আমাদের মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়, কবর দেবেন পাশাপাশি...
প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৪৮
সম্পর্কে তারা বেয়াই-বেয়াইন। দু’জনে বিয়ে করলে কারো পরিবার মেনে নেবে না। বাবা-মা কষ্ট পাবে। তাই কারো মনে কষ্ট না দিয়ে পৃথিবী থেকে চিরতরে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার বাড়িপাড়া গ্রামের প্রেমিক যুগল রমজান আলী (২০) ও সুখী আক্তার (১৬)। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে একসাথে আত্মহত্যা করে তারা। বাড়ির পাশে গাছের একই ডালে পাশাপাশি গলায় শাড়ি পেঁচিয়ে ফাঁস লাগিয়ে পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেয় দু’জনে।
মৃত্যুর আগে একটি চিরকুটে রমজান ও সুখী লিখে যায়, ‘আমাদের মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। সবার কাছে আমাদের অনুরোধ, আমাদের দেহগুলো দয়া করে কাটতে দিবেন না। পাশাপাশিই আমাদের কবর দিবেন। সবাই আমাদের ক্ষমা করে দিবেন। আমরা একজন আরেকজনকে ছাড়া বাঁচতে পারব না তাই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলাম। বেঁচে থাকতে তো আর কেউ আমাদের এই সর্ম্পক মেনে নেবে না। তাই এই পথ বেছে নিলাম।’
বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের চৌধুরীহাট এলাকার বাড়িপাড়া গ্রামের হাজী মকবুল আহমদ সওদাগরের বাড়িতে। পুলিশ গতকাল সকালে ঝুলন্ত অবস্থায় তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করে।
প্রেমিকযুগল একই বাড়ির বাসিন্দা। প্রেমিক রমজান সৌদি আরব প্রবাসী হাজী সালেহ আহমদ এর ছেলে এবং প্রেমিকা সুখী আকতার একটি বেসরকারি নিরাপত্তা প্রহরীর কন্যা।
রমজান নোয়াপাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক ২য় বর্ষের ছাত্র। সুখী নোয়াপাড়া মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী।
স্থানীয়রা জানান, রমজানের বড় ভাই আজগর কয়েক বছর আগে প্রেম করে সুখীর বড় বোন লাকীকে পালিয়ে বিয়ে করে। এ বিয়ে সুখীর পরিবার আজও মেনে নেয়নি। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে এখনও তিক্ততা রয়ে গেছে।
এমন অবস্থায় সুখীর সাথে রমজানের প্রেম হলেও কারো মনে শান্তি ছিল না। প্রেমের পরিণতির কথা ভেবে দু’জনেই মাঝে মধ্যে হতাশায় ভুগতো। এই হতাশা থেকেই তারা আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয় বলে স্থানীয়রা জানান।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. এনামুল হক ইত্তেফাককে বলেন, নিহতদের উভয়ের পরিবারই এ যুগলের মৃত্যুকে প্রেমের কারণে আত্মহত্যা বলে দাবি করেছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয় করার জন্য লাশ চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের কারো পরিবারই এ ঘটনায় মামলা করতে রাজি না হওয়ায় থানায় শুধু অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে বলে জানান তিনি।