পিঁয়াজের দাম বাড়ছে
প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৫২
লাগামহীনভাবে বাড়ছেই পিঁয়াজের দাম। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বৈঠকের পর বৈঠক করেও নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোন ব্যবস্থা নিতে পারছে না। কোন রাখঢাক না করেই গত বুধবার সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ৮০ ভাগ কাজই এখন পিঁয়াজকে ঘিরে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে আমরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করছি। তবে আমরা ফোর্স করে দাম কমাতে পারি না।
বাজারে এখন প্রতি কেজি পিঁয়াজের দাম কত? প্রশ্নের জবাবটা ভোক্তার জন্য আতংকের। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, কাওরানবাজারে প্রতি কেজি আমদানিকৃত পিঁয়াজ বিক্রি হয় ৯০ থেকে ৯২ টাকায়। যা শান্তিনগরবাজার ও নিউমার্কেটে মানভেদে ৯২ থেকে ৯৫ টাকা। আর পাড়া-মহল্লার খুচরা দোকানগুলোতে ১’শ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। তবে দেশীয় পিঁয়াজের দর তুলনামূলক কম আছে। মানভেদে প্রতি কেজি দেশি পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭২ থেকে ৭৫ টাকায়।
দাম বাড়াটা শুরু হয়েছে গত আগস্ট থেকে। ভারতের মহারাষ্ট্রের নাসিকে অতিবৃষ্টির ফলে সেখানে এবার পিঁয়াজের উত্পাদন কম হয়েছে। এছাড়া রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশে খরার ফলে প্রায় ৪০ শতাংশ ফলন কম হয়েছে। এরই বিরূপ প্রভাবে ভারতেও পিঁয়াজের বাজার চড়া। এর প্রভাবে বাংলাদেশের বাজারে আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে দেশে পিঁয়াজের বাজার অস্থির হতে শুরু করে। মাঝে দাম একটু কমলেও আবার বাড়তে শুরু করেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দর। এখন তা স্বল্প আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
পিঁয়াজের দাম বাড়া নিয়ে শুরু থেকেই ব্যবসায়ীদের এক কথা, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ নেই। তাই দাম বাড়ছে। সরবরাহ নেই কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যবসায়ীরা বলেন, কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর তাদের হিসেবে জানায়, গত বছর দেশে প্রায় ১৯ লাখ টন পিঁয়াজ উত্পাদন হয়েছে। কিন্তু আমাদের কাছে যে তথ্য আছে সে হিসেবে, দেশে গড়ে প্রতি বছর ১৩ লাখ টন পিঁয়াজ উত্পাদন হয়। আর চাহিদার বাকি ৭ লাখ টন আমদানি করতে হয়। আমদানির সিংহভাগই হয় ভারত থেকে। এবার যেহেতু ভারতে পিঁয়াজের উত্পাদন ভালো হয়নি, দাম বেশি। ফলে দেশের বাজারে পিঁয়াজের এই সংকট তৈরি হয়েছে।
কাওরানবাজারের পাইকারী পিঁয়াজ ব্যবসায়ী আলতাফ গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ভারতে এখন যে দরে পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে তা আমদানি করলে দেশের বাজারে আরো বেশি দামে পিঁয়াজ বিক্রি করতে হবে। ভারত পিঁয়াজ রফতানির সর্বনিম্ন দাম টন প্রতি ৬৫০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করে দিয়েছে বলে তিনি জানান।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশে ব্যবসায়ী ও কৃষকদের কাছে দেশি পিঁয়াজের যে মজুদ ছিল তা এখন কমতির দিকে। তাই দাম বাড়ছে। নতুন পিঁয়াজ আগামী ঈদের আগে উঠবে না বলেও তিনি জানান।
শ্যামবাজারের পাইকারী পিঁয়াজ ব্যবসায়ী রাজ্জাক বলেন, মাঝে চীন থেকে পিঁয়াজ আমদানি করা হয়েছিল। কিন্তু মান ভালো না হওয়ায় আমদানিকারকরা সেখান থেকে পিঁয়াজ আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। তবে দেশের পিঁয়াজ উঠতে দেরি হলেও ভারতের নাসিক অঞ্চলের নতুন পিঁয়াজ আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে উঠবে। এ পিঁয়াজ চলে আসলে দাম কিছুটা হলেও কমবে।
পিঁয়াজের দাম বাড়তে থাকায় বাজার নিয়ন্ত্রণে গত ২৯ আগস্ট থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে পিঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছিল সরকারের এই বিপণন সংস্থাটি। কিন্তু পিঁয়াজ শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে টিসিবির বিক্রি বন্ধ রয়েছে। সংস্থাটির তথ্য কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানিয়েছে, আগামী সোমবার থেকে আবার টিসিবি খোলাবাজারে পিঁয়াজ বিক্রি শুরু করবে।
তবে এবার পিঁয়াজের দর বাড়ানো হয়েছে। আগে ৪৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হলেও এবার দর নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৫ টাকা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবার পিঁয়াজ বেশি দামে আমদানি হওয়ায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দর বেশি নির্ধারণ করেছে।