জাফলংয়ে বন দখল করে পাথরের ডাম্পিং ইয়ার্ড
হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী, সিলেট অফিস
প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:১৬
সিলেটের উত্তর রেঞ্জের আওতাধীন জাফলং বন বিভাগের জায়গা দখল করে তৈরি করা হচ্ছে কয়লা ও পাথর রাখার অবৈধ ডাম্পিং ইয়ার্ড, স্থাপন করা হচ্ছে ক্রাশার মেশিন। পাশাপাশি সেই ভূমি থেকে উত্তোলন করা হচ্ছে পাথর। ফলে একদিকে যেমন প্রকৃতি কন্যা জাফলং হারাচ্ছে তার রূপ, অপরদিকে পরিবেশের ভারসাম্যও হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। এদিকে গত বৃহস্পতিবার ভোলাগঞ্জ কোয়ারির দখলের জের ধরে স্থানীয় দু’টি ক্রাশার মিলে হামলা, আগুন ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সূত্র জানায়, জাফলং বিটের সর্বমোট ভূমির পরিমাণ ৭ হাজার ৬শ’ ৫৫ একর। বন বিভাগের এই জায়গায় গাছপালা উজাড় করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা একের পর এক কয়লা ও পাথর রাখার জন্য ডাম্পিং ইয়ার্ড এবং ক্রাশার মেশিন স্থাপন করছে। খোদ জাফলং বনবিটের আশপাশের এলাকায় বন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নাকের ডগায় এই অবৈধ কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট অফিসের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর সায় থাকায় প্রভাবশালীমহল এসব অপকর্ম করতে সাহস পাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকার পাথর ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানিয়েছেন। বাপা সিলেটের সাধারণ সমপাদক আব্দুল করিম বলেন, বন বিভাগের অবহেলার কারণেই বনভূমি বেদখল ও উজাড় হচ্ছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) সিলেটের বিভাগীয় সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট শাহ সাহেদা আক্তার জানান, বন বিভাগের জায়গা থেকে ক্রাশার মেশিন উচ্ছেদ করে নির্দিষ্ট ক্রাশিং জোনে অপসারণ করার ব্যাপারে হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু সেটা মানা হচ্ছে না।
জাফলং বন বিভাগের ফরেস্টার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, অবৈধ ডামিপং ইয়ার্ড ও ক্রাশার মেশিন উচ্ছেদের বিষয়ে জেলা পর্যায়ে বৈঠক হয়েছে। অচিরেই অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে ।
এদিকে গত বৃহসপতিবার সন্ধ্যার দিকে ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারির ইজারাদারের দুইটি ক্রাশার মিল স্থানীয় এক যুবলীগ নেতার লোকজন পুড়িয়ে দিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ সময় ক্রাশার মিল দুটি থেকে পাথরও লুটপাট করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারির রয়্যালিটি ইজারাদার আবদুল আলীর লোকজনকে হটিয়ে গত মঙ্গলবার কোয়ারির দখল নেয় স্থানীয় যুবলীগ নেতাকর্মীরা। এনিয়ে বুধবার উভয়পক্ষে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের উপক্রম হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ইজারাদার আবদুল আলীর লোকজন কোয়ারির দখল নিতে জড়ো হলে স্থানীয় লোকজন তাদের নিবৃত্ত করেন। এ খবর পেয়ে সন্ধ্যায় যুবলীগ নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ইজারাদার আবদুল আলীর কোমপানীগঞ্জের পাড়ুয়াস্থ আনোয়ারা ক্রাশার মিল ও কলাবাড়িস্থ তার ভাই সোনা মিয়ার ক্রাশার মিলে মজুদকৃত পাথর লুট করে এবং মিলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে হামলাকারীরা তাদের ধাওয়া করে। ধাওয়া খেয়ে পুলিশ টুকেরবাজার ও লাছুখাল এলাকায় অবস্থান নেয়।
কোমপানীগঞ্জ থানার ওসি সালেহউদ্দিন আহমদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, থানায় পুলিশের সংখ্যা কম হওয়ায় তাদের প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি। এজন্য অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি তলব করা হয়েছে।