মক্কা মদীনার দর্শনীয় স্থান সমূহ

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার সৃষ্টির মধ্যে তাঁর প্রেরিত দূত নবী রসূলগণ জগতের শ্রেষ্ঠতম মানুষ। এই পৃথিবীতে তাঁরা যে সকল স্থানে আগমন করেছেন। পদচারণা করেছেন। দ্বীনের দাওযাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং বিভিন্ন মু’জিজা প্রদর্শন করেছেন সেই সকল স্থানগুলো বিশেষভাবে তাত্পর্যমণ্ডিত, ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত। যা দর্শন করলে ঈমানও মজবুত হয়। যাঁরা হজ্বে যাচ্ছেন তাঁরা ঐসব স্থান গুলোও দেখে আসার চেষ্টা করবেন যেমন—১। রাহমাতুল্লীল আলামীনের পবিত্র জন্মস্থান (ছওকুল্লাইল)। ২। হযরত খাদিজা (রা.)-এর ঘর। ৩। দারুল আরকাম বিন আবিল আরকাম। ৪। হযরত আলীর জন্মস্থান। ৫। জান্নাতুল মুয়াল্লাহ্ (কবরস্থান)। ৬। ওয়াদিয়ে ছারফ্ হযরত উম্মুল মুমেনীন মায়মুনা (রা.)-এর বিয়ে ও কবর। ৭। জাবালে নূর-এর গারে হেরা গুহা (কুরআন শরীফ নাযিলের পাহাড়)। ৮। জাবালে ছওর (হজরত রাসূলে করীম (স.) হিযরতের সময় যে পাহাড়ে ৩ দিন আত্মগোপন করেছিলেন।) ৯। মিনা (হযরত ইসমাইল আলাইহিচ্ছালামের কুরবানীর জায়গা)। ১০। মুযদালিফাহ্— (হযরত আদম ও হাওয়া (আ.)-দ্বয়ের পৃথিবীর প্রথম বাসর রাত বা ঘুমের জায়গা)। ১১। আরাফাহ—হজের ময়দান, যেখানে হযরত আদম ও হাওয়া (আ.)-এর পৃথিবীর প্রথম পরিচয় হয়েছিল। ১২। ওয়াদিয়ে মুহাসসার—বাদশাহ্ আবরাহার ধ্বংসস্থল। ১৩। ওয়াদীয়ে মুহাস্সাব—মিনা থেকে হরম শরীফে ফেরার পথে হুজুর (স.) এই জায়গায় অবতরণ করেন এবং মাগরিবের নামায আদায় করেন। এখানে একটি সুন্দর মসজিদ আছে। ১৪। হুদায়বিয়া—বর্তমান নাম (ছুমাইসীয়া, মক্কা থেকে ২১ কি.মি. দূর)। ১৫। ওয়াদিয়ে ফাতেমা—মক্কা বিজয়ের সময় মুসলিম বাহিনীর অবতরণস্থল। ১৬। হুনাইন— মক্কা বিজয়ের পর এখানে কাফেরদের সাথে যুদ্ধ হয়, আল্লাহ ফেরেশতা দিয়ে এই যুদ্ধে মুসলমানদেরকে সাহায্য করেন। ১৭। জেরানা, বড় ওমরার জায়গা রাসূলুল্লাহ (স.) হুনাইন যুদ্ধের পর এখান থেকে ওমরার ইহরাম বাঁধেন, এটাই শ্রেষ্ঠ মিকাত। এখানে একটি মসজিদ আছে, যাকে মসজিদে রাসূল (স.) বলা হয়। ১৮। নাখলা—মক্কা থেকে ৪৫ কি.মি. দূরে মক্কা ও তায়েফের মাঝামাঝি এই উপত্যকা। এখানে খেজুর বাগান ছিল, এই অঞ্চলের নাম ‘নাখলা’। এই জায়গাটি মিষ্টি পানির জন্য প্রসিদ্ধ। আল্লাহর নবীর জবানে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত শুনে জ্বীন জাতির ইসলাম গ্রহণ করার ঘটনা এখানেই ঘটে বলে জায়গাটি ঐতিহাসিক। মক্কা শরীফের ঐতিহাসিক প্রসিদ্ধ মসজিদ :১। মসজিদে আবুবকর (রা.) এখানে হযরত আবুবকর (রা.)