কাদের মোল্লার ফাঁসি
প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৫০
জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লাকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। মুক্তিযুদ্ধকালে ঢাকার মিরপুরের হযরত আলী লস্কর নামে এক ব্যক্তিকে সপরিবারে হত্যা ও তার শিশু কন্যাকে (১১) ধর্ষণের দায়ে এ দণ্ড দেয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের সভাপতিত্বে আপিল বিভাগের ৫ বিচারপতির বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের ভিত্তিতে এ রায় ঘোষণা করে। একজন বিচারপতি মৃত্যুদণ্ড দেয়ার ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করেন। তবে কাদের মোল্লাকে ওই অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করার বিষয়ে ৫ জনই একমত পোষণ করেছেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এই প্রথম যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া কোন রায়ের আপিলের নিষ্পত্তি হলো।
কাদের মোল্লার আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক এই রায়কে নজিরবিহীন ভুল রায় বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, বিচারিক আদালতে কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া না হলে আপিল আদালতে এই দণ্ড দেয়ার নজির বাংলাদেশে নেই। আপিল বিভাগের এই রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশন দাখিল করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। রায়ের পরই রিভিউ পিটিশন দাখিল করা হবে- এই কারণে দণ্ডাদেশের কার্যকারিতা স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়ে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় একটি পিটিশন দাখিল করেছেন কাদের মোল্লার আইনজীবী। তবে এটর্নি জেনারেল এডভোকেট মাহবুবে আলম বলেছেন, আইনে রিভিউ পিটিশনের কোন সুযোগ নেই। রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর জেল কর্তৃপক্ষ ফাঁসি কার্যকরের পদক্ষেপ নেবে। তিনি বলেন, যারা স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বিদেশি সৈন্যদের সঙ্গে যোগসাজশে নিজ দেশের মানুষকে হত্যা করেছে তাদের শাস্তি না হলে স্বাধীনতা অসম্পূর্ণ থেকে যেত।
দীর্ঘ ৩৯ দিনের শুনানি শেষে গতকাল মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দৈনন্দিন কার্যতালিকার এক নম্বরে ছিল। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গতকাল সুপ্রিম কোর্টে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। শত শত পুলিশ, র্যাব ও বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সুপ্রিম কোর্ট ঘিরে রাখেন। সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে আইনজীবী, সাংবাদিক ও বিচারপ্রার্থীদের প্রবেশের জন্য আপিল বিভাগের এজলাশের ফটক উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। একেএকে আসতে থাকেন সরকার ও আসামি পক্ষের আইনজীবীরা। তারা একে অপরের সঙ্গে আলাপচারিতায় মেতে ওঠেন। জনাকীর্ণ আদালতে এভাবেই কেটে যায় প্রায় এক ঘন্টা। ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল সাড়ে ৯ টা। হঠাত্ করেই প্রধান বিচারপতির এক নম্বর এজলাশে নেমে আসে পিনপতন নীরবতা। জ্যেষ্ঠতার ক্রম অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বিচারপতি এস কে সিনহা, বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এবং বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী আসন গ্রহণ করেন। এর কিছুক্ষণ পর অর্থাত্ ৯টা ৩৫ মিনিটে কাদের মোল্লার রায় ঘোষণা করেন প্রধান বিচারপতি। রায়ের আদেশের সংক্ষিপ্ত অংশটুকু পড়ে শোনান তিনি।
আদেশে বলা হয়, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের (৪:১) ভিত্তিতে সরকারের আপিল মঞ্জুরের কথা বলা হয়। এতে বলা হয়, হযরত আলী, তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা ও ধর্ষণের ৬ নম্বর অভিযোগে কাদের মোল্লাকে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলো। এ অভিযোগে বলা হয়েছে, আবদুল কাদের মোল্ল¬া মুক্তিযুদ্ধের সময় তার আলবদর বাহিনী নিয়ে শহীদ হযরত আলী লস্করের বাড়িতে ঢুকে মধ্যযুগীয় তাণ্ডব চালান। ঢাকার মিরপুরের ১২নং সেকশনের কালাপানির ৫নং লাইনের ২১ নম্বর বাড়িতে এই তাণ্ডব চালানো হয়। সেখানে আবদুল কাদের মোল্ল¬ার নির্দেশে হযরত আলী লস্করকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তার স্ত্রী আমেনা এবং শিশুকন্যা খোদেজা ও তাছলিমাকে জবাই করা হয়। ছোট ছেলে বাবুু-যার বয়স মাত্র ২ বছর, তাকে মাটিতে আছাড় দিয়ে হত্যা করা হয়। পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয় দ্বিতীয় মেয়ে আমেনাকে (১১)। ইতিপূর্বে ট্রাইব্যুনাল এই অপরাধ সংঘটনে কাদের মোল্লার নৈতিক সমর্থন ও সাহায্যের দায়ে যাবজ্জীবন দণ্ড দিয়েছিল।
