গুঁড়ো দুধ শিশুস্বাস্থ্যের জন্য
মারাত্মক হুমকি
প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৭:৩৪
মায়ের দুধের বিকল্প হিসেবে খাওয়ানো গুঁড়ো দুধ শিশুস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ। বাজারের এসব দুধ খাওয়ালে শিশুর ক্যান্সারসহ ১৫টি রোগ হতে পারে। গত ৭ সেপ্টেম্বর (শনিবার) সকালে রাজশাহীর সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত কর্মশালায় বক্তারা মা ও শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষায় সব ধরনের গুঁড়ো দুধ বর্জনের আহ্বান জানান। ইউনিসেফ ও বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশন যৌথভাবে সাংবাদিকদের নিয়ে ‘শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়াতে সচেতনতা সৃষ্টিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালায় জানানো হয়, ১৯৮৪ সালে মায়ের দুধের বিকল্প শিশু খাদ্য (বাজারজাতকরণ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ অনুযায়ী বিকল্প শিশু খাদ্যের প্রচারণা নিষিদ্ধ হলেও তা মানা হচ্ছে না। এ বিষয়ে সরকার নতুন আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে কর্মশালায় জানানো হয়। কর্মশালায় রাজশাহীর ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. আজিজুল ইসলাম, সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার শরিফা বেগম, বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনের মনিটরিং অফিসার পলাশ মজুমদার ও স্বপন কুমার মণ্ডল বক্তব্য রাখেন। এতে রাজশাহীতে কর্মরত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা অংশ নেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, একটি শিশু জন্মগ্রহণের পর ৩ দিন মায়ের বুকের শালদুধ খাওয়াতে হবে। কোনভাবেই শালদুধ নষ্ট করা উচিত নয়। কারণ, এই দুধ শিশুকে খাওয়ালে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ওই শিশুর মধ্যে তৈরি হয়। শালদুধ না খাইয়ে যদি গুঁড়ো দুধ খাওয়ানো হয় তাহলে ওইসব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং হূিপণ্ডের অসুখসহ ওইসব রোগ দেখা দেয়। এছাড়া শিশুর ৬ মাস বয়স পর্যন্ত মায়ের দুধের বিকল্প কোন দুধ ওই শিশুকে খাওয়ানোও উচিত নয়। ৬ মাস পর শিশুর পুষ্টি চাহিদার কারণে দেশীয় ফলমূলসহ পরিবারের নিত্যদিনের খাবার খাওয়াতে হবে। তাহলে স্বাভাবিকভাবে শিশুটি বেড়ে উঠবে। ৬ মাস পর্যন্ত মায়ের দুধ পান করালে ১৩ শতাংশ শিশুমৃত্যু হার কমে যায়। ২ বছর পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধ পান করানো যায়।
গতকাল দুুপুরে সিভিল সার্জনের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশন আয়োজিত মায়ের দুধের বিকল্প শিশুখাদ্যের বিপণন আইন বিষয়ক গণমাধ্যম কর্মীদের নিয়ে কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. নারায়ন চন্দ্র দের সভাপতিত্বে অয়োজিত কর্মশালায় জানানো হয়, ১৯৮৪ সালে মায়ের দুধের বিকল্প শিশুখাদ্যের বিপণন বিষয়ে সরকার একটি আইন প্রণয়ন করে এবং ১৯৯০ সালে এটি সংশোধন করা হয়। এই আইনের সঠিক বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা তা মনিটরিং করার জন্য ‘ব্রেস্টমিল্ক সাবস্টিটিউট কোড মনিটরিং সিস্টেম ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশন দেশের ৬৪টি জেলার ১২৮টি উপজেলায় কাজ শুরু করেছে।
কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিত্সক ডা. শফিকুল ইসলাম, জেলা বিএম’র সাধারণ সম্পাদক ডা. গোলাম রাব্বানী, সিভিল সার্জন অফিসের মেডিক্যাল অফিসার ডা. জিনাত আরা হক, বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনের মনিটরিং অফিসার পলাশ কুমার মজুমদার, স্বপন কুমার নন্দন প্রমুখ।
জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে গণমাধ্যম কর্মীসহ সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। এতে জেলায় কর্মরত ১৬ জন গণমাধ্যম কর্মী অংশগ্রহণ করেন।