-এর বাড়ি ছিল। ২। মসজিদে খালেদ বিনওয়ালিদ। ৩। মসজিদে জ্বীন। ৪। মসজিদে বাইআহ্। ৫। মসজিদে খায়েফ। ৬। মসজিদে নামেরা। ৭। মসজিদ তাইঈম। মক্কার ঐতিহাসিক পাহাড়সমূহ :১। জবলে নূর। ২। জাবালে সওর। ৩। জাবালে আবু কোবাইস। ৪। জাবালে রহমত। কাবা শরীফ ও মক্কা শরীফের রহস্যপূর্ণ জায়গাসমূহ :১। আল্লাহর ঘরের ভেতরে, তবে সেখানে সাধারণ মানুষ প্রবেশ করা সম্ভব নয় তাই হাতীমে (বাইতুল্লাহর পাশে গোলাকার দেয়াল ঘেরা কিছু উন্মুক্ত খালি জায়গা) নামায পড়ার সুযোগ আছে। ২। মুলতাজাম বা কা’বা ঘরের দরজা, ১৩৬৩ হিজরীতে বাদশা আব্দুল আজীজ আসেসৗদ একটি সুন্দর কাঠের দরজা লাগান, সেটি তৈরি করতে তিন বছর সময় লেগেছিল। বর্তমান দরজাটি বাদশা খালেদ লাগিয়েছেন। এতে ২৮৬ কি. গ্রা. খাঁটি স্বর্ণ লাগানো আছে, এতে আল্লাহর ও কুরআন শরীফের আয়াত— ‘কুল ইয়া ইবাদিয়াল্লাজিনা আছরাফু আলা আনফুছিহীম, লাতাকনাতুমির রাহমাতিল্লাহ্, ইন্নাল্লাহা ইয়াগফিরুজ্জুনুবা জামিয়া লেখা আছে। তাই এই আয়াত পড়ে এর উসিলা দিয়ে দোয়া করলে অবশ্যই দোয়া কবুল হয়। ৩। কাবা ঘরের পেছনের দেয়াল অর্থাত্ রোকনে ইয়ামানীর কাছে এখানো দোয়া কবুল ও নিষ্পাপ হওয়ার দলিল আছে। যেহেতু হুজুর (স.) হিযরতের পর এখানে দাঁড়িয়েই ১৬ মাস বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে নামায আদায় করেছেন এবং কেবলা পরিবর্তনের দোয়া করেছিলেন। ৪। হাতীম বা হিজরে ইসমাইল হিজরে ইসমাইলের অপর নাম হচ্ছে হাতীমে কা’বা। এই হাতীমে হযরত ইসমাইল (আ.) ও তাঁর মা হযরত হাজেরা (আ.)-এর কবর আছে বলে নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিকগণের বর্ণনা পাওয়া যায়। হযরত ইসমাইল (আ.)-এর দোয়ার বরকতে এই বেহেশতি ঝরনা প্রবাহিত হচ্ছে। আল্লাহর ঘরের ভেতর নামায পড়ার ইচ্ছা করলে হাতীমে পড়ে নিলেই তা আদায় হয়ে যাবে। ৫। হাজরে আসওয়াদ, বাইতুল্লাহ শরীফের পূর্বকোণে ৩/৪ ফুট উঁচুতে দেয়ালের ভেতরে সংরক্ষণ করা সেই পাথর বেহেশতের সবচেয়ে মূল্যবান পাথর। রূহের জগতে এই পাথরের উপরে হাত রেখে হুজুর (স.)-এর রূহ মুবারক আমরা আল্লাহর বান্দা ও আল্লাহ আমাদের প্রভু এই প্রতিশ্রুতি পাঠ করিয়েছিলেন। হযরত আদম (আ.) পৃথিবীতে আসার সময় আল্লাহ পাক সেই পাথর তার সাথে দিয়ে দেন, পরবর্তীতে তিনি সেটা জাবালে আবু কোবাইছে রাখেন তখন সে পাথর বরফের মত সাদা ও সূর্যের মত আলোকিত ছিল। নূহ (আ.)-এর বন্যার সময় আল্লাহ পাক পুনরায় আসমানে উঠিয়ে নেন। হযরত ইব্রাহীম (আ.)-এর দ্বারা কা’বা ঘর তৈরির সময় আবার তা ফেরেশতার মাধ্যমে পাঠিয়ে দেয়া হয় এবং ইব্রাহীম (আ.) সেই পাথরকে আল্লাহর ঘরের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে স্থাপন করেন। তাই এখান থেকেই তাওয়াফ শুরু হয়। হাদীস শরীফে আছে—হজরে আসওয়াদ প্রথম আবু কুবাইছ পাহাড়ে নাজিল হয়, সেখানে তা ৪০ বছর পর্যন্ত থাকে। তারপর তা হযরত ইব্রাহীম (আ.) এর আগেই-ভিত্তির ওপর লাগানো হয়। অর্থাত্-মাকামে ইব্যাহীম ও হিজরাল আসওয়াদ এই পাথর দু’টিই বেহেশতের পাথর। হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর আগেই হাজরে আসওয়াদ নাজিল হয়েছে। বন্যার সময় এটিকে আসমানে উঠিয়ে নেয়া হয়েছিল। তারপরই ইব্রাহীম (আ.) এর কাবা শরীফ নির্মাণের সময় জিব্রাইল (আ.) তা নিয়ে আসেন। (চলবে) ই-মেইল :mzhazadi @ yahoo.Com