শাহনাজের কণ্ঠে সুরের ঝর্ণাধারা
প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:০৪
বয়স এখনো ছাপ ফেলেনি তার গলায়। তার গলায় সুর এখনো ঝর্ণাধারার মত খেলা করে। জগতে সুমিষ্ট সুরেলা কণ্ঠের অধিকারী শাহনাজ রহমতউল্লাহ পঞ্চাশ বছর ধরে বাংলার মানুষকে তার জাদুকরী সুরে আবিষ্ট করে রেখেছেন। অভিমানী শিল্পী অনেকদিন গান করেন না। কিন্তু মানুষের হূদয়ে তার গান শোনার আকুতি রয়েই গেছে। গতকাল শুক্রবার হোটেল রেডিসনে সিটি ব্যাংক এনএ আয়োজিত শ্রোতার সেই দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা যেন পূরণ হলো। তার গানের সুরে ভাসলেন দর্শক-শ্রোতা।
শুক্রবার বিকালে সিটি ব্যাংক এনএ গুণীজন সংবর্ধনার আয়োজন করে। স্বনামধন্য শিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লাহকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। তার হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও তার পোর্ট্রেট তুলে দেন সিঙ্গার বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহবুব জামিল এবং সিটি ব্যাংক এনএ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিটি ব্যাংকের কান্ট্রি অফিসার রাশেদ মাকসুদ। এর আগে শাহনাজ রহমতুল্লাহ’র ওপরে আলোচনা করেন দেশের বিশিষ্ট গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার।
শাহনাজ রহমতউল্লাহ বলেন, শিল্পীর কাছে মানুষের ভালোবাসাই বড় প্রাপ্তি। সিটি ব্যাংক এনএকে ধন্যবাদ জানাই আমাকে এ সম্মাননা জানানোয়। গাজী মাজহারুল আনোয়ার বলেন, শিল্পী মানুষকে আনন্দ দেন, প্রেরণা দেন। সেই শিল্পীকেও জাতির সম্মান জানানো উচিত। বর্ষীয়ান শিল্পী যারা তাদের দূরে ঠেলে না দিয়ে তার শিল্পের স্বাক্ষর রাখার সুযোগ সৃষ্টি করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অনুষ্ঠানের শুরুতেই শিল্পী সামিনা চৌধুরী শাহনাজ রহমতুল্লাহর গাওয়া কয়েকটি গান গেয়ে শাহনাজ রহমতুল্লাহকে সম্মান জানান। সামিনা প্রথমে গাইলেন ‘তোমার আগুনে পোড়ানো এ দুটি চোখে একি তৃষ্ণা, একি ক্লান্তি, শুধু তুমি নাই বলে’, ‘সাগরের সৈকতে কে যেন দূর হতে আমারে ডেকে নিয়ে যায় আয়! আয়!! আয়!!!’, ‘খোলা জানালায় চেয়ে দেখি তুমি আসছো, জানাতে সুপ্রভাত’, ‘মানি সে তো মানিক নয়’, ‘কিছু কিছু মন আছে প্রতিদান চায় না’, ‘আরো কিছু দাও না দুঃখ আমায়’, ‘পারি না ভুলে যেতে, স্মৃতিরা মালা গেঁথে হারানো সেই পৃথিবীতে ডেকে নিয়ে যায়’ প্রভৃতি।
সামিনা চৌধুরীর পরে মঞ্চে আসেন শাহনাজ রহমতুল্লাহ। তিনি গেয়ে শোনান ‘একবার যেতে দে না’, ‘আমায় যদি প্রশ্ন করো’সহ তার জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্য থেকে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি।
১৯৬৩ সালে ‘নতুন সুর’ ছবির মাধ্যমে প্লেব্যাক শুরু করেন। সেই থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত নিয়মিত বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে গান গেয়েছেন। টেলিভিশনে গান পরিবেশন শুরু করেন ১৯৬৪ সাল থেকে। গীতিকার ও সুরকার খান আতাউর রহমানের ‘তোমার আগুনে পোড়ানো এ দুটি চোখে’ ছিল তার বেতারের হিট গান। শাহনাজ রহমতউল্লাহ’র ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার’, ‘একবার যেতে দে না’ ও ‘একতারা তুই দেশের কথা’ ৩টি দেশাত্মবোধক গান বিবিসি’র শ্রোতা জরিপে শ্রেষ্ঠ ২০টি গানের মধ্যে নির্বাচিত হয়েছে। সত্তরের দশকে অনেক উর্দু গীত ও গজল গেয়েছেন, যা তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।
তিনি প্রখ্যাত গজলশিল্পী মেহেদী হাসানের কাছে গজল শিখেছেন। তিনি ১৯৯২ সালে পেয়েছেন একুশে পদক। ১৯৯৩ সালে ‘ছুটির ফাঁদে’ চলচ্চিত্রের ‘সাগরের সৈকতে কে যেন’ গানটি গেয়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। প্রয়াত সুরকার আনোয়ার পারভেজ ও প্রয়াত চলচ্চিত্র অভিনেতা জাফর ইকবাল শিল্পীর ভাই। উল্লেখ্য, সিটি ব্যাংক এনএ এর আগে সোহরাব হোসেন, ফিরোজা বেগম, সনিজদা খাতুন, ফেরদৌসী রহমান, নিলুফার ইয়াসমিন, ফরিদা পারভীন, সাবিনা ইয়াসমিন ও রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, সুবীর নন্দীকে সংবর্ধনা দিয়েছে।