‘জাতীয় দল কমিটি এবং কোচিং স্টাফ ব্যর্থ’
প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:০৫
শুক্রবার ছুটির দিনেও সাফ ব্যর্থতা খুঁজতে তদন্ত কমিটি কাজ করেছে। শেখ রাসেলের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরি, দলের কোচ মারুফুল হক, মোহামেডানের কোচ সাইফুল বারী টিটুর মতামত গ্রহণ করেছে কমিটি। এরমধ্যে শেখ রাসেলের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরি বাফুফের জাতীয় দল কমিটি এবং কোচিং স্টাফকে দুষছেন। জাতীয় দল নিয়ে শেখ রাসেল সভাপতির পর্যবেক্ষণ ছিল বলে দেশের ফুটবলের কথা ভেবে তিনি নিজ উদ্যোগে তদন্ত কমিটির সাথে কথা বলতে এগিয়ে এসেছেন। কোনো রাকঢাক না করে পরিষ্কার ভাষায় ডাচ কোচদের ব্যাপারে বলে দিয়েছেন কোচিং স্টাফদের ব্যর্থতা ছিল। স্বজনপ্রীতি ছিল দল নির্বাচনে।
ডাচ কোচরা বলেছিলেন, তার ছেলেরা ১২০ মিনিট দৌড়াবেন মাঠে। কিন্তু জাতীয় দলের ফুটবলারদের ৬০ মিনিট ভালোভাবে দৌড়াতে দেখেননি তিনি।
বাফুফের সভা কক্ষে তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান বাদল রায়ের মুখোমুখি কথা বলে বেরিয়ে এসে নুরুল আলম চৌধুরি সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘কোচের পরিকল্পনায় ভুল ছিল। যারা জাতীয় দলের বেশির ভাগ ফুটবলার, ভালো কোচের অধীনে ছিলেন। তাদের ফিটনেস ভালো ছিল। তারপরও নতুন করে ফিটনেস নিয়ে কাজ করলেন। ঢেলে সাজাতে যাওয়াটা ঠিক করেননি কোচ।’ তিনি বলেছেন, সার্বিকভাবে জাতীয় দল কমিটি এবং তাদের কোচিং স্টাফ পুরোপুরি ফেইল করেছে। আট দলের মধ্যে সাত নম্বর হয়ে দেশে ফিরেছে ফুটবল দল।’ জাতীয় দল কমিটি কোচিং স্টাফকে উজ্জীবিত করতে পারেনি বলে জানিয়েছেন নুরুল আলম চৌধুরি।
কোচ নিয়োগের ব্যাপারেও এই কর্মকর্তা প্রশ্ন তুলেছেন। কোচ নিয়োগের ব্যাপারে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তথ্য জানা যায়। তাতে সিদ্ধান্তটাও নেয়া সহজ হবে কোন কোচের মান কেমন। এতে অর্থনৈতিক সাশ্রয় হতে পারে।
শেখ রাসেলের সভাপতি বলছেন খেলোয়াড় নির্বাচনে স্বজনপ্রীতি হয়েছে। তিনি তার দলের ডিফেন্ডার মামুন মিয়া সম্পর্কে বলেন, আমরা মামুন মিয়ার শতভাগ সার্ভিস পেয়েছি। সে চ্যালেঞ্জ কাপেও জাতীয় দলে ছিল। ভালোও খেলেছে। তারপরও কি কারণে তাকে ডাকা হলো না। বাদ দেয়া হয়েছে রেজাউল করিমকে।’ গোলকিপার বিপ্লব সম্পর্কে বলেছেন দলের নেপালের বিরুদ্ধে গোলকিপার মামুন খানের পজিশনের কারণে গোল হজম করতে হয়েছে। তারপরও দলে অভিজ্ঞ গোলকিপার বিপ্লবকে নামানোই হলো না। তাহলে বিপ্লবকে কেন দলে রাখা হলো-প্রশ্ন করেছেন ক্লাব সভাপতি। তার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে পারতেন কোচ। স্ট্রাইকার মিঠুন চৌধুরিকে দলে রাখা হলো। অথচ তাকে একটা ম্যাচেও নামানো হলো না।’ নুরুল আলম চৌধুরি মনে করছেন খেলোয়াড় সিলেকশনসহ এসব কিছুতে কোচরা প্রভাবিত হয়েছেন।’ কিন্তু বিদেশিদের কে প্রভাবিত করবে? শেখ রাসেলের সভাপতি বলছেন, আমরা তো শুধুই খেলাধুলা করি না। ছোট খাটো ব্যবসাও করতে হয়। সাদা চামড়ার লোকেরা খুব সহজেই প্রভাবিত হন। তা না হলে দল নির্বাচনে এতোটা স্বজনপ্রীতি হয় না।’
ফিটনেস নিয়ে শেখ রাসেলের সভাপতি যে কথা বলছিলেন তার উল্টোটা বলেছেন তারই দলের কোচ মারুফুল হক। তিনি প্রথমে বলেছেন সাফের সময় দেশে ছিলেন না। সংবাদ মাধ্যমে যতটুকু জেনেছেন তাতে মারুফুল হকের মনে হয়েছে ফিটনেস সমস্যার কারণে এই ব্যর্থতা। মারুফুল হকের কথার সাথে একমত মোহামেডান কোচ সাইফুল বারী টিটু। তিনিও ফিটনসে সমস্যার কথা বলেলও একটা বিষয় জোর দিয়ে বলে গেছেন, তা হলো ঘরোয়া লিগের খেলাগুলো আরো শক্তিশালি হওয়া দরকার।