স্বেচ্ছা মৃত্যুতে সমর্থন দিলেন হকিং

এই আশ্চর্য সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে কেউই চলে যেতে চায় না। কিন্তু কখনো কখনো কারো কারো জীবনে এমন সময় বা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যখন বেঁচে থাকাটাই অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়। সেই অভিশাপ থেকে তখন পরিত্রাণ পেতে কেউ কেউ স্বেচ্ছায় আত্মহত্যা করেন। আর এ ধরনের আত্মহত্যায় সহায়তার প্রতিই সমর্থন জানিয়েছেন প্রখ্যাত ব্রিটিশ জ্যোতির্বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং। চলতি সপ্তাহে তার কর্ম ও জীবনভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্র মুক্তি উপলক্ষে দেয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মাত্র ২১ বছর বয়সে দূরারোগ্য মটর নিউরন রোগে আক্রান্ত হন হকিং। তাকে সাফ জানিয়ে দেয়া হয়েছিল, বড়জোর আর ২ থেকে ৩ বছর বাঁচতে পারেন। কিন্তু চিকিত্সা বিজ্ঞানের ভবিষ্যদ্বাণীকে ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি দিব্যি বেঁচে রইলেন। বর্তমানে তিনি ৭১ বছর বয়স অতিক্রম করছেন। অবশ্য দীর্ঘসময় ধরেই হুইলচেয়ার ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না তিনি। হকিং বলেন, তিনি ব্যক্তির নিজের ইচ্ছায় মৃত্যুর অধিকারকে সমর্থন করেন। তবে তা শুধুমাত্র এমন পরিস্থিতিতেই যখন ঐ ব্যক্তির মৃত্যু ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। ‘হকিং’ শিরোনামে প্রামাণ্য চিত্রটি ২০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্যে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। হকিং বলেন, ‘আমি মনে করি যারা আরোগ্যের অতীত কোনো রোগে আক্রান্ত এবং জীবনধারণ তাদের জন্যে অসহনীয় হয়ে পড়ে সেক্ষেত্রে তাদের জীবন অবসানের সুযোগ দেয়া উচিত এবং যে বা যারা ঐ রোগীর মৃত্যুতে সহায়তা করবেন তারা আইনের ঊর্ধ্বে থাকবেন।” যুক্তরাজ্যে আত্মহত্যায় সহযোগিতা বেআইনি। আরোগ্যের অতীত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রেও তার ইচ্ছাতে জীবন অবসানে সহযোগিতা করা যুক্তরাজ্যে অপরাধ হিসাবে গণ্য। এ বিষয়টি নিয়ে বিশ্বের অনেক দেশে বিতর্ক রয়েছে।