দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালানোর ঘোষণা
প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৪৪
বকেয়া বেতনের দাবিতে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে গতকাল বৃহস্পতিবার তৃতীয় দিনের মতো অবরুদ্ধ করে রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। গত মঙ্গলবার থেকে চাকরি স্থায়ীকরণ ও বকেয়া বেতন পরিশোধসহ ৭ দফা দাবিতে উপাচার্যকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করে আন্দোলনকারীরা। গতকাল সকালে অনশনকারীদের মধ্যে ৩ শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
এদিকে ক্লাস আর পরীক্ষা বর্জন এবং প্রশাসনিক ভবন অবরুদ্ধ থাকায় কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম। ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনদিন ধরে ক্যাম্পাসে কোনো ক্লাস পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। বকেয়া বেতন পরিশোধ না করা পর্যন্ত উপাচার্যকে তার কার্যালয় থেকে বের হতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। গতকাল দফায় দফায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম নূর-উন-নবী আন্দোলনকারী শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বললেও বেতন-ভাতা দিতে রাজি হননি। শেষ পর্যন্ত তিনি ইউজিসির অনুমোদিত পদগুলোর বেতন দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চাইলে বাইরে অবস্থিত অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। সৃষ্ট সমস্যার সমাধান না হওয়ায় শিক্ষকরা তাদের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন।
গতকাল সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের আমরণ অনশন অব্যাহত থাকায় উপাচার্য তার কক্ষেই অবরুদ্ধ ছিলেন। ৩ দিন ধরে আমরণ অনশন করায় গতকাল অসুস্থ হয়ে পড়েন বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সালেহ মোঃ ওয়াদুদুর রহমান, পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আশরাফুল আলম এবং একাউন্টিং এ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস্ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহীনুর রহমান। ৩ দিন অবরুদ্ধ থাকায় শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন উপাচার্য নিজেও।
বিশ্ববিদ্যালয়সূত্র জানিয়েছে, ২১টি বিভাগসহ মোট দপ্তর অনুযায়ী বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলে অন্তত এক হাজার লোকবল প্রয়োজন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) মাত্র ২৬০টি পদের অনুমোদন দেয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদা অনুযায়ী সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল জলিল মিয়া অতিরিক্ত আরও ৩ শতাধিক বেশি লোকবল নিয়োগ দিয়ে গেছেন। তবে পরে ইউজিসি আরও ৭৬টি পদের অনুমোদন দিলে মোট অনুমোদিত পদের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৩৬। কিন্তু বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংখ্যা ৬৭১ জন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত মে মাসে নতুন উপাচার্য যোগদান করার পর থেকেই বাজেট স্বল্পতার কারণে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এমনকি গত ঈদ-উল ফিতরের বোনাস পর্যন্ত পাননি তারা। গত জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে বকেয়া বেতন-ভাতা প্রদানসহ ৭ দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছিল শিক্ষকদের সংগঠন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ।
আন্দোলনের কারণে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম। দীর্ঘদিন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা সমস্যার কারণে একাডেমিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়ে সেশনজটের কবলে পড়ায় হতাশায় ভুগছে শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনকারী শিক্ষকবৃন্দ জানান, বর্তমান উপাচার্য মে মাসে যোগদান করার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থ সংকট থাকলেও বর্তমানে কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদানের মতো যথেষ্ট টাকা আছে। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবরুদ্ধ উপাচার্য ড. এ কে এম নূর-উন-নবী বলেন, শিক্ষকদের দাবি যৌক্তিক, তবে আমি তাদের কাছে আর একটু সময় চেয়েছি। তিনি জানান, বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।