সাহিত্য বিশ্ব
গ্রন্থনা ও অনুবাদ : শামস আরেফিন
প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৭:৩৩
আরবি সাহিত্য এখন ইউরোপে
ইউরোপের ‘ব্যানিপাল অ্যান্ড কিকাহেবেন্ট’ প্রকাশনা সংস্থা আরবি সাহিত্য ইংরেজি অনুবাদের মাধ্যমে ইউরোপে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা স্যামুয়েল শিমন এবং মার্গারেট ওবাঙ্ক। তাদের ম্যাগাজিন কিকাহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক লেখকের উচ্চমানের লেখাই প্রকাশ করেছে। যা বিশ্বসাহিত্যে প্রতিনিধিত্ব করার মতো। তারা জানান যে, পশ্চিমাদের আরবি সাহিত্য সর্ম্পকে শুধু প্রাথমিক ধারণা আছে। কারণ শুধু আমেরিকাতেই বিদেশি সাহিত্যের মাত্র ৩% অনুবাদ করা হয়। এ কারণে একটি দেশের ভূ-রাজনীতি, সংস্কৃতি ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট পশ্চািমারা তেমনটা জানে না। মধ্যপ্রাচ্যে যে সাহিত্য চর্চা হয় না বা কোনো সাহিত্যিক জন্মায় না তা কিন্তু নয়।
এবার আমেরিকার লেখকরাও পাবে ম্যান বুকার
২০১৪ থেকে বুকারের জন্য আমেরিকান সাহিত্যিকরাও নির্বাচিত হতে পারবেন। এ ঘোষণর পর বর্তমান ব্রিটিশ সাহিত্যপ্রেমীরা তাদের চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন। সমালোচকরা মনে করেন—আমেরিকার সাহিত্যিকদের এ পুরস্কার দেওয়া হলে, ‘দ্য ম্যান বুকার’ তার ঐতিহ্য হারাবে। এমনকি তা দেশীয় মেধাবী তরুণদের উঠে আসার ক্ষেত্রে চরম বাধা সৃষ্টি করতে পারে। কারণ এখন ম্যান বুকার পুরস্কার শুধু ব্রিটিশ, আইরিশ ও কমনওয়েলথভুক্ত দেশের লেখকেরাই পেয়ে থাকেন।
কে পাচ্ছে নোবেল সাহিত্য পুরস্কার?
১ অক্টোবর ঘোষিত হতে যাচ্ছে নোবেল প্রাইজ জয়ীর নাম। কে পরবে সাহিত্যের এই রাজমুকুট—এখন তা-ই প্রশ্ন। নোবেল জয়ী হতে পারেন ‘ফিলিপ রথ’, বা রোমানিয়ান রম্যনাটক রচয়িতা স্নোকি। কিন্তু ৯ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ ওয়েবসাইট ল্যান্ড ব্রুক জানায়, জাপানি ঔপন্যাসিক ‘হারুকি মুরাকামি’ এক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে। পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর তারা আবার জানায়, কেনিয়ার ঔপন্যাসিক নুগইগি থিয়োঙ্গে তাঁর ‘উইজার্ড অব দ্য ক্রো’র কারণে পুরুস্কৃত হতে পারেন। এ ঔপন্যাসিক এবারের প্রস্তাবিত পাঁচ নোবেলজয়ীদের একজন। ল্যাডব্রোকের প্রতিনিধি অ্যালেক্স ডনোহোই জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে বাজির পর বাজি হচ্ছে—কে জিতবেন নোবেল পুরস্কার, নুগইগি না হারুকি মুরাকামি? এ ধরনের অতিরিক্ত আগ্রহ নোবেল পুরস্কার পাবার পূর্বে আর কখনো দেখা যায়নি। আর এ নিয়ে নুগইগির ভক্তদের বিভিন্ন সাইটে মন্তব্যের ব্যাপকতা লক্ষ করার মতো।
‘দ্য মারচেন্ট অব ভেনিস’ ইহুদি-বিদ্বেষী নাটক
‘দ্য ম্যান বুকার প্রাইজ’ বিজয়ী ইহুদি লেখক হাওয়ার্ড জ্যকবসন আবারও শেক্সপিয়রের সর্বোচ্চ বিতর্কিত নাটক ‘দ্য মারচেন্ট অব ভেনিস’কে ইহুদি-বিদ্বেষী বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি এ নাটকের কিছু বিতর্কিত বিষয় ব্যাখা করতে চাচ্ছেন। এই নাটকের আলোচিত বিষয়—ইহুদি মহাজন, যার নাম শিলক। শিলক এক খ্রিষ্টান ব্যবসায়ীকে এক পাউন্ড গোশত কেটে দিয়ে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে বলে। আর নাটকের শেষে দেখা যায় যে, শিলক তার সহায়-সম্বল ও কন্যাকে হারিয়েছে। আর অবশেষে শিলক খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করতে বাধ্য হয়।
জনাব জ্যাকবসন এর প্রতিবাদ করে বলেন, ‘শেক্সপিয়র মনে হয় কোনো কালে কোনো ইহুদির সাথে সাক্ষাত্ই করেননি। এ ধরনের কল্পিত ঘটনা কখনোই ঘটেনি। আর এ ধরনের ইহুদি-বিদ্বেষী প্রবণতাকে কোনো নাম দেওয়া যায় না।’