাঠদানের পরিবর্তে এমন সব কার্যক্রম গ্রহণ করবেন যা শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে। যেমন- শিক্ষক কোন বিষয়ে পাঠদানের পূর্বে একটি পরিকল্পনা (Lesson Plan) করবেন এবং সে অনুযায়ী শ্রেণিতে শিক্ষাদানের সময় বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট বাস্তব কোন ঘটনা ও উদাহরণ, ছবি/চিত্র প্রদর্শন, বিতর্ক, পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে আলোচনা করবেন। এ ধরনের বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিষয়বস্তুর সাথে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে। এতে শিক্ষার্থীর শিখন অর্থবহ, আকর্ষণীয় এবং ফলপ্রসূ হয়। এ ধরনের পদ্ধতি ও কৌশল অনুসরণ করলে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল চিন্তন দক্ষতা বিকশিত হয়। অবশ্য জাতীয় শিক্ষাক্রমে কোন নির্দিষ্ট বিষয়/প্রস্তাবনা/ইস্যু পাঠদানে কোন বিশেষ শিখন শেখানোর কৌশল সুপারিশের পাশাপাশি এ ব্যাপারে শিক্ষকের পছন্দের স্বাধীনতা প্রদান করা হয়েছে। শিক্ষক শ্রেণিতে পাঠদানের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর বয়স, মানসিক পরিপক্কতা, শ্রেণিকক্ষের বাস্তব সুবিধা, প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাব্যতা, শিক্ষাপোকরণের সহজলভ্যতা, নিজের প্রস্তুতি ইত্যাদি বিবেচনা করে যে কোন পদ্ধতি/কৌশল নির্বাচন ও ব্যবহার করতে পারবেন। গতকাল প্রকাশিত লেখাটির শিরোনাম হবে ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ এর লক্ষ্য ও প্রধান প্রধান উদ্দেশ্য’ চলবে