আবুল হাসান চৌধুরীকে নিয়ে দুদকের নয়া চিন্তা

পদ্ম সেতুর দুর্নীতির ষড়যন্ত্র মামলায় সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী কানাডার আদালতে অভিযুক্ত হওয়ার পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নড়েচড়ে উঠেছে। কিসের ভিত্তিতে তিনি সেখানে অভিযুক্ত হলেন তা জানতে আইনগত পদক্ষেপ নিচ্ছে দুদক। উল্লেখ্য, দুদকের দায়ের করা একই ধরনের মামলা তাকে অভিযুক্ত করা হয়নি। ইতিমধ্যে দুদকের অনুসন্ধান টিম পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে। তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। কানাডার সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর বাংলাদেশের আদালতে চার্জশিট পেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদকের তদন্ত টিম। এ ব্যাপারে দুদক কমিশনার (তদন্ত) মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বলেছেন, কানাডার আদালতের নথীপত্র সংগ্রহের চেষ্টা করছে দুদক। দেশিয় আদালতে গ্রহণযোগ্য তথ্য-প্রমাণ পেলেই এই মামলার চার্জশিটে সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান মোঃ বদিউজ্জামান বলেছেন, দুদকের দায়ের করা পদ্মা সেতুর দুর্নীতি মামলায় সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীর নাম রয়েছে। তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়নি। দুদকের তদন্ত টিম তার বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। দুর্নীতির সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেলেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উল্লেখ্য, কানাডিয়ান কোম্পানি এসএনসি লাভালিনকে পদ্মা সেতু প্রকল্পে পরামর্শকের কাজ পাইয়ে দেয়ার বিনিময়ে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে কানাডার আদালতে চলমান মামলায় গতকাল বুধবার আবুল হাসান চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে সে দেশের পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুদক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে দুদক কমিশনার (তদন্ত) মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, আমাদের মামলায় সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীকে ছাড় দেয়া হয়নি। মামলায় আসামির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার মতো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে তাকে অভিযুক্ত করা হয়নি। তবে তার সম্পর্কে যেসব তথ্য পাওয়া গেছে তা মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সে প্রেক্ষাপটে কমিশন মনে করেছে তার বিষয়টি আরো গভীরভাবে তদন্ত হওয়া দরকার। কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত টিম বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। তিনি আরো বলেন, তদন্তের সময় তার সম্পর্কে আদালতে আমলযোগ্য তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে চার্জশিটে আসামির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তাছাড়া দুদক লাভালিন কর্মকর্তা কেভিন ওয়ালেসকে মামলা দায়েরের সময় অভিযুক্ত করলেও কানাডিয়ান আদালত তেমনটি করেনি। কানাডার আদালত গত বুধবার কেভিন ওয়ালেসকে অভিযুক্ত করেছেন। সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে দুদকের মামলায় যথাযথভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। কানাডার আদালত তাকেও বেশ পরে অভিযুক্ত করলো। দুদক সূত্র জানায়, পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের দায়ে দুদক গত ১৭ ডিসেম্বর রাজধানীর বনানী থানায় সাতজনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করে। মামলায় আসামিরা হলেন সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কাজী মো. ফেরদৌস, সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রিয়াজ আহমেদ জাবের, ইপিসি’র উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মোস্তফা, কানাডীয় প্রকৌশলী প্রতিষ্ঠান এসএনসি লাভালিনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট কেভিন ওয়ালেস, আন্তর্জাতিক প্রকল্প বিভাগের সাবেক ভাইস-প্রেসিডেন্ট রমেশ সাহ এবং সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ ইসমাইল। এই মামলার এজাহারে আবুল হাসান চৌধুরীর ব্যাপারে বলা হয়েছে, তিনি প্রকল্পের পরামর্শকের কাজ পাইয়ে দেয়ার লক্ষ্যে লাভালিন কর্মকর্তা কেভিন ওয়ালেস, ইসমাইল হোসেন ও রমেশ শাহকে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের সঙ্গে পরিচয় ও যোগাযোগ করিয়ে দেন। দুদকের বিশেষ তদন্ত টিম গত প্রায় এক বছর ধরে মামলার অভিযোগ তদন্ত করছে। এর আগে কানাডার আদালতে মামলার শুনানি চলাকালে দুদক প্রতিনিধি দল কানাডা সফর করে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছে। কিন্তু সেখান থেকে কোন তথ্য বা দালিলিক প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারেনি। দুদক কমিশনার সাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, কানাডার আদালতে পরবর্তীতে শুনানিতে দুদক প্রতিনিধি দল অংশ নিয়ে তথ্য সংগ্রহের আরো চেষ্টা চালাবে। কানাডার সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর আদালতে চার্জশিট পেশ করবে দুদক। সে লক্ষ্যে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরির কাজ করা হচ্ছে। আবুল হাসান ও কেভিনকে আসামি করায় অর্থমন্ত্রীর সন্তোষ সিলেট অফিস পদ্মা সেতু দুর্নীতিতে সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসানকে সন্দেহভাজন ব্যক্তি উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল মুহিত বলেন, আবুল হাসান কানাডিয়ান পুলিশের তদন্তে অভিযুক্ত-এটা ভাল। কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের তদন্তে এসএনসি-লাভালিনের সাবেক কর্মকর্তা কেভিন ওয়ালসকেও আসামি করায় সন্তোষ প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী মুহিত। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার সিলেট থেকে ঢাকায় যাওয়ার প্রাক্কালে সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামের উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনকালে বেসরকারী এক টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাত্কারে এ সন্তোষ প্রকাশের কথা ব্যক্ত করেন। মন্ত্রী বলেন, কেভিনকে আরও আগেই আসামি করা উচিত ছিল।