হিমাগার স্থাপনের দাবি
দিনাজপুর অফিস
বোরো ধান আবাদ করে কৃষকরা এবার লোকসান গুনলেও গ্রীষ্মকালীন টমেটো আবাদ করে লাভের মুখ দেখছে কৃষকরা। গ্রীষ্মকালীন টমেটো আবাদ করে গত কয়েক বছরের অব্যাহত লোকসান গুনার পর এবারে লাভের মুখ দেখায় টমেটো চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। এবার বাজারে ভালো দাম থাকায় গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ করে চার বছরের লোকসান পুষিয়ে নিচ্ছেন টমেটো চাষিরা। তবে পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে ব্যবসায়ীদের মাঝে। এলাকার দীর্ঘদিনের দাবি টমেটো হিমাগার স্থাপন করলে সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি ও কৃষকরা আরো লাভবান হবে বলে জানিয়েছে ইজারাদার।
গত ২০১৫ সাল থেকে লোকসান গুনছেন এই এলাকার কৃষক। তবে এবারে টমেটোর রোগ-বালাই নেই বললেই চলে। আবার বাজারে ভালো দাম পাচ্ছেন কৃষকরা, যাতে করে গত কয়েক বছরের অব্যাহত লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার আশা করেছেন তারা।
দিনাজপুরের সদর উপজেলার বোলতৈড় এলাকার কৃষক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, এবারে বাজার মোটামুটি ভালো। যাতে করে কয়েক বছরের লোকসান পুষিয়ে নিতে পারবেন। গত ২০১৪ সালে টমেটোর বাজার ভালো পাওয়া গিয়েছিল। এরপরে লোকসান আর লোকসান। যার কারণে কৃষকরা টমেটোর আবাদ কমিয়ে দিয়েছেন।
ময়মনসিংহ থেকে আসা টমেটোর ব্যবসায়ী আজম ব্যাপারী জানান, এবারে বাজার ভালো। এখান থেকে ক্রয় করে ঢাকাতেও ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে এবারে পরিবহন খরচ বেড়েছে। তা না হলে কৃষকরা আরো লাভবান হতো। ঢাকা থেকে আগত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী বলেন, কাঁচাবাজারের কখন দাম কমে আর কখন বাড়ে কেউ বলতে পারে না। তবে এবারে টমেটোর চাহিদা ভালো। ব্যবসা করেও মজা পাচ্ছি। অথচ গত কয়েক বছরে কৃষকদের পাশাপাশি আমাদেরও লোকসান গুনতে হয়েছে।
গাবুড়াহাট ইজারাদার মমিনুল ইসলাম বলেন, টমেটোতে এবারে ভালো লাভবান হয়েছেন কৃষকরা। তবে এলাকার কৃষকদের দীর্ঘদিনের দাবি এখানে টমেটো হিমাগার স্থাপন করার। প্রতিবছরে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব পায়। এখানে হিমাগার স্থাপন করা হলে সরকারি রাজস্ব আরোহণ বৃদ্ধিসহ কৃষকরা আরো লাভবান হবে।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ তৌহিদুল ইকবাল জানান, চলতি বছরে দিনাজপুরে এক হাজার ১৪২ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর চাষ হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর উত্পাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষকদের যাবতীয় পরামর্শও প্রদান করা হয়েছে। কৃষকরা দামও ভালো পাচ্ছেন।