মূল ফিচার
নাবিলার পথচলা
প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৪২
শুধু উপস্থাপনা করে মিডিয়াতে দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছেন এমন শিল্পীর সংখ্যা খুবই কম। অনেকে আবার উপস্থাপনা দিয়ে শুরু করলেও মিডিয়ার রঙিন হাতছানিতে নাম লিখিয়েছেন নাটক, গান, বিজ্ঞাপন এমনকি চলচ্চিত্রেও। তবে আর সবার থেকে কিছুটা ব্যতিক্রম মাসুমা রহমান নাবিলা। নিজের সৃজন সীমানায় নিজেই তুলেছেন দৃঢ় প্রাচীর। তাই তো সময়ের শীর্ষ উপস্থাপনাকারীদের মাঝে এখন অনায়াসেই চলে আসে নাবিলার মুখচ্ছবিটি। বছরের ব্যবধানে দু’একটি টিভিসি করলেও নাবিলা নিজেকে একজন অনুষ্ঠান সঞ্চালক হিসেবে পরিচয় দিতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। সম্প্রতি ফেয়ার অ্যান্ড লাভলীর বিজ্ঞাপনের মডেল হয়েছেন তিনি। নাবিলার পথ চলা নিয়ে লিখেছেন রুদ্র মাহফুজ ও ছবি তুলেছেন সাফাওয়াত খান সাফু
শুরুটা সৌদি আরবের জেদ্দায়। বাবা মরহুম লুত্ফর রহমান জেদ্দার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র অ্যাকাউন্টেন্ট অডিটর অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। জন্ম, প্রথম স্কুল এবং জীবনের শৈশব-কৈশোরের পনেরটি বছরের দিন-রাত্রি নাবিলার কেটেছে সৌদির মরুর বাতাসে। তবে ‘সুইট সিক্সটিন’ কিংবা ষোড়শীর অসম্ভব ভালোলাগার মুহূর্তগুলোকে সঙ্গী করে নাবিলা ঢাকার নাগরিক কোলাহল, এই মেঘ আবার কখনও রোদের খেলায় নিজেকে মানিয়ে নিয়ে শুরু করেন তারুণ্যের পথের অনুসন্ধান। কলেজটা ছিল ভিকারুননেসা নূন। তারপর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাট চুকিয়ে দিলেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে ‘ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ’ বিষয়ে অধ্যয়ন করে। তবে একজন নাবিলার উপস্থাপক হওয়ার রসদ মিলেছিল কলেজ জীবনেই। বির্তকে খুব আগ্রহী নাবিলা বেশিরভাগ সময়ই বিভিন্ন বিতর্ক প্রতিযোগিতা খুব মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। উপস্থিত বক্তৃতায় পারদর্শী নাবিলা ক্লাসে ‘গ্রুপ ডিসকাশন’গুলোতে ছিলেন অনন্যা। কিন্তু তখনও কেউ ভাবতেও পারিনি চোখে গভীর বিস্ময়মাখা চাহনির মাসুম রহমান নাবিলা মেয়েটিই একদিন মিডিয়ায় শীর্ষ উপস্থাপনাকারীদের মাঝে একজন হয়ে যাবে। তাই তো আগ্রহ হলো তার শুরুর গল্পটি জানতে চাওয়ার। নাবিলা জানালেন, ২০০৫-এর শেষ দিকে বাংলাভিশনে বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপস্থাপনার জন্য অডিশন নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল। তখন ওই চ্যানেলে অডিশন দিয়ে উের গিয়েছিলেন নাবিলা। ২০০৬ সালে ‘এবং ক্লাসের বাইরে’ অনুষ্ঠানটি দিয়ে যাত্রা শুরু হয়। এরপর ২০০৭ সালে একই চ্যানেলে ‘ভোকাব’, পরে ‘মিউজিক টুগেদার’, এনটিভিতে ‘জানার আছে বলার আছে’, আরটিভির ‘লাকি নাইন’ শিরোনামের লাইভ অনুষ্ঠানগুলো একজন নাবিলার উপস্থাপিকা হওয়ার ভীত গড়ে দিতে বেশ অবদান রেখেছিল। বর্তমানে নিয়মিত উপস্থাপনা করছেন এশিয়ান টিভির সেলিব্রেটি লাইভ শো ‘রাতের তারা’ এবং মাছারাঙা টেলিভিশনে রিয়েলিটি শো ‘মেঘে ঢাকা তারা’। এক প্রসঙ্গে নাবিল বলেন, ‘ঈদ ও বৈশাখ ছাড়া নিয়মিত বিভিন্ন ‘লাইভ’ অনুষ্ঠানগুলোতে আমি খুব একটা থাকি না। কারণ অনুষ্ঠানগুলো একই ঘরানার হয়ে থাকে। খুব বেশি ব্যতিক্রম দেখা যায় না অনুষ্ঠানগুলোতে, তাই বছরের দুই ঈদ ও বৈশাখেই আমি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়মিত হই। গেল ঈদে যেমন মাছরাঙা টেলিভিশনে সাতদিনই ছিলাম। এ ছাড়া জিটিভি ও আরটিভির দু’টি সেলিব্রেটি আড্ডার সঞ্চালনা করেছি। আসছে ঈদেও হয়তো দু’একটি চ্যানেলে কিছু অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতে পারি।’ বিভিন্ন চ্যানেলে প্রায়ই রাতেই সংগীতানুষ্ঠান থাকে। যেগুলোর মান ও দর্শকপ্রিয়তা নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে মিডিয়ায়। এ বিষয়ে নাবিলা বলেন, ‘আমার কাছে বরাবরই সেলিব্রেটি কিংবা মিডিয়া সম্পর্কিত যেকোনো টকশো বেশি ভালো লাগে এবং আমি তা এনজয় করি। রাতে চ্যানেলগুলোতে যে লাইভ মিউজিক প্রোগ্রামগুলো হয় সেখানে অনেক শিল্পীকে চেনাও যায় না, এতটাই অপরিচিত মুখ সে সংগীতাঙ্গনে। ঈদে এ ধরনের মিউজিক লাইভ শো করলে ভালো। এক্সক্লুসিভ কিছু শিল্পী এ সময় লাইভ গান করেন। যারা বছরের অন্যান্য সময় চ্যানেলে লাইভ মিউজিকে খুব একটা আসেন না। ওই অনুষ্ঠানগুলোর রেসপন্সও অনেক বেশি থাকে। কিন্তু প্রতিদিন কিংবা প্রতি সপ্তাহে মিউজিক লাইভ আমার কাছে একপ্রকার ‘বোরিং’ ছাড়া কিছুই নয়।’ যদি আপনাকে বিভিন্ন অনুষ্ঠান নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয় তবে কী ধরনের পরিবর্তন আনতে পারবেন—এমন প্রশ্নের উত্তরে নাবিল বলেন, ‘কিছু না কিছু পরিবর্তন অবশ্যই করতাম। বিশেষ করে গেমশোগুলোতে। পাশাপাশি অন্যান্য অনুষ্ঠান অবশ্যই থাকত। আমার ইচ্ছে আছে ভবিষ্যতে এই ধরনের কাজ করার। তবে যথাযথ প্রস্তুতির জন্য হয়তো কোনো দক্ষ পরিচালকের অধীনে বেশকিছু দিন কাজ করব। সেটা কবে এখন বলতে পারছি না।’ উপস্থাপনার ভিত শক্ত করে অনেকেই নাটকে নিয়মিত হয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে নাবিলার আগ্রহ নেই বললেই হয়। তিনি বলেন, ‘আমি উপস্থাপনটা খুব এনজয় করি। নাটকের অসংখ্য প্রস্তাব পেয়েছি কিন্তু আগ্রহ জন্মায়নি এখনও। জানি না কখনও করব কি না। বলতে পারেন অভিনয়টা পারি না বলেই হয়তো নাটকে অভিনয় করছি না।’ কিন্তু অনেকে তো অভিনয় জ্ঞান ছাড়াই নাটক নিয়মিত পারফর্ম করে যাচ্ছেন, প্রত্যুত্তরে হেসে তিনি বলেন, ‘তারা অনেক মেধাবী। আমি অতটা নই বলেই করছি না।’ ২০০৬-এ মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর পরিচালনায় ‘সার্প ব্লেড’-এর বিজ্ঞাপনে কিছুক্ষণের জন্য দেখা গিয়েছিল নাবিলাকে। তারপর বছর দুই আগে শঙ্খ দাসের পরিচালনায় রবি’র টিভিসি করেছিলেন তিনি। সম্প্রতি ফেয়ার অ্যান্ড লাভলীর বিজ্ঞাপন করলেন আদনান আল রাজীবের পরিচালনায়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘টিভিসি মাঝে মাঝে করতে ভালো লাগে। এই টিভিসিটি আশা করছি দর্শকদের ভালো লাগবে।’ সাম্প্রতিক সময়ে মিডিয়ায় বিভিন্ন তারকার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। যা সর্বমহলে সমালোচিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নাবিলার উত্তর, ‘প্রতিটি সম্পর্কই সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তন হয়। আত্মহনন কখনোই কাম্য নয়। সে সেলিব্রেটি হোক কিংবা সাধারণ মানুষই হোক। জীবন অনেক আনন্দের, সুন্দর। তা উপভোগ করতে হবে। আবার উপভোগ মানে এই নয় যে যা-তা করে বেড়ানো। অনেকে ব্যক্তি স্বাধীনতার নামে উচ্ছৃঙ্খলতা করে থাকেন যা কাম্য নয়। সাধারণ মানুষ থেকে সেলিব্রেটিদের দায়িত্ব অনেক বেশি। কারণ তাদেরকে অনেকেই অনুকরণ, অনুসরণ করে থাকে। তাই পরিবার, সমাজ তথা নিজের ব্যক্তিত্বের কথা চিন্তা করে এমন কিছু না করা, যাতে কেউ কষ্ট পান, বিব্রতবোধ করেন। আবারও বলছি জীবন সুন্দর, জীবন আনন্দের।’
মেকআপ :হেয়ারোবিক্স ব্রাইডাল