তামাক পাতা জর্দ্দা থেকে
মুখের ঘা
প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৮:৪১
বিভাগীয় প্রধান, ডেন্টেষ্ট্রি বিভাগ
বারডেম, ইব্রাহীম মেডিকেল কলেজ
চেম্বার:১৫/এ গ্রীন স্কয়ার, গ্রীন রোড, ঢাকা
বিশেষতঃ যারা পানের সঙ্গে
জর্দ্দা খান এবং নিয়মিত অনেক
বার পান খান তাদের মুখের ঘা বেশী হয় এবং লক্ষ্য করা গেছে অনেকেই তামাক পাতাকে হাতের মধ্যে নিয়ে চুনের সঙ্গে মিশিয়ে গালের মধ্যবর্তী স্থানে রাখেন,
তাতে দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে ঐ স্থানে ঘা হতে পারে। শুধু ঘা নয় পরবর্তীতে এই ঘা ক্যান্সারেও রূপ নিতে পারে। শুধু বাংলাদেশেই নয় ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে যেখানে তামাক পাতা নেশার মত ব্যবহূত হয় সে সমস্ত অঞ্চলেও মুখের ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা অন্যান্য এলাকার চাইতে বেশী।
বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির তথ্যানুযায়ী এবং ডায়াবেটিস
সমিতির বারডেম হাসপাতালে ডেন্টাল বিভাগের দুইটি জরীপে দেখা যায় যে, যারা নিয়মিত ধূমপান করেন এবং তামাকপাতা, জর্দ্দা দিয়ে পান খান অথবা
তামাক পাতা গালের মধ্যে রেখে ব্যবহার করেন তাদের মধ্যে শতকরা ১০০ জনের মুখের
ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে যারা জর্দ্দা খান বা তামাক পাতা খান তাদের রিস্কফ্যাক্টর বা ঝুঁকি হতে পারে ৫০ ভাগ এবং
যারা ধূমপান করেন এবং সেই
সাথে তামাক পাতা ও পানের সঙ্গে ব্যবহার করেন তাদের ঝুঁকি
শতকরা ১০০ ভাগ। সুতরাং
যাদের মুখের ঘা রয়েছে এবং এই সমস্ত অভ্যাস ছাড়তে পেরেছেন তাদের মুখের ঘা থেকে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা শতকরা ১০০
ভাগ নিশ্চিতভাবে বন্ধ হয়ে
গেছে। তবে মনে রাখবেন যদি মুখের মধ্যে এই সমস্ত ঘা লক্ষ্য
করেন এবং চিকিত্সার পরও দু’সপ্তাহ থেকে তিন সপ্তাহ স্থায়ী
হয় তবে অবশ্যই বায়োপসি
অথবা মাংসের টিস্যু পরীক্ষা করে দেখতে হবে কারণ মুখের এই
সমস্ত অনেক ঘা বা সাদা ক্ষত গুলোকে বিজ্ঞানীরা বলে থাকেন
প্রি-ক্যান্সার লিশন বা ক্যান্সারের পূর্বাবস্থার ক্ষত। সংক্ষেপে বলতে হয় যাদের ডায়াবেটিস, হূদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, রিউমাটিক ডিজিজ
ও পরিপাকতন্ত্রের রোগ রয়েছে
এবং যারা দীর্ঘদিন নিয়মিতভাবে ওষুধ গ্রহণ করছেন, যারা কৃত্রিম দাঁত ব্যবহার করেন, যারা ধূমপান করেন বা তামাকপাতা বা জর্দ্দা
গুল ব্যবহার করেন তারা
অবশ্যই দাঁত ও মুখের যত্ন
নিবেন এবং এই সমস্ত ঘা
দেখা দেয়া মাত্রই চিকিত্সার
ব্যবস্থা নিবেন।
সবশেষে- যারা ধূমপান
করেন বা তামাকপাতা জর্দ্দা খান তাদের যেহেতু মুখের ক্যান্সার হওয়া সম্ভাবনা বা ঝুঁকি ১০০ ভাগ সেহেতু মুখের ঘা বা ক্যান্সার প্রতিরোধে আজই ধূমপান ও সেই সাথে তামাক পাতা বা জর্দ্দার ব্যবহার বন্ধ করা প্রয়োজন। সেই সাথে ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপ জাতীয় রোগগুলিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিত্সা ব্যবস্থা মেনে চলা প্রয়োজন। কারণ প্রতিকারের চাইতে প্রতিরোধই ক্যান্সার রোগ থেকে মুক্ত থাকবার একমাত্র উপায়।