আদেশে আরো বলা হয়, ঘাটার চর ও ভাওয়াল খানবাড়ি হত্যাকাণ্ডের চার নম্বর অভিযোগ থেকে ট্রাইব্যুনাল আসামিকে যে খালাসের আদেশ দিয়েছিল তা বাতিল ঘোষণা করা হল। এই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হল। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনীত ফরমাল চার্জে বলা হয়েছিলো, ১৯৭১ সালের ২৫ নভেম্বর সকাল সাড়ে সাতটা থেকে ১১টা পর্যন্ত কাদের মোল্লা ও ৬০-৭০ জন রাজাকার কেরানীগঞ্জ থানার ভাওয়াল খানবাড়ি ও ঘাটার চর (শহীদনগর) এলাকায় শতাধিক নিরস্ত্র গ্রামবাসী ও দু’জন নিরস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেন। এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়েছিল, রাষ্ট্রপক্ষের সপ্তম সাক্ষী আবদুল মজিদ পালোয়ান ও অষ্টম সাক্ষী নূরজাহান বেগম যে আসামিকে চিনতেন, তা প্রাপ্ত সাক্ষ্যে ট্রাইব্যুনাল বিশ্বাস করতে পারেননি। ফলে এটা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হয় না যে ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পাকিস্তানি সহযোগীদের সঙ্গে রাইফেল হাতে কাদের মোল্লা নিজে উপস্থিত ছিলেন। হত্যাকাণ্ড যে ঘটেছিল, তা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই, কিন্তু এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আসামির সংশ্লিষ্টতা প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু আপিল বিভাগ ট্রাইব্যুনালের এই রায়ের এই অংশ বাতিল ঘোষণা করে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে সংক্ষিপ্ত আদেশে জানিয়েছে। এই অভিযোগে তাকে যাবজ্জীবন দণ্ড দেয়া হয়।
ট্রাইব্যুনালের দেয়া চার অভিযোগের দণ্ড বহাল
এক নম্বর অভিযোগ (পল্লব হত্যা), দুই নম্বর অভিযোগ (কবি মেহেরুন্নিচ্ছা ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা), তিন নম্বর অভিযোগে (দৈনিক ইত্তেফাকের সাংবাদিক খন্দকার আবু তালেব হত্যা) ১৫ বছর করে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ নম্বর অভিযোগে (আলুব্দীতে ৩৪৪ জনকে হত্যা) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। আপিল বিভাগ ট্রাইব্যুনালের এ রায় বহাল রেখেছে। প্রসঙ্গত অভিযোগ-১ এ বলা হয়েছে, আলবদর বাহিনীর নেতা আসামি আবদুল কাদের মোল্ল¬া ও তার সহযোগী অবাঙালি বিহারিদের নিয়ে বাংলা কলেজের ছাত্র পল্লবকে ধরে নিয়ে মিরপুর ১২ নম্বর থেকে ১ নম্বর এবং ১নং শাহ আলী মাজার থেকে হাতে দড়ি বেঁধে টেনেহিঁচড়ে পুনরায় মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনে ঈদগাহ মাঠে নিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। পল্লবের দেহ দু’দিন ঝুলিয়ে রেখে কাদের মোল্লার সহযোগী আলবদর বাহিনীর সদস্য ও অবাঙালি বিহারিরা পল্লবের আঙুলগুলো কেটে ফেলে এবং ৫ই এপ্রিল আসামির নির্দেশে ও উপস্থিতিতে তার প্রধান সহযোগী আলবদরের আক্তার গুন্ডা পাঁচটি গুলি করে পল্ল¬বকে হত্যা করেন। অভিযোগ-২ এ বলা হয়, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধচলাকালে আলবদর বাহিনীর নেতা আসামি আবদুল কাদের মোল্ল¬া তার সহযোগী আলবদর সদস্য ও অবাঙালি বিহারিদের নিয়ে মিরপুরে কবি মেহেরুন্নেসাকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। এই হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য দেখে ওই বাড়ি সিরাজ নামে এক ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। অভিযোগ-৩ এ বলা হয়েছে, ২৯শে মার্চ সাংবাদিক খন্দকার আবু তালেব, পিতা-মৃত খন্দকার আবদুর রউফ, সেকশন-১০, ব্ল¬¬ক-বি, রোড নং-২, প্ল¬¬ট-১৩ মিরপুর-ঢাকার আরামবাগ থেকে তার নিজ বাড়ির অবস্থা দেখতে যান। বাসার সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ায় তিনি পুনরায় আরামবাগের উদ্দেশে রওনা দেয়ার জন্য মিরপুর-১০নং বাসস্ট্যান্ডে গেলে স্থানীয় আলবদর বাহিনীর নেতা আসামি আবদুল কাদের মোল্ল¬া তার সহযোগী আলবদর বাহিনীর সদস্য ও অবাঙালি বিহারীদের নিয়ে বাসে ওঠার আগেই খন্দকার আবু তালেবকে