রাজনীতিকরা ব্যর্থ হলে অন্যরা সুযোগ নেবে
প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৫২
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সেমিনারে বিশিষ্টজনেরা বলেছেন, দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে যে প্রশ্ন ও সংশয় তৈরি হয়েছে তার দায় রাজনীতিকরা এড়াতে পারেন না। গণতন্ত্র রক্ষার ক্ষেত্রে একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও সুন্দর নির্বাচন ছাড়া কোনো বিকল্প পথ নেই। একতরফা নির্বাচন কখনো গ্রহণযোগ্য হবে না।
নির্বাচনের জন্য এমন একটি প্রশাসন গঠন করতে হবে, যার ওপর মানুষ আস্থা রাখতে পারে এবং একটি সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। এজন্য নির্বাচন কমিশনকে প্রকৃত অর্থেই স্বাধীন এবং শক্তিশালী করতে হবে। নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক সংকট নিরসনে রাজনীতিকরা ব্যর্থ হলে তাদের স্থান অন্যরা দখল করে নিবে, সুযোগ নিবে। জাতির জন্য তা কতটুকু সুখকর ও ইতিবাচক হবে, তা ভবিষ্যত্ই বলে দিবে। তবে নির্বাচনকালীন সংকট নিয়ে আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা সুখকর নয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) ‘গণতন্ত্র, নির্বাচন, রাজনৈতিক সংকট: গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে সাংবাদিক, রাজনীতিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ বিশিষ্টজনরা এ কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে সংকট তৈরি হয়। সংকট নিরসনে দেশপ্রেমের সাথে কাজ করতে হবে। এজন্য রাজনীতিকদের ভূমিকা অনেক বেশি।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক নয়, শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনই যথেষ্ট। তত্ত্বাবধায়ক শুধু ক্ষমতার পালাবদলে সহযোগিতা করতে পারে।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আসন্ন নির্বাচন পরিস্থিতি সংকটময় হচ্ছে। নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। একতরফা নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। নির্বাচন গ্রহণযোগ্য না হলে এর দায়-দায়িত্ব নিতে হবে রাজনৈতিক নেতাদেরই।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, গণতন্ত্র ও রাজনীতিতে সংকট আছে বলেই নির্বাচন নিয়ে সংকট তৈরি হয়। সংকট যারা তৈরি করেছেন এর দায়ভার তাদেরকেই নিতে হবে। এর সমাধানও তাদের করতে হবে।
বৈশাখী টেলিভিশনের সিইও মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, রাজনীতিবিদদের পারস্পরিক আস্থাহীনতার কারণে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। আমাদের রাজনীতি-বিদদের এই আস্থাহীনতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তা না হলে অন্য একটি শক্তি এসে দেশকে ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দিবে।
মূল প্রবন্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক ও রাজনীতি বিশ্লেষক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, ভোটাভুটি দ্বারা গঠিত সরকার গণতান্ত্রিক না হয়ে স্বৈরতান্ত্রিকও হয়ে থাকে। নির্বাচিত স্বৈরাচার সাধারণত অনির্বাচিত স্বৈরাচার থেকে বেশি অত্যাচারী হয় এবং অনির্বাচিত স্বৈরাচারকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার সুযোগ তৈরি করে দেয়।
সমিতির সভাপতি এম এম জসিমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইনের পরিচালনায় সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন সমিতির দপ্তর সম্পাদক সানাউল হক সানী।
এর আগে সমিতির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে বেলুন উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক। এরপর সমিতির সাবেক-বর্তমান সদস্যদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।