রূপগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে
গ্যাস সংকট চরমে
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২০:৪৮
রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব শিল্পাঞ্চলের দুই লক্ষাধিক শ্রমিক গত বুধবার যাত্রামুড়া এলাকায় প্রতীকী অনশন পালন করেছে। তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে গত কয়েকদিন ধরে শিল্পকারখানা বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা বেতন ভাতা না পেয়ে অনশন পালন করে।
বৃহস্পতিবার শিল্পাঞ্চলের তিন শতাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক ও শ্রমিকরা বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। গ্যাস সংকটের কারণে গত দুই মাস ধরে কোন রকমে চলছিল রূপগঞ্জের এসব শিল্প প্রতিষ্ঠান। তবে গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে গ্যাসের প্রেসার ৪ থেকে ৫ পিএসআইয়ে নেমে আসায় শিল্পকারখানার উত্পাদন বন্ধ হয়ে যায়। শিল্প মালিকরা রূপগঞ্জে গ্যাস বিতরণে বৈষম্যের অভিযোগ করেন।
স্পিনিং মিলের মালিক মাহাবুব খান বলেন, অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান উচ্চ ঘুষ প্রদান করে হাইপ্রটেনশিয়াল রেগুলেটর চালু করে ভালো অবস্থায় আছে। অন্যান্য শিল্প মালিকরা নিজস্ব অর্থায়নে এ ধরনের প্রটেনশিয়াল রেগুলেটর লাগাতে চাইলেও তিতাস কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দিচ্ছে না। গ্যাস সংকটে উত্পাদন কমে যাওয়ায় বিপাকে থাকা এসব শিল্পমালিককে গ্যাসের বাড়তি বিলের বিড়ম্বনাও পোহাতে হচ্ছে।
জানা যায়, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ কোন প্রকার নোটিস ছাড়াই হঠাত্ করে ২ মাস আগে গ্যাসের প্রেসার কমিয়ে দেয়ায় মিলগুলো উত্পাদনে যেতে পারছে না। চলতি সপ্তাহ থেকে গ্যাসের পরিস্থিতি আরও নাজুক আকার ধারণ করে। খাতা-কলমে ৩০ পিএসআই প্রেসারের কথা বলা হলেও মিলগুলো পাচ্ছে মাত্র ২ থেকে ৫ পিএসআই। গত শুক্রবার থেকে যাত্রামুড়া এলাকার শিল্পকারখানায় গ্যাসের প্রেসার ৫ পিএসআইয়ে নেমে আসে।
একটি স্পিনিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাজহারুল হক বলেন, ব্যাংক থেকে কোটি টাকা ঋণ নিয়ে শিল্পকারখানা গড়েছি। উত্পাদন বন্ধ থাকলে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা সম্ভব নয়।
তিতাস গ্যাস এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির পরিচালক মীর মশিউর রহমান বলেন, বন্ধ থাকা ৫টি সারকারখানায় গ্যাস দেয়ার কারণে কিছুটা গ্যাস সংকট চলছে। তবে অচিরেই এ সংকট নিরসন হবে। রূপগঞ্জ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার খন্দকার আব্দুস সবুর বলেন, গ্যাস সংকট নিরসনের চেষ্টা চলছে। তবে গ্যাস বিতরণে বৈষম্যের অভিযোগ সঠিক নয়।