ধরে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলেন। এরপর তাকে মিরপুর জলল্লাদখানা পাম্প হাউসে নিয়ে যান। এরপর আসামি আবদুল কাদের মোল্লার নির্দেশে ও উপস্থিতিতে তাকে জবাই করা হয়। ৫ নম্বর অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল। এ রায়ও আপিল বিভাগ বহাল রেখেছে। পাঁচ নম্বর অভিযোগে বলা হয়, কাদের মোল্ল¬ার নেতৃত্বে একাত্তরের ২৪শে এপ্রিল আলবদর বাহিনীর প্রায় ৫০ জন সদস্য পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহায়তায় আলোকদী গ্রাম ঘিরে নির্বিচারে গুলি করে ৩৪৪ জনকে হত্যা করে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ২৪শে এপ্রিল ফজরের নামাজের পর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী হেলিকপ্টারযোগে তুরাগ নদীর পাড়ে আলোকদী গ্রামের পশ্চিম পাশে অবতরণ করে। পূর্বদিক থেকে স্থানীয় আলবদর বাহিনীর নেতা আসামি আবদুল কাদের মোল্ল¬া তার সহযোগী আলবদর বাহিনীর প্রায় ৫০ জন সদস্য ও কতিপয় অবাঙালি বিহারীদের সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সদস্যদের সহায়তায় ও যোগসাজশে আলোকদী গ্রাম ঘিরে ফেলে নিরীহ নিরস্ত্র মানুষের উপর নির্বিচারে গুলি চালায়। এখানে বাসু মিয়া, জহিরুল হক ওরফে জোরা মোল্ল¬া, জেরাত আলী, ফোয়াদ আলী, শুকুর মিয়া, আওয়াল মোল্ল¬া, ছলে মোল্ল¬া, রুস্তম আলী ব্যাপারী, করিম মোল্ল¬া, জয়নাল মোল্ল¬া, কাশেম মোল্ল¬া, বদরউদ্দিন, বিষু মোল্ল¬া, অজল হক, ফজল হক, রহমান ব্যাপারী, নবী মোল্ল¬া, আলামত মিয়া, মোকলেছুুর রহমান, ফুলচান, নওয়াব মিয়া, ইয়াছিন ভানু, লালুচান বেপারী, সুনু মিয়াসহ ৩৪৪ জনকে হত্যা করা হয়।
প্রসঙ্গত গত ৫ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ কাদের মোল্লাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে। কিন্তু অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরেও তাকে কেন মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়নি এমন দাবিতে শাহবাগে আন্দোলন শুরু করে গণজাগরণ মঞ্চ। এরপর গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে সংশোধনী এনে ট্রাইব্যুনালের যে কোন রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষকে আপিলের সুযোগ দেয়া হয়। একইসঙ্গে আপিল দায়েরের ৬০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তির কথা ওই সংশোধনীতে উল্লেখ করা হয়। এরপরই কাদের মোল্লার সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করে রাষ্ট্রপক্ষ। পাশাপাশি বেকসুর খালাস চেয়ে আপিল করেন কাদের মোল্লা। গত পহেলা এপ্রিল এই আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়। আপিলের শুনানিকালে দুটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। একটি হলো, দণ্ড ঘোষণার পর আইনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে আনা সর্বশেষ সংশোধনী কাদের মোল্লার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কি না? দ্বিতীয়টি হচ্ছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন ১৯৭৩-এর অধীনে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রথাগত আন্তর্জাতিক আইন প্রযোজ্য হবে কি না? এই দুটি প্রশ্নের উপর আইনগত মতামত জানতে গত ২০ জুন সুপ্রিম কোর্টের শীর্ষ সাত আইনজীবীকে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ দেয় আপিল বিভাগ। অ্যামিকাস কিউরিদের মধ্যে ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, এডভোকেট মাহমুদুল ইসলাম, ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি ও ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ বলেন, সর্বশেষ সংশোধনী বৈধ এবং তা কাদের মোল্লার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তবে এডভোকেট টিএইচ খান ও এডভোকেট এএফ হাসান আরিফ বলেন, এ সংশোধনী তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। অন্যদিকে প্রথাগত আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মতের প্রতিফলন দেখা যায়।
যারা মামলা পরিচালনা করেছেন
সরকার পক্ষে আপিল শুনানি করেন এটর্নি জেনারেল এডভোকেট মাহবুবে আলম ও অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল এডভোকেট এম কে রহমান। আসামি পক্ষে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ও এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন শুনানি করেন। তাদের সহায়তা করেন এডভোকেট শিশির মুহাম্মদ মুনির।