অপকর্মের কারণে ইমেজ সংকটে সিলেট ছাত্রলীগ
হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী, সিলেট অফিস
প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৫২
কতিপয় নেতা-কর্মীর অপকর্মের কারণে সিলেটে ইমেজ সংকটে পড়েছে ছাত্রলীগ। বেশ কয়েকজন নেতার চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যকালাপের জন্য সাধারণ কর্মীদের পাশাপাশি বিব্রত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিলেট আওয়ামী লীগের মধ্যম সারির বেশ কয়েকজন নেতা বলেছেন, এদের কারণে তারা সাধারণ মানুষের কাছে মুখ দেখাতে পারছেন না। প্রতিটি ন্যায় সঙ্গত আন্দোলনে ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা থাকলেও এখন নানা অপকর্মের বোঝা মাথায় নিয়ে চলছে এ সংগঠনটি।
গত রবিবার নগরীর কোর্ট পয়েন্টে সিপিবি-বাসদের সমাবেশে জেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হরিণ মাহমুদের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে সিলেটবাসীর নিন্দা কুড়িয়েছে। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও বাসদের সাধারণ সমপাদক খালেকুজ্জামান মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালালে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমসহ ৬৮ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেত্ববৃন্দ বেশ বিব্রত। অবশ্য ঘটনার কয়েক ঘন্টার মধ্যে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করায় ঊর্ধ্বতন মহলকে অনেকেই সাধুবাদ দিয়েছেন। এই হামলার ঘটনায় সিলেট জেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হরিণ মাহমুদ নিপুসহ ৬ জনকে আসামি করে সিলেট থানায় মামলা করেছে। এসএমপির সহকারী কমিশনার রোকন উদ্দিন গতকাল ইত্তেফাককে বলেন আসামি ধরতে পুলিশ চেষ্টা করছে। সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেন, গত বছর জুলাই মাসে তত্কালীন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পংকজ পুরকায়স্থের নেতৃত্ব এম সি কলেজের ছাত্রাবাস পুড়িয়ে দেয়া হয়। এমসি কলেজের একটি ভবন নির্মাণের টেন্ডার নিয়েও রয়েছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ। বিভিন্ন অভিযোগের কারণে কেন্দ ীয় কমিটি পংকজকে বহিষ্কার করে। পংকজের জায়গায় দায়িত্ব পান নিপু। আর এ নিয়ে উভয়ের নেতৃত্বে থাকা দু’টি সশস্ত্র বাহিনী প্রায়ই একে অন্যের সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে।
গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে শিবগঞ্জ এলাকার একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সেলিম চৌধুরীর নেতৃত্বে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়। ঘটনার প্রতিবাদে দেশব্যাপী সিএনজি স্টেশনে ধর্মঘট শুরু হলে ঢাকা থেকে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন সেলিম। খোলিয়ার পাড়ায় ভূমি দখলের অভিযোগ রয়েছে এক ছাত্রলীগ নেতার নামে। জেলা ছাত্রলীগের আরো কয়েক নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। কেন্দ ীয় কমিটির একাধিক নেতা বলেছেন, এদের কয়েকজনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তারা অতিষ্ঠ। লোকজনের কাছে নানা অভিযোগ শুনতে হয়। এজন্য সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। ছাত্রলীগে কোনো সন্ত্রাসীর স্থান নেই।