‘২৭৬ এমপির এলাকায় ৩০ হাজার কিমি বিদ্যুত্ লাইন স্থাপন হবে’
প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:১৯
চলতি অর্থ বছরের মধ্যে ২৭৬ জন সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকায় প্রায় ৩০ হাজার কিলোমিটার বিদ্যুত্ লাইন স্থাপন করা হবে। ইতিমধ্যে ১০ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি লাইন স্থাপন করা হয়েছে। অপরদিকে সারাদেশে প্রায় তিন লাখ অবৈধ বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। বাপেক্স প্রতিনিয়ত অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মী হারাচ্ছে। এ পর্যন্ত ১৩১ জন ইস্তফা দিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন।
গতকাল মঙ্গলবার বিকালে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদকে বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এনামুল হকের অনুপস্থিতিতে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু এসব কথা জানিয়েছেন। গতকাল চলতি অধিবেশনের চতুর্থ কার্যদিবস পর্যন্ত বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল সংসদে যোগদান করেনি। বিএনপির কয়েকজন সংসদ সদস্য জানান, চলতি সপ্তাহের অবশিষ্ট দুই কার্য দিবসেও সংসদে তাদের যোগদান করার কোন সম্ভাবনা নেই।
চয়ন ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের সময় সর্বোচ্চ ছয় হাজার ৬৭৫ মেগাওয়াট (১২ জুলাই’২০১৩) বিদ্যুত্ উত্পাদিত হয়েছে। সরকার দায়িত্ব গ্রহণের দিন ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি বিদ্যুত্ উত্পাদনের পরিমাণ ছিলো তিন হাজার ২৬৮ মেগাওয়াট। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের সময় (৩০ অক্টোবর’২০০৫) সর্বোচ্চ বিদ্যুত্ উত্পাদনের পরিমাণ ছিলো তিন হাজার ৭৮২ মেগাওয়াট। আর চারদলীয় জোট সরকারের চেয়ে বর্তমান সরকারের সময় বিদ্যুত্ উত্পাদনের পরিমাণ দুই হাজার ৮৯৩ মেগাওয়াট বেশি।
হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড আওতাধীন এলাকায় ২৭৬ জন সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকায় গত অর্থ বছরে ১০ হাজার ১৯০ কিলোমিটার বিদ্যুত্ লাইন স্থাপন করা হয়েছে। আর চলতি অর্থ বছরে ঐসব সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকায় ১৮ হাজার ৫৪ কিলোমিটার বিদ্যুত্ লাইন স্থাপনের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। মো. নজরুল ইসলাম বাবুর প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে দুই লাখ ৮৩ হাজার ৭৬৫টি অবৈধ বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ২০০৯ সাল থেকে চলতি বছরের এ পর্যন্ত চার হাজার ৪৩২ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৫৭টি বিদ্যুত্ কেন্দ্র বাণিজ্যিকভাবে চালু হয়েছে। আর বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা হচ্ছে সাত হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে উত্পাদন ক্ষমতা হলো ছয় হাজার ২০০ থেকে ছয় হাজার ৭০০ মেগাওয়াট। অপু উকিলের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, হরতালকারীদের কারণে পল্লী বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপকেন্দ্র সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ ২০০ কোটি টাকা।
প্রসঙ্গ বাপেক্স
নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের সময় বাপেক্সকে শক্তিশালী করায় কাজের ক্ষেত্র ও পরিসর অনেকাংশে বেড়েছে। কিন্তু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা প্রদান করতে না পারায় বাপেক্স থেকে অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মীদের প্রতিনিয়ত হারাতে হচ্ছে। ২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১৩১ জন কর্মকর্তা ইস্তফা দিয়ে অন্যত্র চাকরি নিয়ে চলে গেছেন। এর মধ্যে বর্তমান সরকারের সময় ২৩ জন দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা চাকরিতে ইস্তফা দিয়েছেন। অপরদিকে ১০৩ জন কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানে ব্যয় ১২০৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা
এ কে এম রহমতুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ২৫টি গ্যাস ক্ষেত্রের মধ্যে ২০টি থেকে গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। দিনে উত্পাদনের পরিমাণ হচ্ছে দুই হাজার ৩১৫ দশমিক পাঁচ মিলিয়ন ঘনফুট। মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, গত চার বছরে খনিজ সম্পদ (তেল ও গ্যাস) অনুসন্ধানে এক হাজার ২০৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।
নাছিমুল আলম চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, গত ২০ জুন পর্যন্ত তিতাস গ্যাসের আওতাধীন এলাকায় লক্ষাধিক অবৈধ আবাসিক গ্যাস সংযোগ বৈধ করার আবেদন জমা পড়েছে। এসব অবৈধ সংযোগ বৈধ করার বিষয়টি বর্তমানে বিবেচনাধীন রয়েছে।