গল্প নয় সত্যি

মধ্যরাতের কুমির অতিথি!

ক্রিকেটের মাঠে বহুবারই নাকের জলে চোখের জলে ভাসিয়েছেন বোলারদের। আবার কখনও কখনও হয়তো নিজেই বোলার হয়ে পরীক্ষায় ফেলেছেন বাঘা বাঘা সব ব্যাটসম্যানদের। সবমিলিয়ে ফেলে আসা দিনগুলোতে অলরাউন্ডার গাই হুইটালের ক্যারিয়ার নেহাত মন্দ ছিল না। আর জিম্বাবুয়ের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার সুবাদে বহু দেশের বহু অতিথির সাথেও নিশ্চয়ই পরিচয় ছিল তার। কিন্তু তাই বলে বিকট দর্শন কোনো কুমিরের সঙ্গে রাত্রিবাসের অভিজ্ঞতা নিশ্চয়ই কখনোই তার ছিল না। এমনকি জেনে বুঝে আট ফুট দীর্ঘ আর প্রায় শ তিনেক পাউন্ড ওজনের কোনো কুমিরের সাথে সজ্ঞানে থাকতে চাইবার কথাও নয় হুইটালের। যদিও ভাগ্যে খেয়ালে সম্প্রতি এই বিচিত্র অভিজ্ঞতাও অর্জন করতে হয়েছে বহু অভিজ্ঞতার সাক্ষী হুইটালকে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, খেলা ছাড়ার পর থেকে পারিবারিক একটি লজ দেখাশোনা করেই সময় কাটাতেন হুইটাল। অধিকাংশ সময় থাকতেনও এখানেই। যেমনটা ছিলেন ঘটনার দিন। সেদিন সকালে আর দশটা দিনের মতোই ঘুম থেকে উঠে নাস্তার টেবিলে বসেছিলেন হুইটাল। এমন সময় বেডরুম থেকে গৃহকর্মীর চিত্কার শুনে সেখানে ছুটে যান হুইটাল। আর সেখানে গিয়ে তিনি যা আবিষ্কার করেন তাতেই শরীর হিম হয়ে যাবার দশা। প্রায় আট ঘণ্টা সময় নিয়ে তিনি যে বিছানায় শুয়ে ছিলেন, যেখান সকালে ঘুম থেকে উঠেও দিব্যি মাটিতে পা রেখে বসেছিলেন সেই নিচু বিছানাটার নিচেই কি না দিব্যি শুয়ে আছে ভয়ংকর দর্শন এক কুমির। প্রথমটাতে বিষয়টাকে অবিশ্বাস্য মনে হলেও খুব দ্রুতই বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে যায় হুইটালের কাছে। কুমিরটা যে মাইলখানেক দূরের টারগুয়ে নদী থেকে এসেছে সেটাও বুঝতে সমস্যা হয় না। এ সময় স্থানীয় প্রাণী নিয়ন্ত্রণ কর্মীদের খবর দিলে তারাই এসে বেঁধে নিয়ে যান বিনা আমন্ত্রণে হাজির হওয়া এই অতিথিকে। এদিকে এই ঘটনার পর টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে হুইটাল বলেন, ‘পুরো ঘটনার সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো সেদিন সকালেই ঘুম থেকে উঠে আমি বেশ কিছুক্ষণ খালি পায়ে বিছানার কিনারে বসেছিলাম এবং এ সময় কুমিরটা থেকে আমার দূরত্ব সম্ভবত কয়েক সেন্টিমিটারের বেশি ছিল না।’ সত্যিই এ যাত্রা বড় বাঁচাই বেঁচেছেন হুইটাল!