কপি পেলেই ‘ষাট সেল’ হয়ে যাবে কনডেম সেল
প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৪৪
শুধু ঘোষণায় হয়ে যাবে কনডেম সেল। যেখানে আছেন, সেখানেই থাকবেন আসামী। আপীল বিভাগের রায় ফাঁসির রায় দেয়া পরও আব্দুল কাদের মোল্লাকে রাখা হয়েছে কাশিমপুর কারাগার-২ এর সাধারণ সেলে। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাদের মোল্লাকে যে সেলে রাখা হয়েছে ঐ সেলকেই কনডেম সেল হিসাবে ঘোষণা করা হবে। এ জন্য আদালতের রায়ের কপি হাতে পৌঁছলেই ঐ সেলকে কনডেম সেল হিসাবে ঘোষণা করা হবে।
ঢাকা বিভাগের ডিআইজি (প্রিজন) গোলাম হায়দার বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কারাগারে আদালতের রায়ের কোন কপি পৌঁছেনি। এ কারণে আব্দুল কাদের মোল্লাকে যে সেলে রাখা হয়েছে সেটাকে কনডেম সেল ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। কপি পাওয়ার পরপরই কাদের মোল্লাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
কারাসূত্র জানায়, গত ৫ ফেব্রয়ারি কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এর আগে তিনি কারাগারের সুরমা ভবনে বিশেষ বন্দির মর্যাদায় ছিলেন। সেখানে তিনি টিভি ও পত্রিকা পেতেন। কিন্তু যাবজ্জীবন সাজার রায়ের পর তার সব সুবিধা বন্ধ হয়ে যায়। যাবজ্জীবন রায়ের পর কাশিমপুর কারাগার-২ এর ষাট সেলে রাখা হয়। এই ষাট সেলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেল। এই সেলে সবচেয়ে দুর্ধর্ষ ও দাগী সাজাপ্রাপ্ত আসামীকে রাখা হয়। সাজা হওয়ার পর সাধারণ কয়েদীদের মতো মালি হিসাবে কারাগারে কাজ করছেন। কাশিমপুর কেন্দ ীয় কারাগার-২ ইউনিটের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রায় শোনর পর কাদের মোল্লার জন্য ষাট সেলকে কনডেম সেল ঘোষণা দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। তবে আদালতের রায়ের কপি পাওয়ার পরই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
গত ৭ সেপ্টেম্বর কাদের মোল্লার স্ত্রী সানোয়ার জাহান, ছেলে হাসান মওদুদ, নাতি নাঈমা আক্তার, ভাতিজা নজরুল ইসলামসহ কয়েকজন কারাগারে তার সঙ্গে দেখা করেন। ফাঁসির রায় দেয়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কারাগারে কোন আত্মীয়-স্বজন তার সাথে দেখা করেননি বলে কারাসূত্র নিশ্চিত করেছে।
কারাসূত্র আরো জানায়, ষাট সেলের মধ্যে কাদের মোল্লাকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তাকে পর্যবেক্ষণ করার জন্য কারা কর্তৃপক্ষ আরো জোর দিয়েছে।