হরতাল সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রেসনোট

গতকাল বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেসনোটে বলা হয়, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আপীল বিভাগে জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ডাদেশের প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামীর ৪৮ ঘণ্টা হরতাল আহ্বানের প্রথম দিনে গতকাল বুধবার সারাদেশে হরতাল সমর্থনকারীরা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থান ও তাত্ক্ষণিক তত্পরতায় তাদের সে অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়। আদালতের বিরুদ্ধে হরতাল ডেকে ভাংচুর, জ্বালাও-পোড়াও এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে হরতাল ডেকে জনজীবনে দুর্ভোগ সৃষ্টির চেষ্টা কখনো গণতান্ত্রিক নয়। কাজেই এ অযৌক্তিক হরতালের নামে নাশকতার হাত থেকে সরকারি সম্পদ ও জনসাধারণের জানমাল রক্ষার্থে সরকার রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। সারাদেশে হরতাল চলাকালে কয়েকটি স্থানে জামায়াত ও শিবির কর্মীরা বিচ্ছিন্ন ঘটনায় ২১টি গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করার চেষ্টা করে এবং ২৩টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এছাড়া হরতাল চলাকালে জামায়াত ও ছাত্রশিবির কর্মীরা মিছিল করার সময় চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া-বাঁশখালী সড়কে ডিউটিরত পুলিশকে লক্ষ্য করে ৩/৪টি গুলি ছুঁড়লে কর্তব্যরত কনস্টেবল মোঃ ইকবাল হোসেন গুরুতর আহত হন। আহত কনস্টেবলকে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। কুমিল্লা জেলার কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতাল এলাকায় হরতাল সমর্থনকারীরা পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ৫টি ককটেল নিক্ষেপ করলে এসআই জসিম উদ্দিন জখম হন। নোয়াখালীর বসুরহাট-দাগনভূঁইয়া পাকা সড়কের তালেরচালা নামক স্থানে সিএনজি চালক আবু নাছের (৪৫) জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের নিক্ষিপ্ত ইটের আঘাতে গুরুতর আহত হন। তিনি স্থানীয় বসুরহাট স্বাস্থ্য চিকিত্সা কেন্দ্রে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান। সারাদেশে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ব্যতীত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত ছিল।