এইচএসসি পরীক্ষার সমাজ বিজ্ঞান
প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৭:৫১
সমাজ বিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র
মোহাম্মদ হেদায়েত উল্যাহ, প্রভাষক
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, এনায়েতবাজার মহিলা কলেজ, চট্টগ্রাম।
সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর
উদ্দীপকটি মনোযোগ দিয়ে পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও-
আকলিমার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলার গুনদণ্ডী গ্রামে। এসএসসি পাশ করার পর এখন সে ঢাকায় এসে একটি প্রসিদ্ধ কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে ভর্তি হয় এবং মামার বাসায় থেকে পড়াশুনা করছে। তার গ্রামে তার বাবাসহ অধিকাংশ প্রতিবেশি চাষাবাদের সাথে জড়িত। কিন্তু এখানে তার মামাসহ আশ-পাশের মানুষরা অফিস-আদালত ও শিল্প-কারখানায় কাজ করছে। গ্রাম ও নগর জীবনের এ ভিন্নতা তাকে চিন্তার খোরাক যোগাল।
ক। বাংলাদেশের কত ভাগ লোক শহরে বাস করে?
খ। বাংলাদেশের মানুষ গ্রাম ছেড়ে শহরে স্থানান্তরিত হচ্ছে কেন?
গ। আকলিমা গ্রাম ও নগর জীবনের ভিন্নতার কোন দিকটি তুলে ধরেছে?
ঘ। উদ্দীপকে উল্লেখিত দিক ছাড়াও গ্রাম ও নগর জীবনে তুমি আর কী ধরণের পার্থক্য দেখতে পাও।
উত্তরঃ
ক। প্রায় ২৬ শতাংশ (২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী)।
খ। বাংলাদেশে নানা কারণে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ শহরে আসছে। গ্রামে কর্মসংস্থানের অভাব,দারিদ্র্য,নদী ভাঙ্গনসহ নানা সমস্যা থেকে বাঁচতে মানুষ শহরে আসছে। অন্যদিকে শহরের নানা সুযোগ-সুবিধা যেমন-শিক্ষা,চিকিত্সা চাকুরী,ব্যবসা-বাণিজ্য প্রভৃতি গ্রামের মানুষদের আকৃষ্ট করছে। একদিকে মানুষ বাধ্য হয়ে শহরে আসছে অন্যদিকে বেশি সুযোগ-সুবিধা পেতেও শহরে আসছে। দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে গ্রাম থেকে শহরে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে (পুস ফ্যাক্টর ও পুল ফ্যাক্টর ?) দুই ধরণের উপাদানই সমানভাবে কাজ করছে।
গ। আকলিমা গ্রাম ও নগর জীবনের পেশাগত ভিন্নতার চিত্রটি তুলে ধরেছে।
বাংলাদেশের গ্রাম সমাজে অর্থনৈতিক ভিত্তি হল ভূমি। ভূমিকে কেন্দ্র করে তাদের জীবন পরিচালিত হয়। গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ কৃষি কাজের সাথে জড়িত। কেউ নিজ জমিতে চাষাবাদ করে , কেউবা আবার অন্যের জমিতে কিংবা কৃষি দিনমজুর হিসেবে কাজ করে। অল্প সংখ্যক মানুষ স্থানীয় স্কুল,মাদ্রাসা, অফিস ও অন্যান্য অকৃষিজ পেশায় কাজ করে।অন্যদিকে নগরের অধিকাংশ মানুষ অকৃষিজ পেশায় কাজ করে। তারা বিভিন্ন কল-কারখানা,অফিস-আদালত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরীজীবী,কল-কারখনার শ্রমিক, ছোট-বড় ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ দেখা যায়। এখানে তেমন কোন কৃষিজীবী মানুষ দেখা যায় না। এখানে শ্রম বিভাজন ও পেশাগত বৈচিত্র্য লক্ষণীয়।
উদ্দীপকে আকলিমার গ্রামের মানুষরা কৃষি কাজ করলেও শহরে সে অকৃষিজ পেশার মানুষদেরই দেখতে পাচ্ছে।তাই বলা যায় আকলিমা গ্রাম ও নগর জীবনের পেশাগত ভিন্নতার বিষয়টিই তুলে ধরেছে।
ঘ। উদ্দীপকে উল্লেখিত দিক ছাড়াও গ্রাম ও নগরের মধ্যে আরও অনেক ভিন্নতা বিদ্যমান। পেশাগত ভিন্নতা ছাড়াও সামাজিক,অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় জীবনের নানা ভিন্নতা লক্ষণীয়।
গ্রামের মানুষ অর্থনৈতিক দিক থেকে নগরের মানুষের চাইতে কম সম্পদশালী। নগর সমাজের একটি অংশ উচ্চবিত্ত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। বাকি একটি অংশ মধ্যবিত্ত শ্রেণি। কিন্তু গ্রামে এ ধরণের মানুষের সংখ্যা খুবই কম। নগর জীবনে শিক্ষা,স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন দিকে যেমন সুযোগ-সুবিধা রয়েছে গ্রামীণ জীবনে তা নেই। নগর জীবন অনেকটা প্রযুক্তি নির্ভর ও উন্নত কিন্তু গ্রামে প্রযুক্তির ব্যবহার কম। প্রথাগত সম্পর্কই গ্রামীণ সমাজের ভিত্তি।কিন্তু নগর মানুষের মধ্যে মূলত যৌক্তিক সম্পর্ক বিদ্যমান। গ্রামে ঐতিহ্যবাহী যৌথ পরিবার দেখা গেলেও শহরে এ ধরণের পরিবারের পরিবর্তে অণু পরিবার দেখা যায়।
গ্রামের মানুষ নগরের মানুষের তুলনায় ধর্মপ্রাণ হয়ে থাকে। গ্রামীণ জীবনে ধর্মের প্রভাব অত্যধিক। কিন্তু নগর জীবনে এর প্রভাব কম। অন্যদিকে গ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করেই শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কিন্তু গ্রামে বিভিন্ন ধরণের ব্যক্তিমালিকানাধীন বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। গ্রামীণ ও নগর জীবনের ঘর-বাড়ি,আসবাব-পত্র, চিত্ত-বিনোদন প্রভৃতির মধ্যেও পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।
সার্বিকভাবে বললে গ্রাম ও নগর জীবনের মধ্যে নানা ধরণের ভিন্নতা বিদ্যমান।