পিচ ব্ল্যাকের পর
‘দ্য রিডিক’
প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৪৫
জনপ্রিয় অভিনেতা ভিন ডিজেলকে মানুষ ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’-এর সিরিজ দিয়ে চিনলেও তার ক্যারিয়ারের প্রথমদিকের ছবিগুলোও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। ১৯৯০ সালে ‘অ্যাওকেনিং’ নামের সিনেমাটি দিয়ে আলোর জগতে ক্যারিয়ারের শুরু করেন তিনি। সম্প্রতি এ অভিনেতার নতুন সিনেমা ‘দ্য রিডিক’ তাকে এগিয়ে দিয়েছে সাফল্যের আরও এক ধাপে। তার কথা জানাচ্ছেন
প্রাঞ্জল সেলিম
‘পিচ ব্ল্যাক’ সিনেমাটির কথা নিশ্চয়ই কমবেশি সবারই জানা আছে। ২০০০ সালে ‘পিচ ব্ল্যাক’ সিনেমাটিতে অসামান্য অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি। সেই সাথে এই সিনেমার সাফল্যও ছিল নজরকাড়া। সায়েন্স ফিকশনধর্মী এ সিনেমায় দেখানো হয়েছিল অন্ধকার একটা গ্রহে কয়েকজন এক্সপ্লোরার যায়। ভিন ডিজেল সেখানে অপরাধী হিসেবে ছিলেন। এসব নিয়েই ছিল সিনেমার গল্প। এরপর সেই সিনেমার গল্প ধরে নতুন সিনেমা আনা হয়েছে, ‘দ্য রিডিক’। শুধু তাই নয়, মার্কেটে এসেই চমক দেখিয়েছে সিনেমাটি। মুক্তির প্রথম তিনদিনের মধ্যেই এক কোটি ৮০ লাখ ডলার আয় করেছে ভিন ডিজেল অভিনীত হলিউডি সায়েন্স ফিকশন হরর ‘দ্য রিডিক’। আগের সিনেমা ‘দ্য ক্রনিকলস অব রিডিক’ সিনেমাটি মুক্তির নয় বছর পর এবার মুক্তি পেল এই সিরিজের তৃতীয় কিস্তি ‘দ্য রিডিক’। তিন কোটি ৮০ লাখ ডলার বাজেটের এই সিনেমা মুক্তির পর প্রথম তিন দিনেই আয় করেছে এক কোটি ৮০ লাখ ডলার। এদিকে লাগাতার তিন সপ্তাহ যুক্তরাষ্ট্রের বক্স অফিসে শীর্ষে থাকার পর ‘দ্য বাটলার’কে টেক্কা দিয়ে ‘দ্য রিডিক’ আয় করেছে সাত কোটি ৩০ লাখ ডলার, যেখানে ‘দ্য বাটলার’-এর আয় ছিল দুই কোটি ৪৩ লাখ ডলার। সায়েন্স ফিকশন সিরিজ ‘দ্য ক্রনিকলস অব রিডিক’-এর প্রথম সিনেমা মুক্তি পায় ২০০০ সালে, যার নাম ছিল ‘পিচ ব্ল্যাক’। এই সিরিজের তিনটি সিনেমাতেই অভিনয় করেছেন ভিন ডিজেল। সময়টা ভালোই যাচ্ছে ‘ট্রিপল এক্স’ তারকা ভিন ডিজেলের। প্রথমে ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস সিক্স’-এর সাফল্য, এরপর নতুন ডিজনি মুভির চুক্তি। আর এবার হলিউড ওয়াক ফেমে উঠল তার নাম।
ক্যারিয়ারের শুরুটা : ৪৬ বছর বয়সী ভিন ডিজেলের হলিউড ক্যারিয়ার শুরু হয় নব্বইয়ের দশকে। ক্যারিয়ারের ২৩তম বছরে এসে অবশেষে নিজেকে পরিপূর্ণ মনে করছেন তিনি। এক জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে ডিজেল উন্মোচন করেন ‘ওয়াক অব ফেম’-এ তার তারকাখচিত নাম। সেই সঙ্গে গ্রহণ করেন বিশেষ সম্মাননাও। ভিন ডিজেল ‘হলিউড ওয়াক অব ফেম’-এ স্থান করে নেয়া ২ হাজার ৫০৪তম তারকা। এ সম্মাননা গ্রহণের সময় তিনি বলেন, ‘আজ থেকে ৩০ বছর আগে এক রাস্তার পাশে নেচে নিজের জীবিকা নির্বাহ করতাম। কখনও ভাবিনি আমার অর্জন এতটা দূরে এসে ঠেকবে।’ বর্তমানে ভিন ডিজেল কাজ করছেন ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’ সিরিজের সপ্তম কিস্তিতে। তাছাড়া গত ৪ সেপ্টেম্বর মুক্তি পেয়েছে ভিন ডিজেল অভিনীত ‘ক্রনিক্যালস অব রিডিক’ চলচ্চিত্রের তৃতীয় কিস্তি। মাথায় একটা চুলও নেই এমন পেশিবহুল মানুষ হলিউডে অনেক। কিন্তু ভিন ডিজেল এই তালিকায় আছেন সবার ওপরে। কারণ তার অভিনীত ছবি দিয়ে কাড়ি কাড়ি ডলার অ্যাকাউন্টে জমা করেছে হলিউডের স্টুডিওগুলো। ৪৬ বছর বয়সী এই অভিনেতার নামের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাই বলাই যায় হলিউড চলে ডিজেলে। নিউইয়র্কে বেড়ে ওঠা ডিজেলের মা ইতালিয়ান আর বাবা আফ্রিকান-আমেরিকান। হলিউডে তার যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৯০ সালে ‘অ্যাওয়েকিং’ ছবিতে স্বল্প উপস্থিতির চরিত্রে অভিনয় করে। ১৯৯৩ সালে ‘শিন্ডলার্স লিস্ট’ ছবিটি দেখে ডিজেল এতই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে, পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গের কাছে মনের কথা জানিয়ে তিন পৃষ্ঠার একটি চিঠি লিখেছিলেন। তার চিঠির ভাষায় মুগ্ধ হয়ে স্পিলবার্গ আমন্ত্রণ জানান ডিজেলকে। চিঠির সুবাদে ১৯৯৮ সালে ‘সেভিং প্রাইভেট রায়ান’ ছবিতে প্রাইভেট আদ্রিয়ান ক্যাপারজোর চরিত্রটি পেয়ে যান ভিন ডিজেল। ১৯৯৪ সালে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মল্টি ফেস’-এ তিনি আবির্ভূত হন বহুমুখী প্রতিভা নিয়ে। ছবিটির চিত্রনাট্যকার, প্রযোজক, পরিচালক এবং অভিনেতা সবই তিনি। তবে তাকে তারকা খ্যাতি এনে দেয় ‘সেভিং প্রাইভেট রায়ান’। এরপর ডিজেল হলিউডকে উপহার দিয়েছেন ‘পিচ ব্ল্যাক’ (২০০০), ‘দ্য ফাস্ট অ্যান্ড দ্য ফিউরিয়াস’ (২০০১), ‘ট্রিপল এক্স’ (২০০২), ‘ক্রনিক্যালস অব রিডিক’ (২০০৪) এমন অনেক ব্যবসাসফল ছবি। ‘দ্য ফাস্ট অ্যান্ড দ্য ফিউরিয়াস’-এর জন্য এমটিভি মুভি অ্যাওয়ার্ডস আর ‘সেভিং প্রাইভেট রায়ান’-এর জন্য অনলাইন চলচ্চিত্র সমালোচক সংসদের পুরস্কার পান ডিজেল। ‘সেভিং প্রাইভেট রায়ান’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন এক লাখ ডলার। আর ‘দ্য ক্রনিকলস অব রিডিক’-এ অভিনয়ের জন্য পেয়েছেন এক কোটি ১৫ লাখ ডলার। ভিন ডিজেল এখন ব্যস্ত ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’ ছবির সপ্তম কিস্তি নিয়ে। এটি মুক্তি পাবে আগামী বছর। এদিকে মুক্তি পেয়েছে ‘ক্রনিক্যালস অব রিডিক’ সিরিজের তৃতীয় কিস্তি ‘রিডিক’। অভিনয়ের পাশাপাশি এতে অর্থলগ্নিও করেছেন তিনি। এজন্য তাকে বাড়ি বন্ধক রাখার ঝুঁকিও নিতে হয়েছে। তিনি বললেন, ‘যদি এ ছবির কাজ শেষ করতে না পারতাম তাহলে আমার বাড়িটি খোয়া যেত এবং আমি ছিন্নমূলে পরিণত হতাম।’ প্রায় চার কোটি ডলারের এ ছবি সম্পর্কে ডিজেল বলেন, ‘ছবিটি নির্মাণ করে আমি সন্তুষ্ট। গত দশ বছরে দর্শক আমাকে এমন ছবিতে দেখেনি।’