তড়িঘড়ি করে কাদের মোল্লাকে হত্যার ষড়যন্ত্র চলছে
প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৫৪
জামায়াতে ইসলামী গতকাল মঙ্গলবার কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, এ রায় ন্যায় বিচারের পরিপন্থি। আব্দুল কাদের মোল্লাকে তড়িঘড়ি করে হত্যার ষড়যন্ত্র চলছে। দলের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বিবৃতিতে রায় প্রত্যাখ্যান করে বলেন, বিচারিক আদালত যেখানে মুত্যুদণ্ড দেননি সেখানে প্রথমবারের মতো সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মৃত্যুদণ্ড প্রদান বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। তাছাড়া স্কাইপ কেলেঙ্কারির পরেও ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান আইনের শাসনের পরিপন্থি। বিবৃতিতে বলা হয়, আমাদের আইনজীবীরা সমাপনী বক্তব্যে বলেছিলেন, যে সাক্ষ্য-প্রমাণ আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে তার ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত করার কোন সুযোগ নেই; কিন্তু এটা দুর্ভাগ্যজনক, আজ তাকে শুধু দোষী সাব্যস্তই করা হয়নি, মৃত্যুদণ্ডও দেয়া হয়েছে। বিচারের ইতিহাসে এটি একটি দুঃখজনক অধ্যায়। পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার ত্রিশ দিনের মধ্যে এর বিরুদ্ধে আমরা রিভিউ পিটিশন দায়ের করব; বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার দলীয় কোন কোন নেতা ও দুই/একজন আওয়ামীপন্থি বুদ্ধিজীবী বলে বেড়াচ্ছেন, রিভিউ পিটিশনের কোন সুযোগ নেই এবং অবিলম্বে ফাঁসিতে ঝুলানোর কথা বলছেন। তাদের এসব বক্তব্যের মাধ্যমে আব্দুল কাদের মোল্লাকে তড়িঘড়ি করে হত্যার ষড়যন্ত্রই ফুটে উঠেছে। তিনি বলেন, সরকারের মন্ত্রী, এমপি, দলীয় নেতা এমনকি প্রধানমন্ত্রীর পুত্র কয়েকদিন যাবত্ ইসলামী আদর্শ বিরোধী নানামুখী বক্তব্য দিয়ে আসছেন। সরকার জামায়াতে ইসলামীর উপর চূড়ান্ত আঘাত হেনে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ ও নৈরাজ্যজনক পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে নির্বাচন বানচাল করে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার কূটকৌশল অবলম্বন করেছে।
স্ত্রীর গভীর উদ্বেগ
আব্দুল কাদের মোল্লার স্ত্রী বেগম সানোয়ার জাহান গতকাল এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, আমরা ন্যায়বিচার হতে বঞ্চিত হয়েছি। আমরা অত্যন্ত বিস্মিত যে, বিচারিক আদালত সম্পূর্ণ শোনা সাক্ষীর উপর ভিত্তি করে আমার স্বামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল। বিচার বিভাগের ইতিহাসে আমাদের জানামতে নিম্ন আদালতের সাজা বৃদ্ধি করে উচ্চ আদালতের রায় এক নজিরবিহীন ঘটনা। আমার স্বামী রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। ১৯৭১ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত আমার স্বামীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের কোন থানা বা আদালতে ১৯৭১ সালের কথিত অপরাধের ব্যাপারে একটি অভিযোগও দায়ের করা সম্ভব হয়নি। সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য আওয়ামী সরকার আমার স্বামীর বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের মিথ্যা অভিযোগে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করে।
তিনি বলেন, যেহেতু আমার স্বামীকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করাই সরকারের আসল উদ্দেশ্য, তাই মামলার রায় ঘোষণার ১২ দিন পর সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত কথিত গণজাগরণ মঞ্চের চাপের মুখে আইন সংশোধন করে সংশোধিত আইনে সরকার আমার স্বামীকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার ব্যবস্থা করে। বিবৃতিতে আওয়ামী লীগের সকল ষড়যন্ত্র এবং চক্রান্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান হয়।