ওয়ার্ল্ড এন্টারটেইনমেন্টের পাল্টা অভিযোগ

সিনিয়র শিল্পীরা হিংসার বশবর্তী হয়ে অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন

গত ১৬ সেপ্টেম্বর আইপি ফোরামের সংবাদে হামিন আহমেদের নামযুক্ত একটি প্রেস বিবৃতিতে কিছু প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বিনোদন প্রতিদিনে প্রকাশিত ‘আত্মস্বীকৃত সকল পাইরেটদের আইনের আওতায় আসতে বাধ্য করা হবে’ নামে একটি সংবাদের লিখিত প্রতিবাদ জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড এন্টারটেইনমেন্ট। ওয়ার্ল্ড এন্টারটেইনমেন্টের পক্ষে অনুপম রেকর্ডিংয়ের স্বত্বাধিকারী আনোয়ার হোসেন তার লিখিত বক্তব্যে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন। উক্ত সংবাদের মাধ্যমে বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের অত্যন্ত স্বনামধন্য সুপরিচিত কয়েকটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে। যা খুবই দুঃখজনক এবং অনভিপ্রেত। আমরা উক্ত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। উক্ত সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে শুধুমাত্র উল্লিখিত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিবর্গের মানহানীই করা হয়নি, বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের অনেক ক্ষতি করা হয়েছে। কারণ সংগীতাঙ্গনে অডিও ক্যাসেট, সিডি, ডিভিডির ব্যবহার যখন শূন্যের কোটায় এসে দাঁড়িয়েছে, তখন মোবাইল ও ইন্টারনেটের ব্যবহার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। উক্ত আধুনিক ও ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে বাংলাদেশের সংগীত জগতকে টিকিয়ে রাখার নতুন প্রচেষ্টার নাম ‘ওয়ার্ল্ড এন্টারটেইনমেন্ট লি.’। যেসব শিল্পীবৃন্দ আজকে প্রযোজক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পাইরেটস হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন তাদের বর্তমানে মার্কেটে কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই এবং তাদের কোনো গান এখন আর চলে না। তাই প্রযোজক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। এর বদৌলতে নতুন প্রজন্মের সব শিল্পী যেমন—শহীদ, আরফিন রুমি, কাজী শুভ, বালাম, হাবিব, ইমরান, ইলিয়াস, রাকিব মুছাব্বির, কিশোর, খেয়া, সাবা, আনিকা, পূজা, শশি, নওমী এদেরকে নিয়ে কাজ করছেন। এদের গানগুলোই এখন মানুষের মুখে মুখে শোনা যাচ্ছে। আর এটাই সেইসব শিল্পীবৃন্দ মেনে নিতে পারছেন না। এই কারণেই তারা হিংসার বশবর্তী হয়ে অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করছেন, যা অডিও শিল্পকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করিয়েছে। তাই নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা আমাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে তাদের এই হীন ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে সেই সব শিল্পীরা যদি তাদের এই ষড়যন্ত্র বন্ধ না করেন তাহলে তাদেরকেও আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য বলিষ্ঠ কণ্ঠে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ ছাড়াও সর্বস্বত্ব বিক্রি করে আবার কোনোরকম স্বত্ব দাবি করাও এক ধরনের অপরাধ বলে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো মনে করেন। এটাও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সাথে বিরাট প্রতারণার শামিল। তবে এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগোর সূত্রে প্রকাশক ও শিল্পীর দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছে। সমাধানের পথ না বের করে আরও অন্ধকারে যাচ্ছে পুরো সংগীত শিল্প।