আলোচিত ১১ হত্যা মামলার তদন্তে অগ্রগতি নেই

রাজধানীতে ১১টি আলোচিত হত্যা মামলার তদন্তে কোন কুলকিনারা হয়নি। এরমধ্যে ৯টি মামলার তদন্তভার থানা পুলিশের হাত ঘুরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে স্থানান্তর করা হয়েছে। শ্রমিক লীগ নেতা মোক্তার হোসেন হত্যা মামলাটি রমনা থানা পুলিশ তদন্ত করছে। ডিবিতে তদন্ত করা মামলাগুলো হলো রামপুরায় সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফজলুল করিম হত্যা, মালিবাগে শ্রমিক লীগ নেতা মোক্তার হোসেন হত্যা, মতিঝিলে নটরডেম কলেজের সামনে প্রবাসী সাব্বির হোসেন খুন, পল্লবীতে ৯২ নম্বর ওয়ার্ড পশ্চিম ইউনিটের যুবলীগ সভাপতি শাহ আলী ওরফে রকি হত্যা, তোপখানা রোডের নিশাত বানু হত্যা, দক্ষিণখানে সাবেক সেনাকর্মকর্তা নাছির উদ্দিন ও তার স্ত্রী মাহমুদা আক্তার হত্যা, হাজারীবাগে আইনজীবী দম্পতির মেয়ে তাসনিম রহমান করবী হত্যা, ক্রিকেটার কুন্তল হত্যা, আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনের ছেলের গাড়ি চালক হানিফ সিকদার খুন ও মতিঝিলে পুলিশ সদস্য বাদল হত্যা। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ফজলুল করিম হত্যা মামলার তদন্ত অনেক দূর এগিয়েছে। যুবলীগ নেতা মোক্তার হোসেন হত্যাকারী শনাক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনাটির আসামি গ্রেফতারের কাজ চলছে। নটরডেম কলেজের সামনে প্রবাসী খুনের ঘটনাটির তদন্ত অনেকখানি শেষ হয়েছে। বাকি মামলাগুলোর ব্যাপারে তিনি বলেন, ঐ মামলাগুলোরও তদন্ত কাজ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। ফজলুল করিম হত্যা মামলা :গত ২৯ আগস্ট পশ্চিম রামপুরার ৭৫/২ নম্বর বাড়িতে সন্ত্রাসীরা ঢুকে গুলি করে সিআইডি’র সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফজলুল করিম খানকে হত্যা করে। এই মামলায় ডিবি পুলিশের তদন্তের অগ্রগতি বলতে তার গাড়ি চালকসহ পরিবারের পাঁচ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ। মোক্তার হোসেন হত্যা: রামপুরায় শ্রমিক লীগ নেতা মোক্তার হোসেন হত্যা মামলার আসামি আবুল কালাম ওরফে আবুল ও মোমিন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ গ্রেফতার করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এ মামলার তদন্তভার রমনা থানা পুলিশের হাতে থাকলেও ছায়া তদন্ত করছে ডিবি। এ ব্যাপারে রমনা থানার ওসি মশিউর রহমান বলেন, হত্যা মামলার প্রধান আসামির আত্মগোপনের স্থান শনাক্ত করা হয়েছে। ঢাকার বাইরে একটি এলাকায় ঐ আসামি অবস্থান করছে। তাকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে। যুবলীগ নেতা শাহ আলী রকি হত্যা: গত ১ সেপ্টেম্বর পল্লবীতে ৯২ নম্বর ওয়ার্ড পশ্চিম ইউনিটের যুবলীগ সভাপতি রকিকে প্রকাশ্যে দিনের বেলায় কুপিয়ে হত্যা করা হয়। রকির বাবা মতিউর রহমান বাদী হয়ে স্থানীয় যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাত নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। এ মামলায় পুলিশ ৯২ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গিয়াস ও মনিরকে আটক করে। প্রবাসী সাব্বির হোসেন হত্যা: গত ৩১ আগস্ট রাতে মতিঝিলে নটরডেম কলেজের সামনে সাব্বির হোসেন নামে এক প্রবাসী যুবককে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মেহেদী হাসান বলেন, এ হত্যার সঙ্গে জড়িত মতিঝিল এলাকার একজন ইয়াবা ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হলে এ খুনের রহস্যের উন্মোচন হবে। আইনজীবী দম্পতির মেয়ে হত্যা: গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর হাজারীবাগে আইনজীবী দম্পতির মেয়ে তাসনিম রহমান করবী (১৩) হত্যার ঘটনাটিও এখনও রহস্যময়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি দুই মাস ধরে তদন্ত শেষে ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়। ডিবি পুলিশ ছয়জনকে আটক করলেও এ হত্যার এখনও রহস্য উন্মোচন করতে পারেনি। স্ত্রীসহ সাবেক সেনা কর্মকর্তা হত্যা: গত বছরের ৩১ জুলাই দিনে-দুপুরে দক্ষিণখানের সৈয়দনগরের বাসায় ঢুকে সাবেক সেনা কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন (৬৩) ও তার স্ত্রী মাহমুদা আক্তারকে (৫৮) হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার ১৪ মাস পরেও প্রায় এক বছর হয়ে গেলেও ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে পারেনি ডিবি পুলিশ। এছাড়া গণজাগরণ মঞ্চের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য বাদল মিয়া খুন, রাজধানীর তোপখানা রোডের বাসিন্দা নিশাত বানু হত্যাকাণ্ড, আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনের ছেলের গাড়ি চালক হানিফ সিকদার ও ক্রিকেটার কুন্তল চন্দ হত্যা মামলা পুলিশ থেকে ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়েছে।