বিশ্বব্যাংকের ঋণ :চুরির ঘটনা ঘটছে বিভিন্ন দেশে

বিশ্ব ব্যাংক ২০০৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত দরিদ্র দেশগুলোর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ২০০ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা দিয়েছে। এর মধ্যে ৪০ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তায় চুরির ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ব ব্যাংক এ ধরনের চুরি ঠেকাতে ব্যবস্থা নিতে চায়। এই কারণে প্রতিষ্ঠানটি গত এক বছরে ৩০৭ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। উন্নয়ন ব্যাংকটির নতুন এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী অন্য বছরের তুলনায় গত এক বছরে কালো তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। এদিকে, এই কালো তালিকার মধ্যে অন্যতম প্রতিষ্ঠান হলো পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরামর্শক কানাডার বহুজাতিক কোম্পানি এসএনসি লাভালিন। বিশ্ব ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১০ বছরে লাভালিন ও এর সংশ্লিষ্ট ১০০ প্রতিষ্ঠানকে বিশ্ব ব্যাংকের কোন প্রকল্পে কাজ দেয়া হবে না। বহুজাতিক নির্মাণ প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে তিন বিলিয়ন ডলারের পদ্মা সেতু প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিল। যদিও দুর্নীতির অভিযোগে পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ব ব্যাংক। গত সোমবার ব্রিটিশ গণমাধ্যম ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমসের এক অন লাইন প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়। এতে বলা হয়, গত জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত কালো তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৫২। ২০১২ সালে এ সংখ্যা ছিলো মাত্র ৬৫। কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ২৯ শতাংশ হলো উত্তর আমেরিকার, ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ায় এই হার ২১ শতাংশ। আফ্রিকার দেশগুলোতেই বেশি জালিয়াতির ঘটনা ঘটে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, সাধারণত পাঁচটি খাতে বিশ্ব ব্যাংক তাদের দুই-তৃতীয়াংশ অর্থ সহায়তা দিয়ে থাকে। এগুলো হলো- স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, কৃষি, জ্বালানি ও পানি খাতের উন্নয়ন প্রকল্প। ঋণ ছাড়ের পদ্ধতি পর্যালোচনার জন্য গত ৩ জুলাই বিশ্ব ব্যাংকের আইন বিভাগের পরামর্শ প্রক্রিয়া শুরুর পর এই কালো তালিকা ও ঋণের অপব্যবহারের তথ্য প্রকাশ পায়। এ পরামর্শ প্রক্রিয়া ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হবে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন আগামী বছরের যে কোনো সময় প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।