বাংলাদেশ সীমান্তে ড্রোন মোতায়েন করবে না ভারত
প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:২৩
ভারত কখনই বাংলাদেশ সীমান্তে ড্রোন মোতায়েন করবে না বলে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মহাপরিচালক সুভাস যোশী জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছুই নেই। সীমান্তে ড্রোন মোতায়েনের বিষয়টি আমি পত্রিকা পড়ে জেনেছি। এ ধরনের ড্রোন মোতায়েনের সিদ্ধান্ত ভারত সরকার নেয়নি।
বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ে সীমান্ত সম্মেলনে গতকাল বিজিবি সদর দফতরে বিএসএফের মহাপরিচালক সুভাস যোশী প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ফেলানী হত্যার মামলার রায়ের পুনঃবিবেচনা করা হচ্ছে। প্র্রাথমিকভাবে ফেলানী হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছে প্রাদেশিক আইনে। সেই বিচারের যে রায় হয়েছে তা চূড়ান্ত রায় নয়। আশাকরি চূড়ান্ত বিচারে আশাতীত রায় হবে। তবে তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। এর বাইরে ফেলানী হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
গত ২৪ আগস্ট বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে দুই বাংলাদেশীকে ধরে নিয়ে এক বাংলাদেশীকে হত্যা করার প্রসঙ্গে বিএসএফ মহাপরিচালক বলেন, সীমান্তে এ ধরনের নির্যাতনের ঘটনার তদন্ত হচ্ছে। অতীতে এ রকম নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করার জন্য এ পর্যন্ত ৩ বিএসএফ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, গত ৮ মাসে সীমান্তে মাত্র ৭ টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আমরা এ হত্যার ঘটনা ‘জিরো’তে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএসএফ মহাপরিচালক বলেন, বাংলাদেশ সীমান্তে মনুষ্যবিহীন ড্রোন বিমান মোতায়েন করা হয়নি। অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সীমান্তে ড্রোন মোতায়েনের কোন পরিকল্পনা তার জানা নেই। যদি মোতায়েনের প্রয়োজন হয় তবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে তাতে ভারত সরকার বাংলাদেশকে অন্তত জানানোর কথা।
বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, সীমান্ত সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সীমান্তে হত্যা, আহত করা ও নির্যাতন চালানোর বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। দুই দেশের সন্ত্রাসীদের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। জাল নোট, মাদক ও ফেনসিডিল পাচার রোধে দুই দেশ এক সঙ্গে কাজ করবে।
তিনি বলেন, এছাড়া অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বাধা দেয়ার বিষয়ে দুই দেশ এক সঙ্গে কাজ করছে। বৈঠকে ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্তবর্তী এলাকা চিহ্নিত করে যৌথ টহল জোরদারের বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়েছে। এর বাইরে সীমান্তবর্তী এলাকায় আরও পাঁচ ধরনের অপরাধ দমনের জন্য ভারত ও বাংলাদেশ সম্মত হয়েছে বলে বিজিবি মহাপরিচালক জানান।