স্বেচ্ছায় বিদেশ গমনেচ্ছুক পুলিশ কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল

সরকারের শেষ সময় এসে একশ্রেণির পুলিশ কর্মকর্তা স্বেচ্ছায় লম্বা ছুটিতে বিদেশে যাওয়ার জন্য সদর দফতরে আবেদন করেছেন। কিন্তু আবেদনে যেসব কারণে ছুটির কথা উল্লেখ করেছেন তা শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে রহস্যজনক। একটি গোয়েন্দা সংস্থা ঐসব কর্মকর্তার স্বেচ্ছায় লম্বা ছুটিতে যাওয়ার বিষয়গুলো অনুসন্ধান করে দেখছে। গোয়েন্দা সংস্থা জানায়, কেউ কেউ ৬ মাস থেকে এক বছর কিংবা এর অধিক সময়ের জন্য ছুটির আবেদন করেছেন। এদের অনেকে দলীয় পরিচয়ে সরকারের কাছ থেকে অনেক সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন। ১৫ থেকে ১৭ জন কর্মকর্তা জুনিয়র থাকা সত্ত্বেও দলীয় বিবেচনায় পদোন্নতি পেয়েছেন। আর্থিকভাবে বিত্তশালী হয়েছেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব কর্মকর্তার বিদেশ যাওয়া নিয়ে পুলিশ প্রশাসনে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। কারো কারো মতে, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষা করতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে নানা পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বর্তমান পরিস্থিতিতে পুলিশকে কঠিন ভূমিকা পালন করতে হবে। যে কোন সময়ে সহিংস ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু একশ্রেণির পুলিশ কর্মকর্তা গত সাড়ে চার বছর দলবাজি করে সরকারের অনেক সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন। এ সুবিধাবাদী পুলিশ কর্মকর্তারাই এখন অপ্রীতিকর ঘটনা থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে বিদেশে পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করছেন। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব পালন না করে বিদেশে যাওয়ার পেছনে তাদের মূল উদ্দেশ্য গত সাড়ে চার বছরে অবৈধভাবে আয় করা পুঁজি ঠিক রাখা। সরকারের পট পরিবর্তন হলেও এদের জন্য দল পরিবর্তনের সুযোগ থাকে। তাই আগে থেকেই দুরভিসন্ধিমূলক লম্বা ছুটির জন্য আবেদন করছেন এসব পুলিশ কর্মকর্তা। ইতিমধ্যে দুই কর্মকর্তা শীর্ষ প্রশাসনে প্রভাব খাটিয়ে ছুটি মঞ্জুর করেছেন। এ নিয়ে শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, কয়েকজন কর্মকর্তা ছুটির আবেদন করেছিলেন। এই সময়ে ছুটি মঞ্জুর করা সম্ভব নয় বলে তাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে। সরকারি সভা-সেমিনারে অংশগ্রহণের জন্য কিংবা চিকিত্সার স্বল্প সময়ে ছুটি ব্যতীত স্বেচ্ছায় বিদেশে লম্বা ছুটি দেয়া হবে না।